মুক্তকথা লকডাউনে ইতালিতে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতা

২২-০৪-২০২০, ১২:৫৭

মাকসুদ রহমান

fb tw
লকডাউনে ইতালিতে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতা
ইতালির আরেচ্ছো শহরের এক বাংলাদেশি বাবা তার ৫ বছরের শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে, নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি আট বছরের শিশু ছেলেকেও হত্যা করার চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় শিশুদের মা বাইরে বেরিয়েছিলেন সাংসারিক কেনাকাটা করতে।
অপর দিকে মিলানো শহরে এক বাংলাদেশি যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি গভীর রাতে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পার্ক করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতেন। কয়েক রাতে প্রায় ১৫টি গাড়িতে আগুন দেয়ার পরে পুলিশের হাতে তিনি আটক হন। 
এই ঘটনা দুটি প্রচন্ড আশঙ্কাজনক এবং আমাদের জন্য বার্তাবহ বলে মনে হচ্ছে। 
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লকডাউন ভীষন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহে ১৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছে । যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বাংলাদেশী এক নারী আত্নহত্যা করেছে। এর বাইরে হাজার হাজার হতাশাজনক ঘটনা ঘটছে। ইতালিতেও অনেক ঘটছে। করোনার বৈশ্বিক মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে এসব ঘটনা প্রকাশ হয়, কিন্তু গুরুত্ব পায় সামান্য। 
ইতালিতে এখন দুঃসময় চলছে। সংকট কাটেনি। দেশের তিন চতুর্থাংশ মানুষ এখনো ঘরবন্দি। এর মধ্যে প্রশাসন জানিয়েছে চুয়াত্তর শতাংশ পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে লকডাউনের কারণে। এই সংখ্যা বলে দেয় কর্মহীন সময় একসঙ্গে অতিবাহিত করা কতো কঠিন। 
পরিবারগুলো এমন খারাপ সময় কিভাবে সুন্দর পরিপাটিভাবে অতিক্রম করতে পারে এর কোন সঠিক দিক নির্দেশনা নেই কোথাও। কোন বই, ফিল্ম, গবেষণা, তথ্য কিছুই নেই বাজারে। এসব থাকার কথাও নয়, কারণ পৃথিবী কখনো এমন কঠিন সময় এক সঙ্গে পার করেনি। প্রয়োজন পড়েনি কোয়ারেন্টাইন বা লকডাউনে মাসের পর মাস পরিবারে এক সঙ্গে শান্তি নিয়ে বাসকরার কৌশল বা রীতি নীতি কি হবে তা নিয়ে কাজ করার। সমাজবিজ্ঞান বা হিউম্যান সাইকোলজির মতো  ক্ষেত্রগুলি বিশদভাবে নড়েচড়ে বসতে হবে করোনা পরিস্থিতি হতে উওরণের পর। তাহলে পাঁচ দিনের মধ্যে ইতালিতে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার উত্তর মিলবে। 
এই সপ্তাহে ইতালির সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই মুহুর্তে এমন দুটি গুরু অপরাধ কাজ যদি আমাদের কমিউনিটিকে প্রভাবিত করে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এসব ঘটনার সাথে পারিবারিক সহিংসতা, বিষন্নতা বা মানসিক অসুখের সম্পর্ক আছে কিনা তা বুঝে বা না বুঝে কিছু মানুষ এদের খুনি, ঘাতক, আগুনসন্ত্রাসী বলে লেখালেখি করছে। যাতে নিজেদের মতামত ও এসকল কাজের প্রতি ঘৃনা ফুটে উঠছে। এর মানে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এসব অপকর্ম কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই দুটি ঘটনা ইতালির পুলিশ তদন্ত করছে। এখনি সিদ্ধান্তমূলক এবং আমাদের কমিউনিটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা হয় এমন কিছু করা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত।                   
লেখক: ইতালি প্রতিনিধি, সময় টেলিভিশন
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop