মুক্তকথা করোনা মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ

০১-০৫-২০২০, ০৯:০৫

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
করোনা মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ
পৃথিবী জুড়ে চলছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার ভয়। এ থেকে নিজেদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা। যেখানে কেউ কোনো শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ঘোষণা করা এক ধরনের যুদ্ধ প্রতিহত করতে কেউ ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসার আহবান পাচ্ছে না।
নির্দেশ পাচ্ছে কেবলই ঘরের ভিতর নিরাপদে থাকার। ইতিহাস ঘেটে যা মনে হয়েছে, প্রায় শতবর্ষ পরে প্রকৃতির নিয়মেই আসা এক মহামারী যেন এই কোভিড-১৯।
কথিত হলেও কেউ নিশ্চিত বলতে পারছে না কোভিড-১৯ আসলে কোনো গবেষণাগার থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে আসা ভাইরাস নাকি প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে পাপ দমনের জন্য সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতে আসা কোনো শাস্তি।
পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলো অদৃশ্য এই ভাইরাসের দাপটে আজ ধরাশায়ী। কেউ কিছু সঠিক করে বলতে না পারলেও বলছে শুধু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য, তবেই নাকি নিরাপদ।
সামজিক নিরাপত্তার কথা বলে পুরো পৃথিবীবাসীকে ভয় দেখিয়ে ঘরে বন্দী রেখেছে। এর মাধ্যমে মহামারীকে সফল করে তুলছে যেন ক্ষমতাসীনরা। এর শেষ আমরা তাৎক্ষণিক বলতে না পারলেও বুঝি, এই ভাইরাসের দাপট কমে গেলেও যে সাড়া পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ লাগার পুর্বাভাস এখন মানুষের চিন্তা জুড়ে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ চলছে কোনো সমীরণে?
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার শুরুর দিকে নানা ধরনের মিথ্যাচার এবং এই করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার বিষয়েও চলেছে নানা টালবাহানা। আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবিলার তেমন কোনো কিছুরই পর্যাপ্ততা ছিল না। তারপরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর বলে আসছিল, সব কিছুর প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। অনেকটা এমন ছিল যে, বলে আসা হচ্ছে ড্রামে অনেক কিছু মজুত রয়েছে কিন্তু প্রয়োজনে ঢাকনা খুলে দেখা গেল ভিতর শূন্য। কোনো কিছুই নেই ড্রামের ভিতর। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রচারণা অনেকটাই ছিল এমন।
যখন সংশ্লিষ্টরা দেখলো দেশে ক্রমেই করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তখন বাধ্য হয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হল সারা দেশে। লকডাউন শব্দটি উচ্চারণ করলো না সরকার। এ দেশে ‘ছুটি’ মানেই জনগণের কাছে যেন উৎসব। তাই মহানন্দে ছুটি ভোগ করতে তারা সমুদ্র সৈকত বা পর্যটন এলাকাগুলোয় গিয়ে ভিড় জমাতে থাকলো দল বেধে।
যে কোনোভাবেই হোক বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণকে সেখান থেকে ফেরানো গেলেও সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অনেকটাই শুরু করেছে তামাশা। সাধারণ ছুটি বা ‘লকডাইন’ কী এবং কেন এ বিষয়ে কতটা জন সচেতনতা জাগিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড দেখেই অনুমান করা যায়।
সম্প্রতি অল্প সময়ের নোটিশে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজ শুরু করার কথা ঘোষণা দিলে দূর দূরান্ত থেকে শ্রমিকরা কত যে কষ্টে ঢাকা এসে পৌঁছেছিল তা মিডিয়ায় চোখ রাখলে বোঝা যায়। তা আবার হঠাৎ করেই ঘোষণা পাল্টালে বিপদের পড়ে যায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা। নিরুপায় হয়ে তারা ফিরে যায় আবার নিজেদের ঘরে। মাঝ পথে কেউ কেউ আবার পুলিশের ডান্ডার বাড়িও খেয়েছে। দলে দলে ঢাকা শহরে এসে ভিড় করার এই অপরাধ কি বিন্দুমাত্র শ্রমিকদের ছিল?
সেই সময়ের কিছু ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তা দেখার সুযোগ হয়েছে। ওসব দেখে কষ্ট লেগেছে তাদের অসহায়ত্বের জন্য। তখন কি পারেনি ডান্ডা ওয়ালারা কিছুটা নমনীয় বা মানবিক হতে?
কে শুনবে কার কথা, সাধারণ জনগণ যে তাদের কাছে গিনিপিগ হয়ে আছে। করার বা বলার কোনো উপায় নেই। পৃথিবী জুড়ে যেখানে মহামারীর প্রাদুর্ভাব এখনও শেষ হয়ে যায়নি সেখানে বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি করুণা করবে, এমন আশা আমরা করি কিভাবে?
যেখানে ডাক্তার নার্সদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেখানে গার্মেন্টসের ভিতর হাজার হাজার শ্রমিকের নিরাপত্তা দিবে কি করে? করোনা ভাইরাস যেখানে ধনী-গরিব, নেতা-কর্মী বা ধর্ম বর্ণ বিচার না করেই আক্রান্ত করছে, সেখানে কোন ভরসায় তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে যোগদানের কথা বলা হয়েছে?
এদিকে শ্রমিকরা ঢাকা-গাজীপুর সহ বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টসগুলোয় এসে কাজে যোগদান করেছে। কিন্তু তাদের তো সংসার আছে। কাজে যোগদানের আহবান করার আগে তাদের দেনা-পাওনার হিসাবের বিষয় পরিষ্কার করা দরকার ছিল আগে। অথচ কোনো কিছুর মিমাংসা না করে শুধু কাজে যোগদানের কথা বলে তাদের দিয়ে যে ফায়দা নেবার কথা ভেবেছে তা শ্রমিক গোষ্ঠী সহজে মেনে নিতে পারে নি বলেই হয়তো গাজীপুরের বেশ কিছু ফ্যাক্টরিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করার মতো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।
অবাক হচ্ছি, যখন দেখছি গার্মেন্টস খোলা হচ্ছে অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে তখন। তার মানে কি ধরে নিতে পারি আমরা যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কেবল করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশী? অন্যদিকে গার্মেন্টস বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নেই?
বাস্তব চিত্র আসলে ভিন্ন। দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যতই বলা হচ্ছে সব নিয়ন্ত্রণে, দেশে লকডাউন দিয়ে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ সম্ভব, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে সরকারি ভান্ডারে বা অর্থ রয়েছে তহবিলে আসলে তার লক্ষণ কোনোভাবেই পরিষ্কার নয়।
পাশাপাশি, চাল চুরির ঘটনাও দেখছি। তাহলে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা, বোঝার কোনো উপায় নেই। একদিকে নির্বাচিত সদস্যদের চোখে পড়ছে না, চোখে পড়ছে বিভিন্ন সশন্ত্র বাহিনীর সদস্যদের। সব কিছুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে তারাই। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে মনে, দেশে আসলে আসলে হচ্ছে টা কি, কেউ একটু বলবেন কি? 
লেখক: পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক।
 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop