মুক্তকথা সুখকর রাজনীতি

০২-০৫-২০২০, ১৬:২৮

মহানগর সময় ডেস্ক

fb tw
সুখকর রাজনীতি
জনসাধারণের মতে রাজনীতি স্থির নয়। অর্থাৎ রাজনীতি সর্বকুলে যায়। তাই সর্বজনের কাছে রাজনীতির অর্থ অনেক ভাবে প্রকাশ পায়। অনেকের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত নগ্ন ভাবে প্রকাশ পায়। খুবই তাচ্ছিল্যের সাথে মর্ম উপলব্ধি করে যে, বর্তমান অবস্থা জলপানির (পকেট খরচ) রাজনীতি। ফলে রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনুমান করার ক্ষমতা মানুষ হারিয়ে ফেলে।
অন্ধকারাচ্ছন্নতায় ভোগে, কারো মর্মভেদী অনুমান যদি সেই অন্ধকার ভেদ করে তাহলে তার শ্বাস, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। তার শ্বাসরন্ধ্র ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে প্রবল কামনাপূর্ণ বাক্যে আর ছেদ করে না।
একজন নিষ্ঠাবান ব্যাক্তি তার জায়গা থেকে রাজনীতিকে খুবই শোচনীয় মনে করেন এবং নিজের জায়গা থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন। বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠায়। শুধু ছাত্র‌ই নয়, যুব থেকে মূল দল পর্যন্ত তারা রাজনীতির একটা বড়সড় শক্তিকে ব্যক্তি স্বার্থে সর্বনাশা রূপে ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু সেই দলের রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠায় না।
আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের বেশিরভাগ আন্দোলনেই ছাত্র রাজনীতি ছিল অধিক প্রশংসনীয় কিন্তু মানুষ এতটাই উদ্বিগ্ন এই বিশাল শক্তিকে অপব্যবহার করছে বলে। রাজনীতি শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাই শৃঙ্খলের মধ্যে ব্যাপকভাবে যথাযোগ্য সময়ে গ্রহণ করা উচিত। অপরিণত রাজনীতির হাত থেকে বাঁচতে হলে নেতার নেতৃত্বে যথেষ্ট সক্ষমতা থাকতে হবে। বিদ্যমান অবস্থা থেকে নতুন কিছু খুঁজে বের করে দেওয়ার মত হিম্মত থাকতে হবে।
প্রত্যেক নেতার‌ই দেখা উচিত তার কর্মীদের মাধ্যমে মানুষ কতটা সম্মান সূচক প্রভাবিত হয় এবং রাজনীতির সঠিক অর্থ সম্পর্কে তাদের ধারণা কেমন? অনেক সময় তারা বুঝে না রাজনীতি কি? তারা বুঝে রাজনীতি করলে তারা কিনা করতে পারে! এবং খুব স্বল্প সময়ে তারা লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়। নেতার প্রতি ভালোবাসার অর্থটাও দ্রুত সময়ে বদলিয়ে নেয়। মিছিল সমাবেশ আর নেতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার জন্য নয়, তাদের অপকর্মের শক্তিকে আরও সঞ্চয় করার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেই।
মানুষের ভোগান্তি দিন দিন কমছে না। সাধারণ মানুষ এবং নেতার মাঝে সম্পর্ক থাকবে পানির মত কিন্তু বিদ্যমান রাজনীতির চিত্রটা ভিন্ন। সাধারণ মানুষ এবং নেতার মাঝে ভয়াবহ দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আবার নেতাদের কাছে যেতেও স্বচ্ছ বাহনের প্রচণ্ড অভাব পড়ে। নেতার সাথে দেখা হ‌ওয়ায় যেন অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতির প্রতি মানুষের অবজ্ঞা প্রকাশ পায় এবং রাজনীতি যে তাদের অধিকারের অংশ তা আর ভেবে দেখে না। 
অনেকের মতে রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সুস্থ ধারার রাজনীতি দৃশ্যমান করতে না পারলে নিষ্ঠাবান, জ্ঞানী ও সৎ চিন্তাশীল মানুষের রাজনীতিতে সংকট তৈরি হবে। অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাল খবর নয়। আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। কি পরিবর্তন করবেন আর কাকে পরিবর্তন করবেন এটাই যথেষ্ট নয়! আপনাকে বুঝতে হবে প্রেক্ষাপট কি ধরণের পরিবর্তন চায়। রাজনীতির নামে সঠিক রাজনীতি কতটা বিকৃতি হয়েছে তার পরিমাপ করতে হবে এবং এই সমস্যা গুলো থেকে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবো না, যতক্ষণ না এর সমাধান হ‌ওয়ার পথ গুলোকে খুঁজে বের করতে না পারি।
কাজ মানেই কষ্ট কিন্তু প্রত্যেকে তার কাজ থেকে নিখাদ স্বাদ গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে তা আর কষ্ট নয়। অর্থাৎ সর্ব অস্তিত্বেই সুখ,দুঃখ লেগেই থাকে কিন্তু স্বাদ হৃদয়ঙ্গম করার মাধ্যমটি ভিন্নতর। প্রতিবাদীরা সুখ পায় না কিন্তু তাদের মনের তৃপ্তি পৃথিবীর সকল সুখকে হার মানায়। রাজনীতির সুখ মানেই মানুষের প্রতি নিজেকে সোপর্দ করা বা মানুষের প্রতি নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। রাজনীতি হচ্ছে ঘরের বড় ভাইয়ের মত। বড় ভাই যেভাবে ঘরকে দেখে রাখে তেমনি রাজনীতি সমাজ, রাষ্ট্রকে পরিচালনা করে।তাই রাজনীতির ভাষা কখনো সংঘাতের হতে পারে না, রাজনীতির ভাষা হবে বিনয়ী ও সহিষ্ণু।
রাজনীতির সুখটা নির্জন বাসিদের সুখ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। রাজনীতিবিদদের মানুষের অধিকার নিয়ে মর্যাদার সাথে কথা তুলতে হবে। তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে হবে, রোদে শুকাতে হবে এবং মানুষের অস্থিরতার সাথে প্রচুর ঘামাতে হবে এটাই রাজনীতিবিদদের স্বর্গবাস। আবার সাধারণ মানুষের ঘাম এবং রাজনীতিবিদদের ঘামের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। সাধারণ মানুষের ঘামানোর সাথে তাদের কলিজাটাও ঘামায়, পাওয়া আর না পাওয়ার আশায় কিন্তু রাজনীতিবিদদের সুখের জায়গাটাই এমন।
একজন রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব সদা সত্য বলা এবং নিজের ক্ষমতার স্বার্থে মিথ্যা না বলা। কারণ দেশের পরিস্থিতি অনেকাংশে তাদের কথার উপর নির্ভর করে। একজন নেতা এবং সাধারণ মানুষের মাটির সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। মানুষ নাকাল! মানুষের ভোগান্তির অন্ত নেই। একজন ভাই তার আপন ভাইকে যেমন তার প্রতিবন্ধকতার কথাগুলো বলে ঠিক তেমনি একজন নেতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এমন সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ মানুষের অস্থিরতার সময় স্বাভাবিক থাকে না অর্থাৎ দেশের অস্থিতিশীল সময়ে সুখকর না থাকা।
কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্যতা এবং তাদের অধিকার গুলোতে স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ করা। তাদের নিরুৎসাহিত ও সীমাবদ্ধতার জায়গা গুলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। সমাজে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অধিকন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজের জবাবদিহিতা এব‌ং সমালোচনার জায়গাটাকে সর্বস্তরের সর্বসাধারণের মাঝে সর্ব অবস্থায় অবাধ করে রাখা।
সমাজের একেকটি মানুষ গণতন্ত্রের একেকটি উপাদান তাই তাদের বঞ্চিত করে সমাজ ব্যবস্থা সজ্জিত করা সম্ভব না। মেহনতি মানুষের ঘামের গন্ধ থেকে সুখ খুঁজে নিতে হবে। রাজনীতির নিখাদ শান্তি কখনো ভোগ বিলাস কিংবা নিজের থেকে নেওয়া যায় না অন্যের থেকে বের করে নিতে হয় এটাই রাজনীতির পরম শান্তি চরম সুখ তাই রাজনীতি সুখকর।
লেখক ঃ রওনক উদ্দিন সাকিব, শিক্ষার্থী 
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop