মুক্তকথা একটা কবিতার এত প্রাণশক্তি!

২৯-০৪-২০২০, ১০:৩৮

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
একটা কবিতার এত প্রাণশক্তি!
‘কবিতাটি আমার কলিজায় দাগ লেগেছে। আমি বুঝতে পারছি এটাই মানুষের প্রকৃত জীবন। বাস্তব জীবন সাহিত্য মানুষের রক্ত নিংড়ানো সাহিত্য, যে সাহিত্য লেখা হয়েছে গরিবের রক্ত দিয়ে। যিনি লিখেছেন এবং যিনি কণ্ঠ দিয়ে দিয়েছেন দু’জনকেই আমি একশো মার্কস দিতে চাই। আজীবন আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সারাজীবন যা স্কুল কলেজ থেকে শিখতে পারিনি, তা আমি এই কবিতা থেকে শিখেছি। আমার এখন বেঁচে থাকতে মন চাই এই কবিতার মাঝে। কবিতাটি শোনার পর থেকে আমার আর এই শহরে থাকতে মন চায় না। মন চাচ্ছে আবার আমি গ্রামে ফিরে গিয়ে কৃষকদের সাথে বসবাস করি।’
‘বাঙ্গিফাটা কপাল’ কবিতাটি শুনে উল্লিখিত অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের আলোকিত মুখ দাবার ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমানের বাবা শেখ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সত্যিই, একটা কবিতা মানুষকে এভাবে জাগিয়ে তুলতে পারে! কবিতার নাম ‘বাঙ্গিফাটা কপাল’।
গত ৪ এপ্রিল আকস্মিকভাবে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সকাল থেকেই মানুষ দেশের দূর দূরান্ত থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সারা দেশ লকডাউন। কোথাও কোনো গাড়ি চলছে না। এই অবস্থার ভিতর দিয়ে মানুষ শতশত মাইল পথ পায়ে হেঁটে, ভ্যান রিকশা যোগে, কখনও বা ট্রাকে চড়ে মাখামাখি করে ঢাকা এসে পৌঁছেছে। করোনার এই মহামারীতে যেখানে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য দেশে সেনাবাহিনী পর্যন্ত মোতায়ন করা হয়েছে। সেখানে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে দল বেঁধে ঢাকা এসেছে।
তারপর সন্ধ্যায় ঘোষণা দেওয়া হলো---গামেন্টস বন্ধ। খুলবে এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে। এদিকে যারা ঢাকায় এসেছে তাদের মধ্যে অনেককেই তাদের বাসায় ঢুকতে দেয়নি বাড়িওয়ালা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কবি অনিন্দ্য অমাত লেখেন কবিতা ‘বাঙ্গিফাটা কপাল’।
কবিতাটি আবৃত্তি করেন নাট্য নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক যোদ্ধা জহির রায়হান।
উল্লেখ্য দুজনেই একই ব্যক্তি। কবিতা, উপন্যাস লিখতে তিনি সুনির্দিষ্ট ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। তার অধিকাংশ কবিতায় নৈতিক বয়ান থাকে। 'বাঙ্গিফাটা কপাল' কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অনুভূতি চিত্রায়িত হয়েছে। ১১ এপ্রিল রাতে কবিতাটি আবৃত্তি শিল্পী মজুমদার বিপ্লব তাঁর টাইমলাইনে কবিতা পোস্ট করেন।
ব্যাস, ২৪ ঘণ্টা পেরোতেই কবিতাটি পৌঁছে যায় লাখ লাখ মানুষের হাতে। মাদারীপুরসহ কিছু কিছু শহরের হাট বাজারের দোকানে দোকানেও কবিতাটি বাজতে থাকে। কবিতাটি শোনার পর সাধারণ শ্রোতারা যেন নির্বাক হয়ে যায়। ফেসবুকের টাইম লাইনে অন্তত হাজার হাজার মানুষের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন। কবিতাটি শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
গল্প, উপন্যাস কিংবা সিনেমা দেখে আমরা সচরাচর কেঁদে থাকি। কিন্তু একটা কবিতা কীভাবে মানুষের চোখে পানি এনে দিতে পারে ? কী আছে এই কবিতার গল্পে, আর কী দরদমাখা কণ্ঠেই বা শিল্পী কবিতাটিকে আবৃত্তি করেছন, যা শুনে মানুষের অনুভূতিকে এভাবে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু গান কিংবা নানান ঘটনার খন্ডচিত্র ভাইরাল হতে দেখা গেছে। কিন্তু কোনো কবিতা কি কখনো এভাবে ভাইরাল হয়েছে। একটা কবিতার কী এত প্রাণশক্তি? যা মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়। নিজের অজান্তেই চোখে জল গড়িয়ে পড়ে...!
ফাহাদের বাবা হয়তো ঠিকই বলেছেন---সারা জীবন স্কুল কলেজ থেকে যা তিনি শিখতে পারেননি, তা তিনি একটি কবিতা থেকে শিখতে পেরেছেন। প্রকৃত সাহিত্য তো সেটাই, যা মানুষের ঘাম, রক্ত আর জীবন বাস্তবতা থেকে উৎসারিত হয়।
লেখক:
মলয় বালা, সহযোগী অধ্যাপক, প্রাচ্যকলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop