বাংলার সময় মোংলায় কর্মহীন শ্রমিকরা, দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে

০৩-০৪-২০২০, ২১:৩১

মাহমুদ হাসান

fb tw
মোংলায় কর্মহীন শ্রমিকরা, দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন নির্গমের সংখ্যা কমে গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মচারী প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজের অভাবে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করলেও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাদেরকে কোন সহায়তা দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 
অপরদিকে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার প্রাথমিক কোন উপকরণও দেয়া হচ্ছে না যারা কাজ করছেন তাদের। 
জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে কিছু সহযোগিতা শ্রমিক কর্মচারীরা পেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
বন্দরের হারবার ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের আগে এখানে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ভিত্তিতে জাহাজ ও জেটি থেকে পণ্য খালাসের কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। 
ওই সময় মোংলা বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৫/১৬টি জাহাজের অবস্থান থাকতো। সেই সাথে বন্দর জেটিতেও কিছু পণ্য ওঠানামা করতো। কিন্তু সাম্প্রতিককালে করোনার কারণে এ বন্দরে এখন গড়ে প্রতিদিন ১০/১১টি জাহাজ আসছে। পাশাপাশি কমে গেছে বন্দর জেটির অভ্যন্তরের কাজ। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক শ্রমিক।
মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক একেএম সাহাব উদ্দিন জানান, জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিক কর্মচারীর কাজ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় অনেকটা কর্মহীন থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে কোনমতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 
উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, নৌ বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু ত্রাণ ও সহযোগিতা শ্রমিকদের দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আইন অনুযায়ী জাহাজ ও জেটিতে পণ্য ওঠানামায় জড়িত শ্রমিক কর্মচারীদের মূল মালিক মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সু কৌশলে শ্রমিকদের মালিকানা স্টিভিডোরসের (ঠিকাদার) ওপর চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছেন বলে দাবি তার।
তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের উন্নয়ন বাবদ বিভিন্ন খাত থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রম কল্যাণ তহবিলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও করোনা প্রাদুর্ভাবের এ দুর্যোগকালীন সময়ে বন্দরের এসব শ্রমিক কর্মচারীদের কোন সহায়তায় এগিয়ে আসেননি। এ ছাড়া যেসব শ্রমিক বর্তমানে জাহাজ ও জেটিতে কাজ করছেন তাদেরকেও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সু রক্ষার প্রাথমিক উপকরণও দেয়া হয়নি। 
প্রায় কর্মহীন হয়ে থাকা এসব শ্রমিক কর্মচারীরা বিকল্প কোন কাজ না জানায় অন্য কোথায় গিয়েও কাজ করতে পারছে না। ফলে শ্রমিকরা এক প্রকার করোনার ঝুঁকি নিয়েই জাহাজে কাজ করছেন। অথচ শ্রমিকরাই বন্দর পরিচালনার মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মোংলা শহরের কয়েকটি শ্রমিক আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বর্তমান সময়ে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে সহায়তা ও ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ অবস্থায় আরো কতদিন চলতে হবে তা নিয়ে দুঃচিন্তাগ্রস্ত। 
প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় অনেকে বিকল্পও কাজও করতে পারছে না বলে জানান তারা। 
অপরদিকে স্বাস্থ্য সু রক্ষার কর্মক্ষেত্রে প্রাথমিক উপকরণ মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড ওয়াশ, সাবানসহ আনুষঙ্গিক অনেক সরঞ্জাম তারা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা স্টিভিডোরসের কাছ থেকে পাচ্ছেন না। শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতিমধ্যে তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। ত্রাণ ও সহায়তা যা পেয়েছেন তা দিয়ে সামান্য বিছুদিন কোন মতে চললেও বাকি দিনগুলোতে কিভাবে সংসার চালাবেন, ঘর ভাড়া  দিবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও স্টিভিডোরস কোম্পানি মেসার্স নূরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল শ্রমিক কর্মচারীদের কাজ কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ অবস্থায় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 
এ ছাড়া শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও কাজ কমে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। অফিস স্টাফদের বেতন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 
স্টিভিডোরস মালিক ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের কাছে সংকটকালীন এ সময়ে কর্মহীন শ্রমিক কর্মচারীদের প্রতি আরো বেশী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবার আহ্বান জানান।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষ নয়, তারা ঠিকাদারদের অধীনে কাজ করে। ঠিকাদারই তাদের দেখভাল করে থাকেন। কাজের সময়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার প্রাথমিক উপকরণ প্রদানের বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা দুর্যোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে শ্রমিকদের কোন সহায়তা করা যায় কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop