মুক্তকথা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃত্ব- হয় এখন, না হলে কখনোই নয়

১৫-০৪-২০২০, ১৭:৫৯

সময় সংবাদ

fb tw
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃত্ব- হয় এখন, না হলে কখনোই নয়
অতি সম্প্রতি চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবেলা, স্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধ ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সংহত করতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দ্রুত ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বের নেতাদের কাছে লেখা চিঠিতে এই আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আমরা কোভিড-১৯ কার্ভের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি, অহেতুক অনেক মৃত্যু ঘটছে, অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে এবং সমাজ এবং অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ নেতারা আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বয় করে কাজ করেছিলো। পূর্ববর্তী অন্যান্য জরুরী পরিস্থিতিতেও-যেমন সুনামি, গৃহযুদ্ধ বা মহামারী– বিভিন্ন দেশের জোটগুলো প্রয়োজনীয় সংস্থান সংগ্রহের জন্য দাতা সম্মেলন আহ্বান করেছে। আজ, আমাদের দুটোই প্রয়োজন: আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ের জন্য একটি জি- ২০ টাস্কফোর্স এবং সেই সহায়তা কার্যকর করার জন্য দাতাদের সম্মেলন।
এক দশক আগে অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে, বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মূলধনের ঘাটতির বিষয়টি সমাধান করার কারণে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। চলমান করোনো পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান ছাড়া অর্থনৈতিক সঙ্কট শেষ হবে না। কেবল কোনো একটি দেশে এই রোগের অবসান ঘটলেই স্বাস্থ্য সংকটও শেষ হবে না। এই সমস্যার অবসান তখনই হবে যখন সবগুলো দেশ কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি পাবে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
বর্তমানে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিশ্বের অভিজাত ও ধনী রাষ্ট্রগুলোসহ সব দেশই জটিল পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। কোভিড-১৯ যদি আফ্রিকা, এশিয়া, ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটা ক্রমাগত ধ্বংসাত্মক এবং অনিবার্যভাবে বিশ্বব্যাপী অন্যান্য সমস্যা বাড়িয়ে দিবে। কারণ এসব দেশে রোগ নির্ণয়ের উপকরণ খুবই স্বল্প, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত নয় এবং সামাজিক দূরত্বও মেনে চলা প্রায় অসম্ভব।
এই সংকট অবসানের একমাত্র উপায় হলো যত দ্রুত সম্ভব জনস্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোকে তহবিল প্রদান করা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা আমরা অনেক বছর ধরে এড়িয়ে গেছি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই আমাদের ও বৈশ্বিক এই দুর্যোগের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। তাই বিশ্বনেতাদের অতি দ্রুত ৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর মধ্যে ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে নেয়ার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। বাকী অর্থ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রতিষেধক আবিষ্কার, উৎপাদন ও বিতরণের কাজ সমন্বয় করার জন্য ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন’কে দিতে হবে। আমরা যদি এই মহামারির অবসান এবং ভবিষ্যৎ বিপর্যয় রোধ করতে চাই তাহলে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের উপর সকল দেশের ন্যায্য প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
এছাড়া ভেন্টিলেটর এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের (পিপিই) বৈশ্বিক প্রয়োজন মেটাতেও তহবিল সরবরাহ করতে হবে। প্রতিটি দেশ, রাজ্য বা প্রদেশ নিজেরা আলাদাভাবে এই সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করতে গেলে ব্যয়-মুদ্রাস্ফীতিজনিত প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তার চাইতে বৈশ্বিকভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদন ও ক্রয়ের জন্য অধিকতর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোর ব্যবস্থা করা উচিত। এবং প্রতিষেধক আবিষ্কারের পর গরিব দেশে সরকারের জন্য ‘গাভি-দ্যা ভ্যাকসিন এ্যালায়েন্স’এর মত বিদ্যমান সংস্থাগুলোতে পর্যাপ্ত তহবিল দিতে হবে।
কোভিড-১৯ নিয়ে লন্ডনের ইমপারিয়াল কলেজের করা সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক গবেষণাতেও দেখানো হয়েছে এর কারণে এশিয়ায় ৯ লাখ এবং আফ্রিকায় ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে এ সকল দেশে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, কর্মী নিয়োগ এবং জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য কমপক্ষে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। 
উপরন্তু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে কোভিড-১৯ নিয়ে কোনো জাতীয় প্রস্তুতি এবং ‘রেসপন্স প্ল্যান’ নাই এবং অর্ধেকের মত দেশে কেবল একটি জাতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। অনেক দেশেই পর্যাপ্ত খাবার পানি, স্যানিটেশন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যবিধির অভাব রয়েছে। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে আশঙ্কাজনক রোগীদের জন্য হাসপাতালের মোট শয্যার এক-সপ্তমাংশ নিবিড় পরিচর্যা শয্যা রয়েছে সেখানে গরীব দেশগুলোতে এগুলো অনেক কম এবং অনেক দেশে কিছুই নেই। 
ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো তাদের অর্থনীতিতে নিম্নমুখিতা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে, তারল্য সংকট যেনো ‘সলভেন্সি ক্রাইসিস’-এ রূপান্তর না হয় এবং আজকের বৈশ্বিক মন্দা যেনো আগামী দিনের হতাশায় পরিণত না হয় সেটা রোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে আরও সুসংহত রাজস্ব, আর্থিক এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
কিছু দেশ ইতোমধ্যে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে কিন্তু এটি আরো বেশী কার্যকর হবে যদি সবগুলো দেশই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পাশাপাশি আমাদের বেকারত্ব হার বৃদ্ধি রোধ করা দরকার (যা উদ্বেগজনকভাবে ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে)। ব্যাংকগুলোকে সরকারী ঋণের নিশ্চয়তা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানি ও তাদের কর্মীদের প্রয়োজনীয় নগদ সহায়তা দিতে হবে। 
দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন। আফ্রিকার বকেয়া ঋণের ৪৪ বিলিয়ন ডলারসহ এই বছর উন্নয়নশীল দেশের ঋণ পরিশোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়া উচিত। তবে বাস্তবতা হলো উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে রক্ষার জন্য কমপক্ষে আরো ১৫০ বিলিয়ন ডলার নতুন তহবিলের প্রয়োজন হবে। 
বিশ্ব ব্যাংক তার সর্বোচ্চ সীমায় দেশগুলোর প্রতি সহায়তা বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেটা হয়তো পর্যাপ্ত হবে না। ২০০৯ সালে মহামন্দার সময়ে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যয় ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই ধরনের পর্যাপ্ত সংস্থান এখন অনুমোদন দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও তার বিদ্যমান সকল সংস্থান বা রিসোর্স চলমান করবে বলে জানিয়েছে। আইএমএফকে এসডিআরে প্রায় ৫০০-৬০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া উচিত। 
সময় খুব কম। আদর্শগতভাবে, যত দ্রুত সম্ভব উপরের বিষয়গুলোর ব্যাপারে একমত হওয়া উচিত। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক উন্নয়ন কমিটির ১৭-১৯ এপ্রিলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত। করোনা ও ভবিষ্যৎ আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলায় বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান কৌশলগুলোর মধ্যে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে। যদিও এগুলো অনেক টাকার ব্যাপার কিন্তু এটা না করার পরিণতিগুলি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
বি.দ্র. মূল লেখাটি প্রজেক্টে-সিন্ডিকেট প্রকাশিত। মূল লেখক: গর্ডন ব্রাউন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী; এরিক বার্গলফ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের ইনিস্টিটিউট অব গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স এর পরিচালক; জেরেমি ফার্রার, ওয়েলকাম ট্রাস্টের পরিচালক।
অনুবাদক: মো. শহিদুল ইসলাম; গবেষক ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার–গবেষণা ও পলিসি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop