অন্যান্য সময় করোনায় সম্মুখযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান এসডোর

৩০-০৪-২০২০, ১৭:২৯

অন্যান্য সময় ডেস্ক

fb tw
করোনায় সম্মুখযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান এসডোর
চলতি বছর আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বব্যাপী নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগের মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখভাগের লড়ে যাওয়া কর্মজীবীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া সীমিত আকারে খুলে দেয়া পোশাক শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও শিল্প কারখানার মালিকেরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য নিরাপত্তার সস্পূর্ণ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রতিবছর শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে এবং তাদের সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে ১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের অনুসারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ইউনিয়ন এ দিনটিতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানে তারা বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের নিজ কর্মস্থলে অধিকার আদায় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি নেয়।
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোও শ্রমজীবী মানুষদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশে এই দিনে সব প্রতিষ্ঠানেই সরকারি ছুটি পালন করা হয়, এবং সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের আয়োজন করে থাকে।
এনভাইয়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশান (এসডো) বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষদের সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করে আসছে।
এ বছর কোভিড-১৯ মহামারির বাস্তবতায় জনসচেতনতামূলক আয়োজনগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যেন সবাই ঘরে বসেই এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে দুইটি পোস্টার এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সম্পর্কিত জনসচেতনতামূলক ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করেছে এসডো।
এ বছরের শুরুর দিনটি থেকেই কোভিড-১৯ মহামাবি মোকাবিলা বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে সমগ্র পৃথিবী, এবং গত কয়েক দশকের মাঝে সম্ভবত এইবারই প্রথম পৃথিবীর দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের কোনো মিছিল-সমাবেশ হবে না। বরং চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, জরুরি সরবরাহ কর্মী, পুলিশ, গাড়িচালকসহ আরো বেশ কিছু পেশার মানুষ এবার অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ধরে কাজ করে চলবেন কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়তে এবং অসংখ্য জীবন বাঁচাতে। খুব সম্প্রতি বাংলাদেশে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মাঠে কর্মরত পুলিশ ও সাংবাদিকরাও সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। আক্রান্ত এসব পেশাজীবীর মধ্যে বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
শুরু থেকেই দেশে যথেষ্ট সংখ্যক ও যথোপযুক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী বা পার্সোনাল প্রোটেকশান ইক্যুইপমেন্টের (পিপিই) মারাত্মক সংকট ছিল। সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা গেলেও সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব প্রকট। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত অন্যান্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এছাড়া নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এর মাঝেই পোশাক শিল্প কারখানাগুলো তাদের কার্যক্রম আবারও শুরু করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি ফিরে যাওয়া গার্মেন্টস কর্মীরা চাকরি হারানোর ভয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।
যদিও এসব কারখানার মালিকেরা কারখানার ভিতরে সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং কাজে যোগ না দিতে পারা শ্রমিকদের চাকরিচ্যূত করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সাধারণ কর্মীরা এ ব্যাপারে ভরসা পাচ্ছেন না।
দেশে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও তারা বিভিন্ন উপায়ে কর্মস্থলে ফিরে আসছেন, এবং যাত্রাপথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে উদাসীন থাকছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে নিশ্চিতভাবেই।
একইসঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের চারপাশে ও নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নিয়োজিত সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অনানুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করেন কয়েক লাখ মানুষ, চলমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে তারা গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত প্রায় ১৫ লাখ পরিচ্ছন্নতা কর্মী জীবিকা হারাচ্ছেন এই মহামারীর সময়ে।
আমাদের উৎপাদন করা বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাই করার কাজটা কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই তারা সবসময় করে চলেছেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথোপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না পেয়েই। এমনকি এই সময়ও তাদের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া অনেক পেশাজীবীদেরই যখন সরকারী প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে, তখন বাড়িতে খাবার না থাকার বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজে ফিরতেও বাধ্য হচ্ছেন এইসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকেও এই তথ্যসমূহ সবসময় পুনারাবৃত্তি করা হচ্ছে শুরু থেকেই।
কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে মানুষের মাঝে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্বশীলতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আমাদের সামনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার অভাব পুরো জাতিকে একটি মারাত্মক মহামারীর আশঙ্কার মুখে ফেলেছে। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন উপায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে জনসাধারণের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে জনস্বাস্থ্যের জন্য আরো বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: এসডো

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop