অন্যান্য সময় লকডাউন পরিস্থিতিতে ৫ লাখ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেবে বিদ্যানন্দ

২৯-০৩-২০২০, ১৭:১২

মামুন শেখ

fb tw
লকডাউন পরিস্থিতিতে ৫ লাখ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেবে বিদ্যানন্দ
করোনায় বিধ্বস্ত বিশ্ব। বাংলাদেশেও পড়েছে মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং মরণঘাতী এই ভাইরাসের থাবা। করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে দেশের সব স্কুল-কলেজ, অফিস আদালত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষকে থাকতে বলা হয়েছে নিজ নিজ ঘরে। এই বন্দি দশায় চরম অনিশ্চয়তায় শ্রমজীবী মানুষ। খাবার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংকটের সঙ্কটের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। এমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় অসহায় মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ লাখ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেবে তারা। ৫০০ টন চাল-ডাল-লবণ-তেল কেনার কাজ শুরু করেছে সংগঠনটি। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ঢাকা শাখা প্রধান সালমান খান ইয়াছিনের সঙ্গে কথা হয় সময় নিউজের। তিনি জানান, লকডাউন অবস্থায় কেউ খাদ্য সংকটে ভুগলে বিদ্যানন্দ বা এক টাকার আহারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
করোনায় মানুষের পাশে বিদ্যানন্দ
সালমান খান ইয়াছিন: ‘আমরা প্রায় একমাস আগে করোনা নিয়ে কাজ শুরু করি। কভিড-১৯ যখন চীন থেকে ইউরোপের দিকে যাচ্ছিলো তখন আমরা ধারণা করেছিলাম যে, ভাইরাসটি হয়তো আমাদের দেশেও আসবে। তখনই আমরা এটা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করি। ওই সময় আমরা মাস্ক তৈরি শুরু করি। ওই সময় হঠাৎ মাস্কের সংকট বেড়ে যায়। তখন আমরা মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করি। আমরা কিছু হ্যান্ড স্যানিটাইজারও সংগ্রহ করেছিলাম যেগুলো এখন আমরা বিভিন্ন মসজিদ, হসপিটাল এবং চিকিৎসকদের মাঝে বিতরণ করেছি। এই ক্যাম্পেইনগুলো আমাদের প্রায় শেষ।
আমরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ করেছি। আমরা শুরুতে বাস স্ট্যান্ডগুলোতে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছি। এখন হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন জীবাণুনাশক ছিটিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া হাসপাতালের আশপাশের রাস্তা এবং জায়গাগুলোতেও এই কাজ করছি। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার লিটার জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছি এখন।
যেহেতু পুরো দেশ ছুটির মধ্যে আছে। কেউ বাইরে বের হচ্ছে না তাই আমরা প্রশাসন থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়ে এই কাজ করে যাচ্ছি। 
এই মুহূর্তে আমরা যে কাজে ফোকাস করছি সেটি হল- যেহেতু মানুষের এখন কোনো কাজ নেই, যারা দিনমজুর তারা কিন্তু একটা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে। এখন হয়তো তাদের অনেকের কাছেই কিছু টাকা পয়সা আছে তবে কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো তা শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে তৈরি হওয়া সংকটের সাপোর্ট দেয়ার জন্য আমরা প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে খাবার দেবো। 
সারা দেশে নেটওয়ার্ক তৈরি করছে বিদ্যানন্দ
সালমান খান ইয়াছিন: এই কাজের জন্য আমরা সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গ্রুপগুলো, যারা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করে তাদের নিয়ে আমরা একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। যাতে করে আমরা আমাদের ত্রাণটা মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা কেরানীগঞ্জ এবং মিরপুরের রূপনগরে দুইটা জায়গায় খাবার জমা করে প্যাকেজিং করছি। সেখান থেকে আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে খাবারগুলো পাঠিয়ে দেবো। একই সাথে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুরের মতো কিছু জায়গায় খাবার স্টোর করেছি। যখন যে জায়গায় প্রয়োজন হবে আমরা খাবারগুলো সেখানে পাঠিয়ে দেবো। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের হাতে যে ফান্ডটা আছে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডিস্ট্রিবিউট করে দেয়া হচ্ছে যাতে এটা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না হয়। 
চাল, ডাল, তেল, দুধ, বিস্কুট, স্যালাইন, নুডুলসের মতো খাবার থাকবে, প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রায় ৫শ’ টাকার খাবার থাকবে একেকটা প্যাকেটে।
ফান্ড সংগ্রহ
সালমান খান ইয়াছিন: আমরা অনেক জায়গা থেকেই ফান্ড পাচ্ছি। আমাদের ফেসবুকে দুইটা পেজ আছে- এক টাকায় আহার এবং বিদ্যানন্দ। ফেসবুকের মাধ্যমেই আমরা সাড়া পাচ্ছি সবচেয়ে বেশি। আমাদের কাজগুলো এই পেজগুলোর মাধ্যমে যখন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে তখন অনেকেই এগিয়ে আসেন নিজে থেকে। অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে, অনেকে সরাসরি টাকায় অনুদান দেন। আমরা কয়েক কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করেছি। যেকোনো জাতীয় দুর্যোগের সময় বাংলাদেশে মানুষ যে এক কাতারে দাঁড়ায় তার অনন্য নজির কিন্তু এই কার্যক্রম। 
কিছু কিছু মানুষ টাকা দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো কোম্পানি তাদের পণ্য নিয়ে যেমন, নুডলস, তেল ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয়েছে যে, আমি ১০ হাজার প্রোডাক্ট দেবো বা ৫০ হাজার প্রোডাক্ট দেবো। কেউ বলছেন, আমার গাড়ি আছে আপনারা ব্যবহার করেন। কেউ বলছেন, আমার কমিউনিটি সেন্টার আছে আপনারা ব্যবহার করেন। আমরা যারা ভলান্টিয়ার আছে তাদের জন্যও কিন্তু অনেকে বাসা থেকে খাবার রান্না করে পাঠাচ্ছেন। এভাবে যে যেভাবে পারছে এগিয়ে আসছে।
আমরা অবাক হয়েছি, দেখেছি যে, সংকটের সময় আমাদের একটা সঠিক উদ্যোগ দরকার। এটা করতে পারলে বাংলাদেশে মানুষ পাশে এসে দাঁড়ায়। এক টাকা, পাঁচ টাকাও অনেকে ডোনেট করেছে। এটাও কিন্তু অনেক। এভাবেই কিন্তু কয়েক লাখ টাকা জমে উঠেছে।
অসহায়ের সহায় বিদ্যানন্দ
সালমান খান ইয়াছিন: ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করি- তাদের বেসিক যে প্রয়োজনগুলো যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা নিয়ে আমরা কাজ করি। সারা দেশে আমাদের ১৩টি শাখা আছে। এরমধ্যে ৬টি আছে যেখানে এতিম বাচ্চারা থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়া আমাদের আরেকটি কার্যক্রম আছে ‘এক টাকার আহার’। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ২ হাজার পথশিশু, এতিম শিশু খাবার পেয়ে থাকে। আমরা ২০১৬ সাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু করি। এখন পর্যন্ত এই প্রজেক্টের মধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে খাবার দিয়েছি। এছাড়া আমাদের এক টাকার চিকিৎসা, বাসন্তী ওমেন ইম্পাওয়ারমেন্টসহ অনেক প্রোজেক্ট আছে। একইসাথে আমারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরেও কাজ করছি। এগুলো আমাদের নিয়মিত কাজ। এছাড়া আমরা বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কাজ করি, যেমন করোনা নিয়ে এখন করছি। আমরা আসলে ভালো কাজের উদাহরণ সৃষ্টি করে মানুষকে উৎসাহী করতে চাই।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop