মুক্তকথা করোনা: জনস্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন

৩১-০৩-২০২০, ১৭:০১

সময় সংবাদ

fb tw
করোনা: জনস্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন
কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর করণীয় এবং করণীয় নয় এমন সব বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞেরা পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য কর্মী এবং রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ সমাজবিদসহ হাজারো মানুষের পরামর্শ ও নির্দেশনা আমরা মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারছি। সবচাইতে সরব আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। ট্রল, কার্টুন, ব্যঙ্গ ও অন্যান্য চিত্রায়নের মাধ্যমে  উপস্থাপিত উপভোগ্য পরামর্শগুলি আমরা দেখি আর আমাদের করণীয় ঠিক করি কিংবা বিভ্রান্ত হই।
যা হোক, অধিকাংশ পরামর্শই সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। মহামারির এ সময়টাতে যেই যেই প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং পরামর্শগুলোর দিকে আমি তাকিয়ে থাকি তার একটি হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যটি বাংলাদেশের আইইডিসিআর। চলমান সঙ্কটে আইইডিসিআরের ভূমিকা এবং অবদান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা হতে পারে যা এ লেখার মুখ্য বিষয় নয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্যের মাতব্বর বলে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার  করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় পদক্ষেপসমূহ এবং পরামর্শ সব সময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের যেকোনো স্বাস্থ্য সঙ্কটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি সকলের আস্থা অর্জন করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণসমূহ, পরামর্শ ও নির্দেশনাগুলো গভীরভাবে আলোচনার দাবি রাখে। আমি প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে ভদ্রলোকের প্রত্যেকটি পরামর্শ অনুধাবণ করার চেষ্টা করি।
এক ভিডিও বার্তায় জনাব গেব্রেয়াসুস বলেন, কোভিড-১৯ কিছু মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রচণ্ড ভয়াবহতার মাঝেও ভাইরাসটি আমাদের মাঝে আশা এবং সাহসের সঞ্চার করেছে। আইসোলেশন এ থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রত্যেকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে একটু ঘসামাজা করতে বলেছেন। স্বাস্থ্যগত টিপস সহ বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছেন।
সবচাইতে কার্যকরী দিক নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন গত ২৫ শে মার্চ রাতে, যেখানে বিশ্বব্যাপী লকডাউন এর পদক্ষেপকে করোনা প্রতিরোধে আমাদের দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে বলেছেন। সত্যিকার অর্থেই তাই। আমরা প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করেছি আর এখন দ্বিতীয় সুযোগকে কাজে লাগাতে না পারলে তৃতীয় সুযোগ কত মূল্য দিয়ে পেতে হবে সেই প্রশ্ন অনেক বড় এবং ভয়াবহ।
তিনি এই দ্বিতীয় সুযোগকে কার্যকরী করতে ৬টি সুপারিশ করেছেন। এক- স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যে জনবল বাড়ানো ও প্রশিক্ষণ; দুই-প্রতিটি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন; তিন-পরীক্ষার সরঞ্জাম উৎপাদন, সক্ষমতা ও সহজলভ্যতা বাড়ানো; চার- আইসোলেশন ও চিকিৎসার জায়গা চিহ্নিত করা ও পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিতকরন; পাঁচ- রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও কোয়ারেন্টাইন করা; ছয়- সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও দমনে সরকারের পুরো ব্যবস্থার পুনরায় মনোযোগী হওয়া। একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায় পরামর্শগুলি সার্বজনীন। অর্থাৎ প্রতিটি সংক্রামক ব্যাধি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত দুর্যোগেই এই ছয়টি বিষয় আমাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এবং তা প্রথম সুযোগেই নিশ্চিত ভাবে করবে।
জনস্বাস্থ্যের শিক্ষক হিসেবে আমি শুধু প্রথম পরামর্শের উপরে দৃষ্টিপাত করছি। প্রথমত, এই স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট জনগণ বলতে আমরা কি বুঝি? এরা কারা? কীভাবে সেবা দেয়? কোথায় এবং কখন দেয়? প্রশ্নগুলির উত্তর বোঝা খুবই জরুরি। জনবল বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে পরে আসছি। আলোচ্য পরামর্শটি নিঃসন্দেহে সব ধরনের জাতীয় ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট সঙ্কট এবং দুর্যোগকালীন সময়ে করণীয়র তালিকায় সবসময় এবং সর্বপ্রথম স্থান পাওয়ার যোগ্য। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সকল ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সহ অনেকেই এখন এই জনবলের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে, প্রশিক্ষণসহ কিংবা প্রশিক্ষণ ছাড়া কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা আদৌ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান কর্তৃক কথিত স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য জনবল এর আওতায় পড়েন না। তারা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বিশেষ শাখার প্রতিনিধিত্ব করেন। যাকে বলা হয় টারশিয়ারী হেলথ সার্ভিসেস অর্থাৎ হাসপাতাল কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা। মানুষ যখন রোগগ্রস্থ হয় তখন হাসপাতালের দ্বারস্থ হয় আরোগ্য লাভের জন্য। আর রোগগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে যাবার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে মোকাবেলা করাই স্বাস্থ্যসেবা এবং জনস্বাস্থ্যের মূল নীতি। আজ যেই মহান চিকিৎসকবৃন্দ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবেলায় কাজ করছেন তারা সকলেই এই একই কথা বলবেন। তাঁরা নিশ্চিত বলবেন যে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কাজ আর তাদের কাজ এক নয়। মূল কাজ হচ্ছে কমিউনিটি লেভেলে একটি অবিচ্ছিন্ন সুন্দর স্বাস্থ্য-কাঠামো তৈরি করা যাতে পুরো দেশের জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস ও সুস্বাস্থ্যের নির্ভুল ফর্মুলা থাকবে। জনাব গেব্রেয়াসুস স্বাস্থ্যসেবা এবং জনস্বাস্থ্য জনবল বলতে এটিই বুঝিয়েছেন।
ধরা যাক ঢাকা শহরের যত খোলা জায়গা এবং মাঠ আছে সব জায়গায় সর্বাধুনিক সুবিধা সহ হাসপাতাল তৈরি করা হলো। এখন প্রশ্ন হলো এই প্রাপ্তিতে জনস্বাস্থ্য কতটুকু লাভবান হবে। এই মহাযজ্ঞে বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতটুকু সম্ভব? যার উত্তর বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি এবং চিকিৎসা প্রাপ্তিতে জনগণের হাহাকার এবং দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে রয়েছে। আজকের বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কমিউনিটি লেভেলে যারা কাজ করছেন তাদের অধিকাংশই জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট জনবল নয়। আর এজন্যই হাসপাতালের বাইরে করোনা প্রতিরোধ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং চলমান যুদ্ধে আমরা আরও খারাপ পরিস্থিতির আশংকা করি।
দেশে সর্বমোট কতজন জনস্বাস্থ্যকর্মী আছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্যকর্মী তারাই হবেন যাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থাকবে। এখন প্রশ্ন হল দেশে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনস্বাস্থ্য শিক্ষার যথাযথ অবকাঠামো আছে কিনা? সহজ উত্তর হলো, নেই। বেশ কিছু নামকরা হাসপাতালে নামেমাত্র জনস্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভাগীয় কার্যক্রম থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোরও একই অবস্থা। জনস্বাস্থ্য বিভাগ খুবই দুর্বল এবং অপেক্ষাকৃত কম মেধার জনবল নিয়ে গঠিত ও পরিচালিত। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শুধুমাত্র নিপসম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে জন স্বাস্থ্যশিক্ষা পরিচালিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম চলছে যার অধিকাংশই মোটাদাগে বাণিজ্যিক। ব্যতিক্রম শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। মোদ্দাকথা, এই সীমিত সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট দিয়ে এত বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সেবা দুটোই প্রায় অসম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য-উপাত্ত, গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণ এবং দিকনির্দেশনা সারা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য তার নাম জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিরলস কাজ করে চলছে। আমাদের সরকার কেন শুধু আইইডিসিআর এর ওপর নির্ভরশীল? আমাদেরও তো রয়েছে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কেন আমরা বৈশ্বিক দৃষ্টান্তকে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করবো না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান তার পরামর্শগুলির ভিতরে সর্বপ্রথম স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যের জনবল বাড়ানোর কথা বলেছেন, তাদের প্রশিক্ষণের কথা বলেছেন। উক্ত পরামর্শকে প্রাধান্য দিন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু সূদুর-প্রসারী এবং দূরদর্শীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
এক-সকল সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে জনস্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন। বিজ্ঞানভিত্তিক সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ প্রতিষ্ঠা করুন। ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। এখনই সময়, স্বল্প পরিসরে হলেও শুরু করতে হবে। স্নাতকোত্তর শিক্ষার পাশাপাশি স্নাতক  পর্যায়েও কারিকুলাম ডেভলপ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সফলভাবে গত ৯ বছর যাবত করে আসছে। জনস্বাস্থ্য শিক্ষার বিভিন্ন ডিসিপ্লিন এবং বিষয় আছে। সুতরাং, বিষয়ভিত্তিক ভাবে এবং সক্ষমতার বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আলাদা করা যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা। ইউজিসিকে উদ্যোগী হতে হবে। সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ইউজিসিকে কর্তৃত্বপরায়ন হতে হবে। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আসন সংখ্যা বণ্টন করতে হবে। সরকারি কর্ম কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এসকল গ্রাজুয়েটের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ রোগ প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য জনবলের বিকল্প এই মুহূর্তে আর কিছুই নেই যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান অত্যন্ত সুনিপূণভাবে উপলব্ধি করেছেন।
দুই- এই সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পঠিত সকল বিষয়ের সাথে বাংলা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি প্রশংসা-যোগ্য একটি পদক্ষেপ। পাশাপাশি ইংরেজি এবং কম্পিউটার শিক্ষার একটি বেসিক কোর্স অধিকাংশ বিভাগেই পঠিত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই তালিকা আরো লম্বা। মূল লক্ষ্য হলো নিজ বিষয়ের বাইরে গিয়ে জীবনমুখী এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বিষয়ের শিক্ষাগ্রহণ। ইহাকে জেনারেল এডুকেশন  (জিইডি) অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা কোর্সও বলা হয়। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয় গুলোর পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে জনস্বাস্থ্য শিক্ষার একটি পূর্ণ কোর্স রাখা যেতে পারে।
তিন- এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র ভরসার কেন্দ্র আইইডিসিআর। কিন্তু আইইডিসিআরের বিশ্বস্ত সহযোগী হতে পারে অনেক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান গুলির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী হতে হবে। সরকারি-বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ একশটিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জিনবিজ্ঞানী, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট রসায়নবিদ, ফার্মাসিস্ট সহ শত শত শিক্ষক এবং গবেষক রয়েছে। আমি প্রায় নিশ্চিত ভাবে জানি প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রায় প্রত্যেকটি তে এমন গবেষণাগার ও গবেষক রয়েছে যেখানে এবং যারা এই ভাইরাসটি শনাক্ত করনে সমর্থ। আরটি- পিসিআর প্রায় সব গবেষণাগারে আছে। কিছু প্রাইমার, প্রব এবং গবেষণাগারের বায়োসেফটি লেবেল ৩ হলে এখানে রোগ নির্ণয় সম্ভব। তা সম্ভব না হলেও এই বিশাল জনশক্তি আইইডিসিআর কে রোগ নির্ণয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারে। সরকারকে আন্তরিক হতে হবে এবং এই সংক্রান্ত গবেষণায় পারদর্শী গবেষকদের একটি তালিকা করতে হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কে কাজে লাগাতে হবে।
চার- জনগণের সার্বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত না করে একটি জাতির উন্নয়নশীল কিংবা উন্নত হওয়ার বাস্তবতা অনেকটাই অলীক ও অর্থহীন। বিশ্বের অনেক দেশে ১৮-২১ বছর বয়সের সময় কিংবা পরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। আমরা ভাগ্যবান যে এই প্রশিক্ষণ আমাদের নিতে হয় না। প্রশিক্ষণ ছাড়াই আমরা এদেশকে নয় মাসে স্বাধীন করেছি। কিন্তু সেখানে শত্রু দৃশ্যমান ছিল। অদৃশ্য শত্রু রোগজীবাণু- ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুদ্ধটা একটু অন্যরকম। প্রকৃত জ্ঞান, পরিচ্ছন্ন জীবনাচার, অভিজ্ঞতা এবং করণীয় জানা অত্যন্ত প্রয়োজন এই যুদ্ধে, যার আয়ত্তকরন নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। বিপুল জনগোষ্ঠীর এই দেশের সকলকে বয়স ভিত্তিক ভাবে কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে কিংবা জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা।
আমি নিশ্চিত, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে এখন সর্বসাধারণের মানসিকতায় আতঙ্কের পাশাপাশি একটা মানসিক দৃঢ়তাও কাজ করছে। বিলম্বে হলেও মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জানতে পেরেছি ৬৪ জেলা পর্যায়ে এবং ১০০টি উপজেলার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উক্ত প্রশিক্ষণ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিশ্চয়ই ভালো কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে বলা যায় উক্ত প্রশিক্ষণ চলমান সংকটের জন্য কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সার্বজনীন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখতে হবে যাতে ভবিষ্যৎ যেকোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি সফলতার সাথে মোকাবিলা করা যায়। এর অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক জনস্বাস্থ্য শিক্ষার বিকল্প আর কিছুই নাই।
লেখক: সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এবং উপদেষ্টা, কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop