মুক্তকথা করোনার প্রাদুর্ভাব: বেতাল জনজীবন

৩১-০৩-২০২০, ১৮:১৩

হোমশিখা দত্ত

fb tw
করোনার প্রাদুর্ভাব: বেতাল জনজীবন
করোনা ভাইরাসের আগমনের পর থেকে তার ব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করার কাজ চলছে। তবে, সে আসার আগ থেকেই তো বাক্যবাগীশ বাংলাদেশী কম বেশী বাজারের মোড়ের চায়ের টং, অফিস-কাছাড়ি, ফেসবুক, টিভি স্ক্রিন, মুঠোফোনে বকে বকে নিজের দুইমাত্র কানসহ উত্তপ্ত করে তুলছিলো।
নতুন অতিথি করোনা নিয়ে উতোরচাপান কম হয়নি এতদিন। এখন যখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার নিয়মগুলো মানতেই হবে --- এমন দিন এসেই গেলো, তখন তাদের ওই হৈ-হল্লা গেলো কই? কেন এখন মিলিটারিসুদ্ধ নামাতে হচ্ছে রাস্তায়? কেন জল-কামান নিয়ে এসে জল ছুঁড়ে ছুঁড়ে তাদের বাসায় পাঠাতে হচ্ছে? যেখানে নিজে সচেতন থেকে নিয়ম মানলে স্বজন, পাড়াপড়শি, দেশ বাঁচবে, সেখানে এতো কথা কেন বলতে হচ্ছে সে নিয়ম মানাতে? অবস্থা এতো খারাপ যে, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭১ সালের বীর বাঙালীর আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে করিয়ে এ যুগের উচ্ছৃঙ্খল, মহাবুঝদার, স্বঘোষিত বীর বঙ্গসন্তানকে পোষ মানিয়ে খাঁচায় ঢোকাতে হচ্ছে। এর মধ্যে সমাজে শিক্ষাগত যোগ্যতায়, পোশাকে, পেশায়, বাসস্থানে --- উঁচু থেকে নীচু সবাই অন্তর্ভুক্ত।
কেন এই অবস্থা? এর উত্তর খোঁজার জন্য আগে মনে করি এ দেশের সমাজ ব্যবস্থায় কী কী অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। যে কয়টা মনে পড়লো, লিস্ট করে লিখলাম। দেখা যাক, লিস্ট কী বলে ---
১) যেখানে সেখানে কফথুথু, পানের পিক, সর্দি, চুইংগাম ফেলা।
২) যেকোনো ধরনের জিনিসপত্র ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া।
৩) পাবলিক টয়লেট ব্যবহার না করে যেখানে সেখানে হিসু-হাগু করা। রাস্তা ঘাটে, যেকোনো জলাশয়ে দৈনন্দিন বা খেলাচ্ছলে স্নান করতে নেমে সেখানে হিসু করা।
৪) পরিবেশের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করা। প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করা, পরিবেশ দূষণ করা।
৫) দেশের সম্পদের অপচয় করা। পানি, গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি বাজে খরচ করা।
৬) ট্রাফিক আইন অমান্য করা।
৭) দেশের বা পৃথিবীর যেকোনো ধরনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নানাভাবে ময়লা ও নষ্ট করা, অসম্মান করা।
৮) দেশ ও ভাষার অবমাননা করা।
৯) অশ্লীল ভাষায় কথা বলা ও কিছু লেখা।
১০) শিশুদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, কুশিক্ষা অশিক্ষা প্রদান করা, শারীরিক মানসিকভাবে হেনস্তা করা, শিশুশ্রমে বাধ্য করা।
১১) যেকোনো জায়গায় যেকোনো মেয়ের সাথে যথেচ্ছ আচরণ করা। শারীরিক মানসিকভাবে লাঞ্চিত করা, নির্যাতন করা, ইভটিজিং করা, ধর্ষণ করা।
১২) অপরাধ করা - চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, মাদক সেবন বা ব্যবসা, আইন অমান্য বা অপব্যবহার করা।
১৩) নারী হোক বা পুরুষ হোক, অপেক্ষাকৃত শারীরিক, আর্থিক, সামাজিকভাবে ক্ষমতাশীল হওয়ার সুযোগের অব্যবহার করা। অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাশীল বা ক্ষমতাহীন যেকোনো বয়স ও লিঙ্গের ব্যক্তির সাথে অন্যায় করা।
মানুষ যদি এসব করার কথা না ভাবতো, অথবা করবে না ঠিক করতো, তাহলে এসব কাজ হতোই না। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রত্যেকটা কাজই মানুষের ইচ্ছাকৃত। এর কোনোটাই করা উচিৎ না, তাও দেশের প্রত্যেকটা মানুষ এগুলোর একটা না একটা করেই। আবার, এসব যে করা উচিৎ না এটাও সবাই জানে, কিন্তু করে। দেশের বিচার ব্যবস্থার কারণে বড় বড় অপরাধেরই অনেক সময় শেষমেশ সঠিক বিচার হয়ে উঠতে পারে না। যেখানে বড় অপরাধের বিচার হয় না, সেখানে আপাত ছোটখাটো, কিন্তু পরোক্ষভাবে খুবই ক্ষতিকর অপরাধগুলো কেউ অপরাধ বলেই গণ্য করে না। বাংলাদেশের মানুষের মাথায় সেভাবেই সেট হয়ে গেছে।
খামোখা চুলা জ্বালিয়ে রাখা যে অপরাধ সেটা কারো মনে পড়ে? মুখ ধোয়ার পর কল ভালো করে বন্ধ না করায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ে যাচ্ছে, এটা যে অপরাধ কারো মাথায় আসে? যদি কিছু বলি, উত্তর হবে, তাতে কী হয়েছে যে? কয়েক ফোঁটা পানি পড়লে কী হয়?
এখন বলি, কী হয়। সারা বিশ্বের সব কল ঠিক মতো বন্ধ না করায় নষ্ট হওয়া পানির ফোঁটা যদি একত্র হয়, সে আর ফোঁটা ফোঁটা পানি থাকবে না। সে সমুদ্র হয়ে এসে আমাদের তাতে ডুবিয়ে দেবে।
এভাবে প্রত্যেক খারাপ কাজ, যেটা নাগরিক হিসাবে আমাদের করা উচিৎ না, সেটার একটা না একটা ক্ষতি আছে। সেই ক্ষতি সাধন করেও যেহেতু আমরা দণ্ডপ্রাপ্ত হই না, সেহেতু আমাদের মাথার ভিতর একটা ড্যাম কেয়ার ভাব জন্মায়। এই মানসিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের জিনগত। এতোটাই যে, ব্যাপারটা আলাদা করে ভাবিই না।
ধরি, কেউ একজন। কথাবার্তায়, পোশাকে, চলাফেরায় ফিটফাট। সে আড়ালে বা প্রকাশ্যে মাদক সেবন বা ব্যবসা করে, জমি-জিরাত, সম্পত্তি, টাকাপয়সার জন্য মারামারি, খুনখারাবি করে, শিশুদের সাথে যা তা আচরণ করে, যেকোনো বয়সী নারী দেখে প্যান্টের জিপার ঠিক করার ভান করে, কারো স্বামী/স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে কারো সাংসারিক জীবন বিষিয়ে দেয়, গণপরিবহনে নারীদের যৌন হেনস্তা করে বা চেষ্টা করে, ট্রাফিক আইন অমান্য করে, দেশমাতৃকার অবমাননা করে, কাউকে বুলিং করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে... এমন ইত্যাদি ইত্যাদি অপরাধ করে যায়। সেক্ষেত্রে সে নারী হোক কি পুরুষ হোক, তার জেল-জরিমানা হলেও হতে পারে। শাস্তি সে পেতেও পারে। এভাবে বললাম, কারণ, অনেক অপরাধীই আইনের ফাঁক গলে কিংবা অসহায় বিচারব্যবস্থার অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বুক ফুলিয়ে হাসতে হাসতে বের হয়ে আসে। আর, অন্যদিকে যে ক্ষতিগ্রস্ত সে হতাশ হয়ে চুপ করে যায় অথবা লড়েই যায় লড়েই যায়, তারপর শেষমেশ একদিন তার জীবনের লড়াইয়েই হেরে গিয়ে বিদায় নেয় পৃথিবী থেকে। এটা তো আর নতুন কিছু না।
কিন্তু সে-ই একই ব্যক্তি যদি চলন্ত যান থেকে ব্যবহৃত টিস্যু, চিপসের প্যাকেট, বাদামের খোসা, ঠোঙা, থুথু, পিক, চুইংগাম রাস্তার মধ্যে ফেলে দেয়, চুলা, পানির কল পুরোপুরি বন্ধ না করে, বিয়েবাড়ী বা যেকোনো অনুষ্ঠানে থালাভরা খাবার নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে খায়, খাবার নষ্ট করে, বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ করে, পরিবেশের ক্ষতি করে, কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাম লিখে, কালি লেপে, পোস্টার সেঁটে, কফ থুথু পিক ফেলে ময়লা করে, পথে চলতে নাক ঝেড়ে ইলেক্ট্রিক পিলারে হাত মুছে ফেলে, ঘরের জানালা, বারান্দা দিয়ে বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলে দেয় অবলীলাক্রমে --- এক্ষেত্রে সে অপরাধ করছে বলে কেউ কি বিবেচনা করবে? সে নিজে কি ভাববে এটা তার অপরাধ হচ্ছে?
করবে না। এসব মনেই হবে না। রাস্তায় বিভিন্নরকম সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড থাকে --- বিভিন্ন বিষয়ে কী করা উচিৎ, কী করা উচিৎ না। কেউ খানিক থেমে একবার পড়েও দ্যাখে না। মুখে বলে বুঝাতে চাইলে, হয়তো শোনে আর সে বিষয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেয়। কিন্তু পরমূহুর্তে ভুলে যায়। এসবের একটা বড় কারণ, কখনো কেউ এসব কাজের জন্য শাস্তি পায়নি। সেটা বহু বহু ... বহু আগে থেকে। দিনের পর দিন গেছে, যুগের পর যুগ গেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম গেছে, কেউ এসব কাজের জন্য শাস্তি পায়নি। অনেক মানুষ জানেই না যে, এসব কাজেরও ক্ষতি বলে কিছু থাকতে পারে, এসব কাজও অপরাধ।
এর ফল হিসাবে যেটা হয়েছে, দেশের মানুষের মধ্যে সঠিক নাগরিক বোধটা গড়ে ওঠেনি। একটা সমাজে থাকতে হলে সভ্যতা মানতে হয়। সভ্য আচরণ করতে হয়। সেজেগুজে গুণ্ডাগিরি করলেই শুধু অসভ্যতা হয় না, চিপস খেয়ে অম্লানবদনে পাশেই ফেলে দেওয়াটাও অসভ্যতা। হাঁটতে হাঁটতে ছিপ করে থুথু ফেলাটাও অসভ্যতা। এমনকি খাওয়ার আগে এক মূহুর্ত হাতে পানি লাগিয়ে খাওয়া শুরু করাটাও অসভ্যতা। অনেকেই আছে, জামা গা থেকে খুলে সেই চিপসের প্যাকেটের মতন যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই ফেলে দেয়। ঘরে ঢুকে দু'পাটি জুতার একটা এখানে আরেকটা ওখানে ছুঁড়ে দেয়। কাঁধের ব্যাগটা উড়ে যায় আরেক দিকে। এসব অসভ্যতাই বলতে হবে। জানি, এই কাজকর্ম আমাদের এতোটা আত্মস্থ হয়ে গেছে যে, অনেক পাঠকই আমার লেখা পড়ে একচোট হেসে বলবেন, এসব পাগলের প্রলাপ। আমরা আজীবন এগুলো শুনেছি, পড়েছি, দেখেছি একটা রোমান্টিক বোহেমিয়ান সেন্টিমেন্ট হিসাবে। কিন্তু সেটা যে চিন্তাভাবনাকে গ্রাস করে উচ্ছৃঙ্খলতা শেখায়, সেটা দৃশ্যত বোঝা যায় অন্তিম পর্যায়ে এসে। শুধু খারাপ আচরণ অসভ্যতার সংজ্ঞা নয়। আচরণে সুস্থতা আর স্বাভাবিকত্ব থাকলে সেটা সভ্য আচরণ হয়।
তো... এখন, আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এসে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে, দেশের মানুষকে আরো সভ্য করা এখনো কতোটা বাকির খাতায় পড়ে আছে। বিদেশে কী করেছে, কী করেনি এসব অনেকবার লেখা-পড়া-বলা হয়ে গেছে। এখন নিজেদের ভাবতে হবে, আসলেই আমরা নিজেরা কতোটা সচেতন হয়েছি।
২০১৭ সালে একটা খবরে এসেছিলো, বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলেছে সেসময় দেশে ইন্টারনেটের পৌনে সাত কোটি গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী আড়াই কোটি। সেই আড়াই কোটি নিশ্চয়ই বেড়ে তিন/সাড়ে তিন অন্তত হয়েছে এই তিনটা বছরে। ধরলাম তিন কোটি। তিন কোটি মানুষ ফেসবুক থেকে অবশ্যই করোনা নিয়ে কিছু না কিছু ভিডিও, ছবি, লেখা দেখেছে, পড়েছে। আবার পৌনে সাতের বাকিরাও বেড়েছে সংখ্যায়। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের সাথে কিছুই শেয়ার না করুক, তারা পত্রিকা, টেলিভিশন থেকে তো জেনেছে। তাও এখনো কাজেকর্মে এতোটা অসচেতনতা?
বাংলাদেশের লোকজন বিদেশ থেকে এসে ঘরে না থেকে বাইরে বাইরে ঘুরঘুর করেছে, বিয়ে করেছে, বিয়ে করতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা খেয়েছে, মেয়ের বাড়ির লোকের ধাওয়া খেয়েছে, বউসহ কোয়ারেন্টাইনে গেছে। বিদেশফেরত কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোককে পাড়া ঝেঁটিয়ে ভীড় করে দেখতে গেছে --- গ্রামেও, শহরেও। এখনো সুস্থ আছে তেমন লোকজন সৈকতে, পিকনিক স্পটে বেড়াতে গেছে। জনসমাগম করে বিয়ে করেছে। কর্তৃপক্ষ শহরে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসিয়েছে আর নাগরিকেরা সবাই মিলে ঠেলাঠেলি করে হাত ধুচ্ছে। চেংড়া ছেলেপুলের পাল হিরোইজম দেখিয়ে করমর্দন করেছে, কোলাকুলি করেছে। যেটা করতে মানা করা হয়েছে, সেটাই তোকে করতে হবে? কেন? এরকম একটা বিশ্রী প্রবণতা আছে এ দেশের মানুষের।
করোনা ভাইরাস উপলক্ষে সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে, আর, সবাইকে বলেছে ভীড় ভাট্টা এড়িয়ে চলতে। ছুটি পাওয়ার ফলস্বরূপ নাগরিকের দল কী করেছে? ছুটি নামক সোনার হরিণ হাতে পেয়েই সব একাট্টা হয়ে বাড়ি গেছে, ঠেলাঠেলি করে টিকেট কেটেছে। কেন? বছরের বাকি দিন-মাসের সব ছুটি কি বাতিল? যাওয়ার পথে আবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। সত্যিকারের ঈদের ছুটিতে উর্ধ্বশ্বাসে বাড়ি যাওয়ার সময় যে পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটে, তেমন না ঘটলেও, ঘটেছে। এটা যে ঈদের ছুটির মতো ছুটি নয় একবারও কেউ ভাবেনি। আমাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। ছুটি পেয়ে একবার অন্তত ভাবা উচিৎ ছিলো, সরকার তো দিলো ছুটি, এরপর নাগরিক হিসাবে আমার, আমাদের, সবার কী কর্তব্য। ভাববে কী করে? সে বোধই তো গড়ে ওঠেনি এ দেশের মানুষের শ্রীঘটের ভিতর। এদিকে আবার করোনা ভাইরাস নিয়ে বিতর্ক বেঁধে মারামারি করে একজন মারাও গেছে। ছিঃ। একটা বার ভাবে না, একটা মানুষের মৃত্যু যে এতো তুচ্ছ কারণে হতে পারে না।
এগুলো সব সিভিক সেন্স-এর অভাব। নাগরিক বোধহীন নাগরিক আমরা। বহুকাল চলে আসা 'নিয়মকানুনের ধার ধারি না' মনোভাবটা সবার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এখন বললেই সব দলে দলে নিয়ম শৃঙ্খলা মানবে, সে আশা করা বোকামী। তাছাড়া, আরেকটা চিন্তাও মিশেছে আমাদের রক্তে, 'কেউ তো করে না, আমি একা কেন করবো, আমি করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে?'। যখন একেবারে বিনাশর্তে নিয়ম শৃঙ্খলা মানতেই হবে তেমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়, তখন ওই চিন্তাটা মনের ভিতর বার্তা পাঠায়, মানি না মানবো না, মানি না মানবো না। হুজুগে-সিলখাওয়া বাঙালীও আর দ্বিতীয়বার ভাবে না। তবে এটা ঠিক, দ্বিতীয়বার দেখলেই কিন্তু আমরা অনেক কিছুই কখনো করতাম না।
ইদানীং লোকজন ঘরে ঢুকেছে এবং প্রায় সাথে সাথে প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে আশ্চর্য সব পরিবর্তন। প্রজাপতিরা ফিরে এসেছে। সমুদ্র সৈকতে ডলফিনের ঝাঁক খেলা করছে। ব্যাঙ লাফিয়ে লাফিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। তার মানে, মানুষ নামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীটা পৃথিবীর প্রতিটা জায়গায় কী দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছিলো! স্থির হয়ে বসে একটাবার ভেবে দেখুন তো!
জানি, বাংলা নামের দেশটা অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা সয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এখনো অনেক সমস্যা সহ্য করে যাচ্ছে, প্রাকৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক --- অনেক সমস্যা। অনেক দৈন্যতা সয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এই দেশ। তারপরও, আমরা ভুলে গেলে চলবে না, দিন শেষে দেশটা আমাদেরই, এর ভালো-মন্দ সবেতেই আমাদের দায় থেকে যায়।
তবে, হঠাৎ হঠাৎ কোথা থেকে জানি এতো এতো অলম্বুষ মাথামোটার মাঝেও সত্যিকারের মানুষের মতো মানুষেরা পথে এসে দাঁড়ায়। বিপদে একে অন্যের জন্য বাড়িয়ে দেয় ভরসার হাত। তারা রাস্তায় অন্যের ফেলে যাওয়া ময়লা কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে টন কে টন আবর্জনা কুড়িয়ে নিয়ে আসে, পরিবেশ দূষণ মুক্ত করার জন্য। বয়স যতোই হোক না কেন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পথচারীদের পারাপারের নিয়ম শেখাতে চেষ্টা করে। সহায়হীন দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাশ্রম দেয়।
সেই মানুষগুলোই আজ করোনা দুগর্ত সময়ে সরকার আর বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মুখ চেয়ে বসে থাকেনি। নিজেদের যা আছে, তা-ই নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা এখন রাস্তার পাশে বসে সময়োপযোগী দামে মাস্ক বিক্রি করছে। মঠে বসে মাস্ক তৈরী করছে। খেটে-খাওয়া মানুষকে বসিয়ে খাবার দিচ্ছে। এক জোট হয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে। পিপিই-এর মতো নিরাপত্তা সামগ্রী তৈরী করার চেষ্টা করেছ। আসলে, এই মানুষগুলোই আমাদের আশাবাদী হতে শেখায়। এরাই ভরসা জোগায় তাদের কাজ দিয়ে। আমাদের ভাবতে সাহস দেয়, একদিন অন্ধকার কেটে যাবেই, পূর্বদিগন্ত রাঙিয়ে আবার উঠবে রক্তলাল সূর্য।
লেখক: হোমশিখা দত্ত, এনজিও কর্মী
 
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop