শিক্ষা সময় ববিতে বেপরোয়া ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থীরা

০৮-০৩-২০২০, ২০:২৭

ফিরদাউস সোহাগ

fb tw
ববিতে বেপরোয়া ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থীরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকলেও ছাত্রলীগের নামে কিছু শিক্ষার্থী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২ সপ্তাহে সাধারণ শিক্ষার্থী নির্যাতনের ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে প্রক্টর কার্যালয়ে। নির্যাতনের মুখে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়েছেন ৩ শিক্ষার্থী। 
এদিকে, এসব নির্যাতনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারীরা। নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। 
রোববার (০৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাফসান জানী প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি গত ৫ মার্চ তাকে নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন একই বর্ষের ছাত্রলীগ নামধারী ৩ শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম সুমন ও হাসিব শেখ সাইমুনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী শীর্ষ নেতা গণিত বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মহিউদ্দিন আহমেদ শিফাতের অনুসারী উল্লেখ করে তাদের বিচার দাবি করেন লিখিত অভিযোগে। 
এর আগে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহাজালাল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত আবেদন করে তাকে হত্যার হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই হলের ৪০১৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে ১০০১ নম্বর কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে কোনো কারণ ছাড়াই তার ওপর নির্মম নির্যাতন করে। আবেদনে শান্ত, নওয়াব, রাদ ও সাঈফ নামের ৪ জন সহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। এরা সবাই ছাত্রলীগ নামধারী শীর্ষ নেতা শিফাতের অনুসারী বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত শাহাজালাল। 
শাহাজালালকে নির্যাতনের ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আল সামাদ শান্ত এবং বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তাহমিদ জামান নাভিদকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ওই ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি করে কর্তৃপক্ষ। 
একই দিন বিকেলে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ৪ জন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। তারা বেশ কয়েকদিন শের-ই-বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই হামলার সঙ্গেও ছাত্রলীগ পরিচয়ধারীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। 
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে গত পহেলা মার্চ বিকেলে। ওই নির্যাতনের শিকার হন গণিত বিভাগের ৫ম ব্যাচের জান্নাতুল নওরীন উর্মি। 
তিনি দাবি করেন, মুখেশাধারী বেশ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। তাকে জ্যামিতি বক্সের সূচালো কাটা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গা সহ বিভিন্ন স্থানে কাটা দিয়ে ক্ষত করা হয়। 
নিরাপত্তার অভাবে প্রথম তিনদিন তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয় স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ৪ মার্চ ভর্তি করা হয় শেরে-ই-বাংলা মেডিকেলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন ৫ মার্চ তাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেসরকারি একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন তার পরিবার। 
ওই ছাত্রীকে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরে-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের নারী সার্জারি ইউনিট-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহবুব আলম। 
সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে গেছেন ৩ শিক্ষার্থী। এরা হলো- গণিত দ্বিতীয় সেমিস্টারের অনুপম ওয়েদ্দার, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের মো. শাহাজালাল ও গণিত বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এছাড়াও বেশ কিছু শিক্ষার্থী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন। 
এদিকে ক্যাম্পাসে গুজব সৃষ্টি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রোববার সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হলেও মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেয় ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী গণিত বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ শিফাত, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আলীম সালেহী, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের আবুল খায়ের আরাফাত, গণিত বিভাগের সিহাব ও জিহাদ, একই বিভাগের জারিন তসনিম ডায়না এবং আবির হাসান। মানববন্ধনে সম্প্রতি শিক্ষার্থী নির্যাতনের কোন ঘটনার বিচার দাবি না করে বরং সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করাকে অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন তারা।  
 
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি’র (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক। এখনই এর বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তা না হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। এ সময় ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ধিক্কার জানান তিনি। 
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, কোন প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। ঘটনা ঘটেছে বিধায় সেটি গণমাধ্যমে এসেছে। এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষার্থী শাহজালাল ও রাফসান জানীকে নির্যাতনের অভিযোগে ২টি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস। তিনি বলেন, জান্নাতুল নওরীন উর্মির বিষয়ে রোববার (০৮ মার্চ) পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাননি। তবে গণমাধ্যমের খবরের প্রেক্ষিতে উর্মির ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। শাহজালালের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং রাফসান জানীর অভিযোগ প্রক্টোরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের গণমাধ্যম বিরোধী মানববন্ধনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, যে যাই করুক, শিক্ষার্থী নির্যাতনের যেসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি ঘটনায় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop