মুক্তকথা ফেসবুক স্ট্যাটাসের আগে ভাবুন, বিশেষত চাকরিপ্রার্থীরা

১৩-০৩-২০২০, ১৬:৩৯

পলাশ মাহমুদ

fb tw
ফেসবুক স্ট্যাটাসের আগে ভাবুন, বিশেষত চাকরিপ্রার্থীরা
ফেসবুকে এক বন্ধুকে দেখলাম লিখেছেন, ‘মন চায় তোরে চুমা দেই।’ অনেকে কমেন্ট করে জানতে চেয়েছেন, কাকে? কে সেই ভাগ্যবান? কেউ লাইক দিয়েছেন আবার কেউ অবাক হওয়ার ইমোজি ব্যবহার করেছেন।
আমরা সামাজিকমাধ্যমে যেমন ভালো কিছু দেখি/পাই তেমনি অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয়, রুচিহীন, সমাজ বিবর্জিত স্ট্যাটাস-পোস্ট হরহামেশাই দেখতে পাই। অনেক সময় ভালো লাগে আবার বিরক্তও হই। অন্যের বিরক্তিরও কারণ হাই। তবে শুধু বিরক্তির কারণ না, অনেক ক্ষেত্রে আমরা সামাজিকমাধ্যমকে অসামাজিক করে তুলছি। এতে নিজেই ক্ষতির মুখে পড়ছি। কিভাবে?
সমাজ বলতে আমরা বুঝি এমন এক পরিবেশ সেখানে, পরিবার, বন্ধুমহল, শিক্ষক, জুনিয়র, সিনিয়র, অফিসের কলিগ, বস, চাকরিদাতা, চাকরিপ্রার্থী, নারী, পুরুষ, শিশু বা অনুরূপ সব ধরণের মানুষ থাকে। সামাজিকমাধ্যম বলতে আমরা এই বাস্তব সমাজটাকেই ভার্চুয়ালি উপস্থাপন করছি। আমার সামাজিকমাধ্যমে উপরের সব ধরণের মানুষজন আছেন এবং এটি প্রায় সবারই।
এবার ভাবুন, আপনার বান্ধবীকে আপনার চুমা দিতে ইচ্ছে হয়েছে, সেটি কি আপনি আপনার মায়ের সামনে, শিক্ষকের সামনে, অফিসের বসের সামনে বা অনুরূপদের সামনে বলবেন? না। তাহলে এই যে ফেসবুকে লিখলেন তারা কিন্তু সবাই দেখলো। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হচ্ছে। কারণ, অন্তত এটুকু তারা ভাবতেই পারে যে, এই ছেলে/মেয়ে নিজের প্রাইভেসি বোঝে না। যে নিজের প্রাইভেসি বোঝে না সে অন্যেরটা বুঝবে কী করে? আপনার বস ভাববে, ছেলেটা/মেয়েটা ইম্যাচিউরড। কোথায় কী বলতে হয় বোঝে না। অর্থাৎ এটি আপনার চাকরিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আপনি এমন কোনো পোশাক পরলেন বা স্ত্রী/বান্ধবীর সঙ্গে এমন কোনো ছবি তুললেন সেটা আপনি এই সমাজে সবার সামনে করতে পারবেন না। কিন্তু সেটি শেয়ার করে দিলেন। মুহূর্তেই তা সবাই দেখলো। এতে অন্যরা আপনার জ্ঞান/মানসিক উচ্চতা/আপনার ক্যাটাগরি পরিমাপ করবে। হয়তো কেউ আপনাকে কিছু বলবে না। কিন্তু আপনার সম্পর্কে তার ধারণা তৈরি হবে।
কয়েক দিন আগে এক ছেলে বললো, ‘ভাই আমার চাকরি হয়েছিল কিন্তু নিয়োগপত্র দিল না। বলেছে, ফেসবুকে আপনার কার্যক্রম আমাদের পছন্দ হয়নি। দুঃখিত।’ শুধু এই একটি ঘটনাই না, এখন অনেক ক্ষেত্রে আপনার-আমার আচার-ব্যবহার, রুচি, চিন্তা, জ্ঞান সব কিছুই দেখা হচ্ছে সামাজিকমাধ্যমে কার্যক্রম যাচাই করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশে এখন ভিসার আবেদন করলে সামাজিকমাধ্যমের লিঙ্ক দেয়া ম্যান্ডেটরি। আর তারা সেটা অবশ্যই চেক করে। তাহলে বুঝুন ব্যাপারটি আসলে কী?
বর্তমানে সামাজিকমাধ্যমে কার্যক্রম দেখে অনেককে অনেক প্রতিষ্ঠান চাকরির অফর দেয়। এটি আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে। আমাকে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছিল, আপনি কাজ করবেন কিনা? আমি রাজি হই ও দেড় বছর চাকরি করি। সেই ক্যারিয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড আমার পরবর্তীতে খুব উপকারে এসেছে।
অনেক সময় দেখা যায়, আমরা সুস্বাদু বা দামী খাবার খাওয়ার ছবি দিচ্ছি। স্বাদও বর্ণনা করছি। কিন্তু আপনি ভাবুন, আপনার সমাজে বহু মানুষ আছেন যাদের ওই খাবারটা খাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাদের সামনে এটি এভাবে উপস্থাপন করলে তাদেরও খেতে মন চাইতে পারে। এমন বিষয় একেবারেই সিলি হলেও গুরুত্ব দেয়া দরকার।
আবার আপনার বন্ধু তালিকায় অনেক ব্যস্ত মানুষ আছেন। বড় বড় কর্মকর্তারা আছেন। শিক্ষিত-পন্ডিত মানুষজন আছেন। যারা হয়তো দিনের একটি সময় ঢু-মারে কী হচ্ছে দেখার জন্য। কিন্তু ঢুকেই তার চোখে পড়লো, ‘মন চায় তোরে চুমা দেই।’ বা আপনার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার ছবি বা আপনার খাওন-দাওনের দৃশ্য। তাহলে তিনি বিরক্ত হবেন কিনা? আপনার সম্পর্কে তার কেমন ধারণা তৈরি হবে।
আমরা যদি অন্যের বিরক্তির কারণ হওয়া বা খাবার-দাবারের মতো ছোট বিষয়গুলো বাদ দেই তবুও একটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা দরকার যে, সবাই নিজের ক্যারিয়ার সাজাতে চাই। আর ক্যারিয়ার সাজানোর জন্য আমাদের সমাজেরই নানা মানুষের সঙ্গে চলতে হয়, কাজ করতে হয়, ভাইভা দিতে হয়, অফিস করতে হয়। তবে আপনার-আমার ক্যারিয়ারে যারা সহায়তা করতে পারে, করে, সুযোগ তৈরি করে তারা বলা যায় সবাই আপনার-আমার চেয়ে ভালো পজিশনে, দক্ষ, জ্ঞানী, অভিজ্ঞ, ব্যস্ত। তো, যদি অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, ভুল, সমাজবিবর্জীত বা ইম্যাচিউরড কোনো একটি স্ট্যাটাসের কারণে আমার সম্পর্কে তার মনে হয় যে, ছেলেটা/মেয়েটা ইম্যাচিউড, পার্সোনালিটিলেস, মূর্খ, অদক্ষ, বেয়াদব বা এমন কোনো একটি তাহলে তিনি কি আপনার জন্য কিছু করবেন? আপনার জন্য একজন করবেন তখনই যখন আপনাকে দক্ষ, ম্যাচিউরড, ভদ্র বা এমন মনে হবে। না হলে আপনাকে রেফারও করবে না। কারণ, তার ভয়/শঙ্কা/সন্দেহ হবে যে, পরে তার ইজ্জত না যায়।
তবে আপনি অনেক ভালো স্ট্যাটাস দিলেন কিন্তু আপনার ভাষা ও শব্দচয়ন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে দক্ষতা প্রকাশ। আবার আপনার ওয়ালে চুপ থাকলেন বা ভালো কার্যক্রম করলেন কিন্তু অন্যের ওয়ালে গিয়ে কমেন্ট করলেন বাজেভাবে এবং শব্দচয়ন আপত্তিকর। সেটিও যে শুধু ওই ব্যক্তিই দেখবে এমন ভাবার কারণ নেই।
সুতরাং সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়া বা কমেন্ট করার আগে জাস্ট ভাবা দরকার, এটি আসলে কোনো দরকার আছে কিনা, কেউ বিরক্ত হবে কিনা, অরুচিকর কিনা, লোকে বোকা বলবে কিনা? এবং লেখার ভাষাটা কতটা ভদ্র বা শালীন? ঠিক অন্যদের কোনো স্ট্যাটাস বা পোস্ট আপনার ভালো লাগে না লক্ষ্য রাখুন। নিজেই সেই ধরণের স্ট্যাটাস/পোস্ট থেকে বিরত থাকুন।
আমরা চাইলেই নিজের কথা, যোগ্যতা, দক্ষতা একজনের সামনে গিয়ে প্রকাশ করতে পারি না। তবে সেখানে সিভি পৌছতে পারি। সিভি দেখে তারা বোঝেন। কিন্তু এখন সিভির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিকমাধ্যমের কার্যক্রম। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে আপনি আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা উপস্থাপন করতে পারেন। সুতরাং সামাজিকমাধ্যমকে অসামাজিক না বানিয়ে একটি নিজের সিভির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করলে লাভ হতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক, সময় টেলিভিশন।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop