মুক্তকথা করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল এবং বিশ্ব রাজনীতি

০৭-০৪-২০২০, ১৬:২২

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল এবং বিশ্ব রাজনীতি
একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে- নচিকেতার স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হবে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। করোনার ঝড় হয়তো একদিন থামবে ঠিক, কিন্তু পৃথিবী শান্ত হবে কিনা তা বলা মুশকিল। করোনা প্রকোপ পরবর্তীতে সারা বিশ্বে খাদ্য ঘাটতির পাশাপাশি শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে যা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই বিষয়টি তুলে ধরতেই আজকের এ লেখা। কোভিড-১৯ এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম। চীনের উহান থেকে জন্ম নেয়া এই ভাইরাস এখন পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
চীন ছাড়াও ইতালি, ইরান, স্পেনসহ ইউরোপের একাধিক দেশ করোনায় আক্রান্ত হয়ে জনজীবন একরকম বিধ্বস্ত। ইতিমধ্যে অনেক দেশ তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লকডাউন করে দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তথাপি এ রোগের উৎস নিয়ে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে নানা তর্ক বিতর্ক চলছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে কোন এক অজানা কারণে মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যাচ্ছে দেখে একদল গবেষক এর উৎস খুঁজতে লাগলেন। হাসপাতালে ভর্তিকৃত প্রথম ৪১ জন রোগীর নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করে তারা এটাকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বলে চিহ্নিত করলেন যা সার্স ভাইরাসের মিউটেড জিন (SARS-COV-2)। তারা উহানে অবস্থিত হুনান সামুদ্রিক খাবার মার্কেটে (প্রধানত সামুদ্রিক মাছ ও বন্য প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হয়) বিক্রিত বন্যপ্রাণী প্যাঙ্গোলিন মাংসকে মধ্যবর্তী এবং বাদুড়ের মাংসকে সংক্রমনের প্রাথমিক উৎস বলে ধারণা করেন। কারণ তাদের পরীক্ষিত নমুনার দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ওই মার্কেট থেকে খাদ্য সংগ্রহের রেকর্ড পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গবেষকদল উক্ত মার্কেট থেকে ৫৮৫ টি পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে ৩৩টি নমুনায় COVID-19 এর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন যার মধ্যে ৩১ টি নমুনা মার্কেটের বন্য প্রাণীর মাংস বিক্রয় অঞ্চল থেকে সংগৃহীত। ইতিমধ্যে গবেষক দল উহানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। তিনি হুনান মার্কেটে চিংড়ি বিক্রি করতেন।
তাই তারা ধারণা করেন, উক্ত মার্কেট এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী থেকে ভাইরাসটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। তবে চীনে কিভাবে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হলো সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। সারাবিশ্বে এই করোনাভাইরাস এর উৎস স্থল নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্কের ঝড়। জিন এর পরিবর্তে নভেল করোনাভাইরাস একটি ভয়ঙ্কর রাসায়নিক মারণাস্ত্র বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
কানাডার ল্যাবরেটরি থেকে এক চাইনিজ গবেষক ভাইরাস চুরি করে উহানে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এর বায়োসেফটি ল্যাবরেটরি লেভেল-৪ এ সংগ্রহ করেন এবং জিনের বদল ঘটিয়ে নভেল করোনাভাইরাস তৈরি করেছেন যা অত্যন্ত প্রাণঘাতী এবং সাধারণ করোনা থেকে অধিক আক্রমণ ক্ষমতা সম্পন্ন। আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করছিলেন মার্কিন আইনজীবী রাসায়নিক অস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. ফ্রান্সিস বয়েল। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েস কলেজের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম শীর্ষ সদস্য। তার উদ্যোগেই আমেরিকায় ১৯৮৯ সালে বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস এন্টি-টেরোরিজম অ্যাক্ট এর বিল পাস হয়।
ইসরাইলি গোয়েন্দা ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ফ্রান্সিস বয়েলের আশঙ্কা উহানের বায়োসেফটি লেভেল ৪ ল্যাবরেটরীতে অতি গোপনে জৈব-রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং সেখান থেকেই সারাবিশ্বে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। হুনান সামুদ্রিক খাবার মার্কেটের ব্যাপারটা নিছক চোখে ধুলো দেয়ার অপচেষ্টা মাত্র। অথবা ওই গবেষণাগারের জেনেটিক্যালি মডিফাইড মাইক্রোবস যে কোন উপায় কন্টামিনেশন এর ফলে এই বিপদ ঘটেছে।
ফ্রান্সিস বয়েলের মন্তব্যের পূর্বেই ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি লোহায় করোনা ভাইরাসকে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে বলে জোরালো দাবি জানান। তিনি চীনের জীবাণু যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তিনি বলেন, উক্ত ইনষ্টিটিউট বায়োসেফটি ল্যাবরেটরী লেভেল ৪ এ চীনের নতুন নতুন জীবাণু মত অস্ত্র তৈরি এবং এসব অস্ত্র নিয়ে গোপনে গবেষণা করছে। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরে যেখান থেকে ভুল করে ভাইরাসটি বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। চীন এ জীবাণু অস্ত্র তৈরি করেছে বিশ্ববাণিজ্য দখলে নিতে ও বিশ্বজুড়ে নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে। এ অভিযোগ শুধু ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমনটাই বিশ্বাস করেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন করোনাভাইরাস চীনের সৃষ্টি, এজন্য তারাই দায়ী।
ইতিমধ্যে মার্কিন আইনজীবী ল্যারি ক্লেমন গত ২৪ মার্চ ইউএস জেলা আদালতে চীনের বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাস তৈরি এবং জীবাণু অস্ত্র হিসাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২০ লাখ কোটি মার্কিন ডলার মামলা দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই নভেল করোনাভাইরাস চীন জীবাণু অস্ত্র হিসেবে তৈরি করেছে এবং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক, যেহেতু চীন জীবাণু অস্ত্র অবৈধ করার চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে, সেহেতু চীন মার্কিন আইন, আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি এবং নীতি লঙ্ঘন করেছে। এ ধরনের কার্যক্রম গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারের রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ হতে পারে না। অভযোগে আরও বলা হয় যে, পরীক্ষাগারের মধ্যে এ ধরণের প্রাণহানি কর ভাইরাস বজায় রাখার উদ্দেশ্য মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য ব্যক্তি এবং চীনের শত্রু বলে মনে করা দেশগুলির জাতিসত্ত্বাকে হত্যা করা।
তবে চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে এই কথা প্রচার হওয়ার কিছুদিন পর পাল্টা জবাব দেয় চীন। এবার অভিযোগ আনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, চীনকে বিপাকে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে। একজন চীনা কূটনীতিক তার টুইটার একাউন্টে এক পোস্টে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, উহানে গত বছর অক্টোবর মাসে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল অংশ নিতে এসে এই ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। তবে দেশটির একাধিক বিজ্ঞানীর দাবি, করোনাভাইরাসের মহামারী চীনে শুরু হলেও এর উৎপত্তি চীনে হয়নি।
শুধু চীন নয়, ইরানের সরকারি প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে দেশটির সাধারণ মানুষ পর্যন্ত দাবি করছেন, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। গত ৫ মার্চ ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি জীবাণু অস্ত্র। তিনি আরো বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে চীনে এবং পরে ইরানের বিরুদ্ধে জীবাণু অস্ত্রের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল যেখানেই হোক না কেন, এটা যে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এজন্য চীনকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রথম অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত দ্যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন এ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তিনজন বিখ্যাত গবেষকের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, এই ভাইরাস চীনের উহানের স্থানীয় পশুর মার্কেট থেকে ছড়িয়ে পড়েছে, এখন পর্যন্ত এটাই প্রমাণিত। আর একদল বিজ্ঞানী মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট-এ একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, জীবজন্তুর শরীর থেকেই এই করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব শুধুই ভয়, গুজব ও ঘৃণা ছড়াবে, যাতে এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাহত হবে। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাসের যে জীবন রহস্য অথবা জিন রহস্য তা পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে, এটি গবেষণাগারে তৈরি কোন ভাইরাস নয়। আর এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার অনির্ভরশীল সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
এবারে দেখা যাক করোনাভাইরাস কিভাবে চীন থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাস এর প্রথম সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্বিতীয় ধাপে, ২০ জানুয়ারি একজন মার্কিন নাগরিক চীনের উহান থেকে ফেরত গেলে তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তৃতীয় ধাপে, গত ৩১ জানুয়ারি দুইজন চীনা পর্যটক ইতালির রোম পরিদর্শনে গিয়ে সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হলে তারা হাসপাতালে যান এবং করোনা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত হন। গত ১ ফেব্রুয়ারি জার্মানীতে একজন চীনা এবং একজন ইতালি পর্যটক পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে করোনা ধরা পড়ে।
একই সময়ে, স্পেন ইতালি ও জার্মানির পর্যটক দ্বারা সংক্রমিত হয়। এভাবে মোটামুটি গোটা ইউরোপ ইতালি থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তবে চীন থেকে একজন ইরানি ফেরত গেলে ইরান সংক্রমিত হয় যা পরবর্তীতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংক্রমণের উৎস স্থল বলে চিহ্নিত হয়। পরের ধাপে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো ইউরোপ প্রধানত ইতালি ফ্রান্স ও স্পেন থেকে সংক্রমিত হয়েছে। তবে এশিয়ার অধিকাংশ দেশ চীন থেকে সংক্রমিত হয়েছে যদিও বাংলাদেশ ইতালি প্রবাসী দ্বারা সংক্রমিত। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সরাসরি চীন দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে যা পরবর্তীতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে একটা বিষয় বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে করোনা ভাইরাস এর উৎস নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি পুরনো শত্রুতারই অংশ। চীন ও ইরান সম্মিলিত ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। অপরপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চীনই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি পরবর্তীতে, যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী মাইকেল গভ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, চীনে আক্রান্ত আগে হলেও তারা ভাইরাসের ব্যাপ্তি, প্রকৃতি এবং সংক্রমণ সম্পর্কিত তথ্য পুরোপুরি অবমুক্ত না করে গোপন করার চেষ্টা করেছে যা অন্য দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোটকথা-করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত-চীন পক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ যারা পারমাণবিক অস্ত্রে শক্তিধর, অথচ বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরনের লক্ষ্যে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। আসলেই পৃথিবীতে আজ মানবতা বিপন্ন। চীন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ যে সকল দেশসমূহ ভয়াবহরূপে করোনা আক্রান্ত সেসকল দেশগুলোর বার্ষিক বাজেট লক্ষ্য করলে দেখা যায় তাদের সর্বোচ্চ বরাদ্দ সামরিক খাতে, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা ও গবেষণা খাতে নয়। আজ তারা নিরুপায়। চোখের সামনে হাজার হাজার মানুষ মরে যাচ্ছে কিন্তু কিছু করার নেই, প্রতিষেধক নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই মহামারী খুব শীঘ্রই থামছে না। প্রতিষেধক পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে আছে, বাজারে আসতে এখনো বছর খানেক সময় লাগবে।
কিন্তু ইতিমধ্যে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হবে আরো হাজারে হাজার। তাই দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চারটি পরামর্শের প্রথমটি হলো-স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল এবং বাজেট বাড়াতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো-বর্তমান বিশ্ব তাদের বার্ষিক বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে দিবে কি? অথচ মানবসম্পদ উন্নয়ন বলতে প্রধানত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নকেই বোঝায়। যেখানে আমরা পৃথিবী নামক গ্রহকে আজও মানুষের জন্য বসবাস যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারেনি, সেখানে এই পৃথিবীর মানুষই কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে ভিন্ন গ্রহ আবিষ্কারের নেশায়। তবুও আমরা আশায় থাকি হয়তো কোন একদিন মানবতার জয় হবে। আজ করোনাভাইরাস এর ভয়াবহ সংক্রমণে সারা বিশ্ব আতঙ্কিত। এটাই হয়তো মানুষের বিবেক জাগিয়ে তুলবে, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা রহিত করে মনুষ্যত্ব শেখাবে, প্রাধান্য পাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত।
লেখক: লিটন চন্দ্র সেন, সহযোগী অধ্যাপক, কমিউনিটি হেলথ এন্ড হাইজিন বিভাগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop