মুক্তকথা এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ ও আরো একটি রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি

০৩-০৫-২০২০, ১৮:২৪

সময় সংবাদ

fb tw
এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ ও আরো একটি রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি
রাজনৈতিক দল হিসেবে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা এবি পার্টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ বলছে এটা নতুন বোতলে পুরনো মদ। অন্যদিকে সরকার বিরোধীরা বলছেন, এটি আওয়ামী জাতীয়তাবাদী ইসলামী দল। 
সেহেরীর আগে এক বড় ভাইয়ের সাথে মেসেঞ্জারে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, এতোদিন জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলতাম। এখন জামাতের তুলনামূলক আধুনিক অংশটা সেই খাতায় নাম লেখাল। অর্থাৎ তারাও মুচলেকা দিয়ে সরকারের অনুগ্রহে রাজনীতি করার সুযোগ পেল।
মঞ্চে কোন দৃশ্যের পর কোন দৃশ্য মঞ্চস্থ হবে সেটা পরিচালক জানে। কারণ তিনি নিজেই নির্দেশনা দেন। তাই রাজনৈতিক নাটককে আমরা 'নাটক' বলি। রাজনীতি বলি না। একইভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি থেকে এবি পার্টি পর্যন্ত যা হচ্ছে তা অনেকের কাছে রাজনীতি মনে হলেও নির্দেশকের কাছে তা 'নাটক'। 
দর্শকের গ্যালারি থেকে হাততালি যতো বেশী পাওয়া যাবে নাটকের নির্দেশকের ততোই সফলতা। আমরা সাধারণ দর্শক। হাততালি দেব, উত্তেজিত হব, ক্ষেপে উঠব, যাত্রা দলের মেয়েটি যখন কোমর দুলিয়ে স্টেজ কাঁপাবে তখন পেছন থেকে শিস বাজাব। নাট্যকার তখন পরবর্তী নাটকের স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভাববেন।
অতীত ইতিহাসে যাওয়ার দরকার নেই, গত দশ বছরে বারবার প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবেলা করে। বঙ্গবন্ধু আন্দোলন দিয়ে দমন বা নির্যাতন মোকাবেলা করতেন। কিন্তু তার কন্যা রাজনীতি দিয়েই রাজনীতিকে মোকাবেলা করে আসছেন। কখনো তাকে মাথা গরম করতে দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বিচক্ষণতা নিয়ে অনেকে ভুল বোঝেন। এমনকি তিনি যখন কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেন বা হেফাজতে ইসলামের দেওয়া সংবর্ধনা সভায় হাজির হন তখন অতি বামরা তার গায়ে নানা ধরনের তকমা লাগানোর চেষ্টা করেন। তারা ভুলে যান, হাডুডু খেলার দৃশ্যের কথা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে নিজের ছকে আনার জন্য নিজেকে কিছুটা পিছু হটতেই হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে অতটুকু রিস্ক নেন বলেই আমরা দেখি সুলতান মনছুর মুজিব কোট গায়ে দিয়েই সংসদে যান। আমরা দেখি ড. কামাল হোসেন বা মাহমুদুর রহমান মান্না সাহেবরা প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। আমরা আরো দেখি মাহী বি চৌধুরী'র মতো সবসময় অতি স্মার্ট রাজনীতিকও ম্রিয়মান হয়ে সংসদে যান ও সরকারের পক্ষে কথা বলেন।
এবি পার্টিও অন্য অনেক রাজনৈতিক দলের মতো শুধু খাতায় নিবন্ধিতই হবে। যেভাবে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বা বিকল্পধারা হয়েছে। নতুন কোন চমক তারা দেখাতে পারবে এমনটি আশা করছেন না সাধারণ মানুষ।
সরকারের সফলতার জায়গাটি হলো, তুলনামূলক মেধাবী মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ কিছু নেতাকে হারিয়ে আরো ঘোলাটে পরিস্থিতির শিকার হলো জামাত। আপাতদৃষ্টে তাদেরকে আরো পিছু হটতে হবে। যদিও বা রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।
একটি রাজনৈতিক দল জন্মের আগেই নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়া বা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যাওয়া সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি। এখানেই হেরে গেল সদ্য জন্ম নেওয়া এবি পার্টি।
লেখক: আলী আদনান
সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop