মুক্তকথা করোনা এখন করোনাডিক্স!

১০-০৩-২০২০, ০০:২৮

মাকসুদ রহমান

fb tw
করোনা এখন করোনাডিক্স!
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কিছু রোগের মধ্যে ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাসের কথা মনে করা যায়। ২০০৩ সালের এ ঘটনায় মৃত্যুর হার ছিল ১০ শতাংশ। এর পর ২০১২ সালে মার্সে ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ইবোলায় ছিল ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। আর ২০১৯ এ শুরু হওয়ায় করোনায় মৃত্যুর হার ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
কিন্তু সার্স, মার্স ও ইবোলার ক্ষেত্রে এতোটা আআতংক ও ভীতি তৈরি হয়নি যতটা হয়েছে করোনার ক্ষেত্রে। আগের ঘটনাগুলোতে মৃত্যুর হার ছিল বেশি। এবার মৃত্যুহার অনেক কম। তবুও ভয় এত বেশি কেন? বদ্ধমূল ধারণা ছড়িয়েছে যে, করোনা হয়েছে তো মৃত্যু অনিবার্য।
খটকাটা পাকাপোক্ত হওয়ার মতো তথ্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্ত হয়েছে ২ কোটি মানুষ। তাদের মধ্যে মারা গিয়েছে প্রায় ১২ হাজার! অথচ করোনাতে এখনো মৃতের সংখ্যা তিন হাজার। সেই তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তাহলে আতংক এত বেশি কেন?
সময়টা তখন ১৮৮২, যুক্তরাষ্ট্রে একটি আইন পাশ হয়েছে; আইনের নাম চাইনিজ এক্সক্লুশন এ্যাক্ট। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনাদের আগমন ঠেকানো। এমনি আরেকটি আইন পাশ হয়েছিল ১৯২০ সালে। এই আইনের বলে নিউইয়র্কের এলিস আইল্যান্ডে চীনাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
আইনগুলো পাশ হয়েছিল বাণিজ্য ঘাটতি ঠেকানোর জন্য নয়, বরং সাদাদের প্রাধান্য রক্ষার জন্য। নন-হোয়াইটরা জব সেক্টর গিলে ফেলছে, তা হতে দেওয়া যায় না।
তারা এখনও বিশ্বাস করে আমেরিকান-ইউরোপিয়ান তথা এ্যাংলো-স্যাক্সনরা ছাড়া পৃথিবীর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এখনো কারো হয়নি। বিশেষ করে হলদে আর কালো এশিয়ানদের তো নয়ই।
এমনকি ২০১৮ সালে এসেও আমেরিকাতে ফেডারেল আইন পাশ হয়েছে। যার বলে চাইনিজ ছাত্র ও স্কলাররা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। সাথে আছে ট্রেড ওয়ার। এগুলো শুধুমাত্র বাণিজ্য ঘাটতি পোষাণোর জন্য নয়। এর মূলে রয়েছে সেই সুদূর প্রসারি বিশ্ব শাসনের চিন্তা। হোয়াইট সুপ্রিমেসি।
আমেরিকার প্রতিটি নিউজ চ্যানেলে মূহূর্তে মূহূর্তে করোনার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। কিন্ত করোনায় মৃত্যুহার তো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। অর্থাৎ শতকরা তিনজন মারা যাচ্ছে। আর বাকি ৯৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছে।
কিন্তু আপনি আপনার নিজের কথাই ভেবে দেখুন, আপনার কী ধারণা করোনা নিয়ে? ভাবছেন করোনা মানে নির্ঘাৎ মৃত্যু। কেন ভাবছেন? কারণ মিডিয়া ভাবতে শিখিয়েছে। কেন শিখিয়েছে? সেটাই  পলিটিক্স।
পূর্বে যে আইনগুলোর কথা বললাম সেসময়ও আমেরিকাতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এশিয়ানরা নোংরা, অশুচি, হাজার রকম রোগের আঁতুড়ঘর। এদেরকে এদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। মহামারি ছড়াবে এরা।
মূলত উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ানদের কম্পিটিশন থেকে আমেরিকার শ্রমবাজারকে রক্ষা করা। এসব কুসংস্কার ছড়িয়ে শুধুমাত্র এঞ্জেল আইল্যান্ডে ১৯১০ সাল থেকে ১৯৪০ এর ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল আড়াই লাখ চাইনিজ ও জাপানিজকে। গোটা আমেরিকাতে এই সংখ্যাটা ছিল কত? মাত্র ত্রিশ বছরে যদি আড়াই লাখ মানুষকে আটক করা হয় তবে গোটা দুই শতকে কতজনকে আটকে রাখা হয়েছিল?
সাদাদের এই বর্ণবাদী চরিত্র ও মানসিকতা মজ্জাগত ও চিরস্থায়ী। যতই উদার আর মুক্তমনা ভাবেন না কেন, দিন শেষে তারা পুরোদস্তুর রেসিস্ট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি সংবিধান দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল জাপানকে। কারণ তখনো এশিয়ান কান্ট্রিগুলোর মাঝে একমাত্র শিল্পোন্নত দেশ ছিল জাপান। আমেরিকাকে অস্ত্রের বাজারে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল শুধুমাত্র জাপানের। তাই অস্ত্রবাজার আমেরিকার একচেটিয়া দখলে নেওয়ার জন্য সংবিধানের মারপ্যাচে ফেলে জাপানকে মুড়ে দেওয়া হয় রেডিও, টিভি আর ক্যামেরার ভিতর।
এখন আমেরিকার জন্য সাক্ষাত হুমকি হচ্ছে চীন। উদীয়মান অর্থনীতি, সামরিক বাজার দখল, আন্তর্জাতিক প্রভাববিস্তার সবদিকেই আমেরিকাকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে চীন। গোটা পৃথিবীর বাজার হু হু করে দখলে নিয়ে নিচ্ছে চীন। একে থামাতেই হবে। যেকোনভাবে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে চীনের অর্থনীতির আকার হচ্ছে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। পক্ষান্তরে আমেরিকার হচ্ছে ২১ ট্রিলিয়ন ডলার। যদি করোনার উৎপত্তি নাও হত, তবুও কোনো না কোনোভাবে চীনকে প্রতিরোধ করা হতোই। একটা না একটা উসিলায় চীনকে কোণঠাসা আর একঘরে করার চেষ্টা হতই। করোনা তাদের কাজটা সহজ করে দিয়েছে মাত্র। আর কিছু নয়।
বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই চীনাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে আন্দোনল শুরু হয়েছে। কিন্তু বাধ সেধেছে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যাক কতদূর কী হয়।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop