বাংলার সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পাবনায় অপ্রতিরোধ্য বালিদস্যুরা

১২-০৩-২০২০, ১৪:০০

এস এ আসাদ

fb tw
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পাবনায় অপ্রতিরোধ্য বালিদস্যুরা
পাবনায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলনে তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অসময়ের ভাঙনে তলিয়ে গেছে সদর ও সুজানগর উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা ফসলী জমি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে এমন কাণ্ড ঘটলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীদের হুমকি-ধামকি এমনকি হত্যাচেষ্টার ঘটনায়ও ঘটেছে।
প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন দিশেহারা সর্বস্বান্ত চাষীরা। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা থেকে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। আর এতেই পাবনার সদরের বাহিরচর, কোলচরী, চরভবানীপুর, বাগচীপাড়া, ভাদুরডাঙ্গী, সুখচর, সুজানগর উপজেলার চর খলিলপুর, নাজিরগঞ্জ, হাজারবিঘা, বিশ্বনাথপুর, সাগরকান্দি, চরসুজানগরসহ পদ্মাপাড়ের অন্তত ২০ গ্রামে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন।
অসময়ে এমন ভাঙ্গনে গ্রামগুলিতে এরই মাঝে তলিয়ে গেছে উঠতি রবিশস্যসহ প্রায় আড়াই হাজার বিঘা ফসলী জমি। জীবিকা অর্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় চাষীরা।
অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পাবনা জেলা প্রশাসন বালিমহাল ইজারা দেয়া বন্ধ করে দেয়। এর কিছুদিন পর থেকে কোন ধরণের অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালি উত্তোলন শুরু করে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সিন্ডিকেট। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীও যুক্ত হয় এই অবৈধ কার্যক্রমে। এরপর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে বালিদস্যুরা।
সরেজমিনের চরতারাপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে পদ্মা নদী বালি তুলছে শ্রমিকরা। নদী পাড়ে স্তুপ না করে শত শত ট্রলারে সেসব বালি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চর খলিলপুর গ্রামের কৃষক জিলাল ফকির জানান, সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ খাঁন, চরতারা ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল, দোগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আলী হাসান, চরতারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক খানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। 
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর পাবনা- ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীরের ভাই আহমেদ ফররুখ কবীর বাবু ও জেলা পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে অবৈধ বালিদস্যুদের এই সিন্ডিকেট।
বাহিরচর গ্রামের হোসেন আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শত অনুরোধেও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করেন নি তারা। নদীর তলদেশ থেকে যথেচ্ছ বালি তুলে নেয়ায় আমাদের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত এক মাসে আমার ১০ বিঘা জমি উঠতি মসুর ও সরিষাসহ নদীতে চলে গেছে। আমরা বালি তোলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।
কৃষকরা জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার অনুরোধ করেও ফল মেলেনি। আমরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করলেও কেউ খবর নেয়নি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে একপর্যায়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে বালিদস্যুদের প্রতিরোধের চেষ্টা করায় বিপদ আরো বেড়েছে।
এদিকে, বালি উত্তোলনের প্রতিবাদে অংশ নেয়ায় গতরাতে বাহিরচর গ্রামের শাহিন সর্দার (৩০) নামের এক যুবককে বাড়ির সামনে থেকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে গিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কোনমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায় শাহিন।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শাহিন জানান, দুর্বৃত্তরা বার বার তাকে আন্দোলন করার সাধ আজ মিটিয়ে দেবার কথা বলছিল।
তবে, বালি উত্তোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে একে অন্যের উপর ও প্রশাসনের উপর দায় চাপিয়েছেন অভিযুক্তরা।
চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল বলেন, বালি উত্তোলনের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই, বরং বার বার আইনশৃংখলা মিটিংয়ে তা বন্ধের দাবী জানিয়েছি। আমাদের দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চালায়।
ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান বলেন, আমার ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে নদী থেকে বালি তোলা হয় না। পাবনা জেলায় কারা এ কাজের সাথে জড়িত তা সকলেই জানে। রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকেই বার বার আমার নাম জড়ানো হয়।
পাবনা সদর থানর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ বালিদস্যুদের সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বালিমহাল জেলা প্রশাসনের আওতায়। বালি উত্তোলনের সাথে পুলিশ প্রশাসন কোনভাবেই জড়িত নয়। বালি উত্তোলন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের যেকোন অভিযানে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছি।
পাবনায় বিভিন্ন পয়েন্টে বালি উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে পুরো বিষয়টিকে বড় ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বলে উল্লেখ করেছেন পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।
তিনি বলেন, আমরা অভিযানে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সফল হতে পারছি না। এ কারণে উত্তোলনকৃত বালিও আমরা নিলামে বিক্রি করে দিচ্ছি। জেলা প্রশাসন বালি উত্তোলন বন্ধে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করছে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop