স্বাস্থ্য করোনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮ তথ্য

১০-০৩-২০২০, ২১:১৯

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক

fb tw
করোনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮ তথ্য
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনতাই পারে সুরক্ষা দিতে। এজন্য ভাইরাসটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানা থাকা জরুরী। সচেতনতার সঙ্গে বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
১. করোনা বা কোভিড-১৯ কী?
ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ - এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরসা। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি। নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: 'চায়না ভাইরাস', 'করোনাভাইরাস', '২০১৯ এনকভ', 'নতুন ভাইরাস', 'রহস্য ভাইরাস' ইত্যাদি।
কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা 'করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
২. করোনার লক্ষণ কী?
করোনার রেসপিরেটরি লক্ষ্মণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষ্মণ। করোনার জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো। সাধারণত জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়।
৩. করোনার লক্ষণ প্রকাশের সময়
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে মৃত্যুর সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে উপসর্গ দেখা দিতে গড়ে প্রায় ৫ দিন সময় লাগে। যাদের মধ্যে ১২ দিন পর্যন্ত কোন উপসর্গ দেখা দেয় না তাদের আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসটির উন্মেষ পর্ব ১৪ দিন থাকে এবং এ কারণেই কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন রাখার কথা বলা হয়। তবে ১২ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ না পেলেও যাদের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে তারা ভাইরাসটির বাহক হিসেবে কাজ করেন এবং তাদের কাছ থেকে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারেন।
৪. কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?
কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
৫. আমার কি মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?
করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ট নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।
৬. শিশুরা কি ঝুঁকিতে?
যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানত: আগে থেকে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে।
তবে শহরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা, যা সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ায় দেখা গেছে।
৭. ভাইরাসটি কিভাবে ঠেকানো যেতে পারে?
আমরা এখন জানি যে, ভাইরাসটি নিজে থেকে ধ্বংস হবে না। ভাইরাস প্রতিরোধক করতে কোন ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া।
মানুষজনের চলাচল সীমিত করে দেয়া।
হাত ধুতে সবাইকে সবাইকে উৎসাহিত করা।
স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরে রোগীদের আলাদা আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেয়া
রোগীদের ভাইরাস রয়েছে কিনা তা জানতে এবং রোগীদের সংস্পর্শে আসা লোকদের সনাক্ত করার জন্যও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড বা নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন।
৮. আক্রান্ত হলে কী করবেন?
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি হাসপাতালে যেতে মানা করছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। তারা বলছেন, সত্যিই করোনায় আক্রান্ত হলে তিনি তার অজান্তেই করোনা ছড়াতে ছড়াতে হাসপাতাল পর্যন্ত যাবেন! এবং সেখানে আউটডোরের ভিড়ে আরও অসুস্থ রোগীর মধ্যেও করোনা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
তাই করোনার উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে ফোন দিতে হবে। এরপর অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা সরাসরি সেই বাসায় যাবেন- আন্ডার কাভারে; দরোজার কাছে গিয়ে তারা স্বাস্থ্য পোষাক পরবেন, যেন রোগীকে ঘিরে তার সম্পর্কে আতঙ্ক ঘৃণা তৈরি না হয়! সেখানেই তারা নমুনা সংগ্রহ এবং বাকি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন।
এছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরগুলো মোবাইলে সেভ করারও পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১।
সূত্র: বিবিসি, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop