অন্যান্য সময় তবে কি আরো ভয়ঙ্কর ভাইরাস আসছে?

২১-০৪-২০২০, ১৯:০৪

মামুন শেখ

fb tw
তবে কি আরো ভয়ঙ্কর ভাইরাস আসছে?
২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরো প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।
বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।
২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। সম্প্রতি বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ। ভয়ের কথা হলো, গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পৃথিবীতে টিকে থাকতে, কখনো আবার সম্পদ প্রাচুর্য কিংবা ভালো থাকার লোভে মানুষ প্রতিনিয়ত চুষে নিচ্ছে প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য ভাণ্ডার। পাহাড় কাটছে, বন উজাড় করছে, খনি থেকে কয়লা, তেল, গ্যাস তুলে তা পুড়িয়ে মারাত্মক বায়ু দূষণ করছে; বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা।
এই তো সেদিন পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন মানুষের লাগানো আগুনে পুড়েছে। আমাজনের সেই ক্ষত এখনো দগদগে। আর মানুষের ফুসফুস কুড়কুড়ে খাচ্ছে মরণঘাতি ভাইরাস- করোনা।
ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গবেষণা চলছে। এখন নিশ্চিতভাবেই তা আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছেন সেগুলো সুবিধাজনক পরিবেশ পেলে অর্থাৎ উষ্ণতা আরেকটু বাড়লে প্রকৃতিতে ছড়াতে শুরু করবে। এসব ভাইরাস মহামারী ছড়াতে সক্ষম।
ফ্রান্সের এআইএক্স মার্সেই ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল ক্ল্যাভেরিয়ে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা প্রথমবারের চেষ্টাতেই ত্রিশ হাজার বছরের পুরনো সুপারভাইরাসকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছি। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যামিবাকে সংক্রমিত করতে পেরেছে। কিন্তু পারমাফ্রস্টের মধ্যে আরো কি কি ধরনের জীবাণু লুকিয়ে আছে তা আসলে আমরা জানি না। এটা অনুমান করাও সম্ভব না।
দ্যা নিউ রিপাবলিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আর্কটিক অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ওই অঞ্চলে ট্রাফিকও বেড়েছে আগের চেয়ে বহুগুণ। নৌরুটগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ধুম চলছে। অথচ এই অঞ্চলের পারমাফ্রস্টে সুপ্ত অবস্থায় থাকা জীবাণুগুলো মানুষে এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য হতে পারে মারাত্মক।
শুধু অ্যানথ্রাক্সই নয়, মারাত্মক এবং অজানা সব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার জন্য আর্কটিক অঞ্চল অপরিচিত নয়। ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী, যার সঙ্গে অনেকেই বর্তমান করোনা ভাইরাসের তুলনা করছেন, তাতে মারা যাওয়া অনেকের দেহই আর্কটিকের পারমাফ্রাস্টের নিচে আছে। এছাড়া ১৯৮০ সালে সাইবেরিয়ায় ঔপনিবেশিকদের অনেকেই গুটি বসন্তে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের কবর দেয়া হয়েছিল কোলেমা নদীর তীরে, যা বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় আছে।
আর তাই বরফ গলতে থাকার এই প্রবণতায় ভাইরাসের ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খুলে যেতে পারে বরে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ড. জন মাইকেল ক্লাভেরিয়ে।
তিনি বলেন, পারমাফ্রস্ট রোগ জীবাণু এবং ভাইরাসের খুব ভালো আবাস। কারণ এটি ঠাণ্ডা, অন্ধকার এবং এখানে অক্সিজেন নেই।
শুধু তাই নয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা মানব সমাজ এবং প্রাণীজগৎকে কাছাকাছি নিয়ে আসছে। যা আরো ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে। সম্প্রতি ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় মহামারী বিশেষজ্ঞ, হাইফা ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রফেসর ম্যানফ্রেড গ্রিন টাইমস অব ইসরাইলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বহু জটিল এবং কঠিন রোগের কারণ মানুষ এবং প্রাণীকুলের কাছাকাছি আসা।
একদিকে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে উষ্ণতা। এ কারণেই মানুষ এবং বন্য পশুপাখি কাছাকাছি চলে আসছে।
ম্যানফ্রেড গ্রিন বলেন, দাবানল কিংবা উষ্ণতা বৃদ্ধির মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে প্রতিনিয়ত আবাসস্থল হারাচ্ছে অসংখ্য প্রাণী। বেঁচে থাকার তাগিদে বিশেষ করে খাবারের সন্ধানে তারা মানব সমাজের কাছাকাছি চলে আসছে।
তার মতে, এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে এবং দিনে দিনে আরো গতিশীল হবে। তিনি বলেন, মানুষ প্রাণীদের আবাসস্থলে ঢুকতে থাকবে বিশেষ করে বনাঞ্চলে। আর তাই মানব এবং প্রাণীর সংস্পর্শে আসার গতি বেগবান হবে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মহামারী নিয়ে একটি গবেষণা প্রোগ্রাম শুরু করে 'প্রেডিক্ট' নামে। এটির কাজ ছিল জুনটিক (যেসব ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়াতে পারে) ভাইরাস শনাক্ত করা যেগুলো মানব সমাজে মহামারী ঘটাতে সক্ষম এবং বিশ্বকে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলা।
এর গবেষকরা দেখেছেন, ২১ শতকের শুরুর দিকে যতগুলো নতুন ভাইরাস কিংবা নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া ভাইরাস তার ৭৫ শতাংশই অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে।
'প্রেডিক্ট' ১ হাজার ১০০টি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস আবিষ্কার করে। ৬০টি রোগ শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি তৈরি করে এবং ৩০টি দেশের ৬ হাজার ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামা প্রশাসন এই গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশটির ফেডারেল সরকার এটিকে চুপিসারে বন্ধ করে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা লাগাতারভাবে সতর্ক করে যাচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন, ভৌগলিক, সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেবে।
আর যদি তাই হয়, তবে এই প্রশ্ন তো তোলাই যায়, করোনা ভাইরাস কি এক ভয়ঙ্কর শুরুর ইঙ্গিত? আধুনিক এই মানব সভ্যতাই বা কতটা প্রস্তুত নিজেদের সৃষ্ট এই বিপদের জন্য?

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop