মুক্তকথা আসুন সমস্বরে আওয়াজ তুলি "Each for Equal"

০৮-০৩-২০২০, ২০:২০

সময় সংবাদ

fb tw
আসুন সমস্বরে আওয়াজ তুলি
অফিস থেকে নারী দিবস উদযাপন করা হবে এই বিষয়ক আলোচনায় আমার এক পুরুষ কলিগকে বলছিলাম নারী দিবসের এবারের থিম কি জানেন! তিনি বললেন কি? আমি উত্তরে বললাম Each for Equal. শুনেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি। বলতে লাগলেন, এটা কি কোনভাবেই সম্ভব! আপনাদের মহিলাদের এরকম চিন্তা চেতনার জন্যই আপনারা এগিয়ে যেতে পারবেন না, নারীবাদীরা সবসময় বেশি বোঝে ব্লা ব্লা। 
বলা বাহুল্য এই কলিগই কিন্তু বিশাল আয়োজন করে, বাজেট করে, ব্যানার, ফেস্টুন করে নারী দিবস উদযাপন করবেন। হয়তো ব্যানার, ফেস্টুনে লিখা ও থাকবে Each for Equal. 
সবই লোক দেখানো কর্পোরেট মজেজা আর কি!!
 Each for Equal অর্থ আসলে কি? খুব সহজ বাংলায় যদি বলা হয় এর অর্থ হলো "প্রত্যেকের জন্য সমান।"
এখন এই প্রত্যেকটা কি, কে বা কারা? এই প্রত্যেকটা হলো জেন্ডার। এই জেন্ডার আবার কি? ইহা খায় নাকি মাথায় দেয়! জেন্ডার হলো আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কর্তৃক নির্মিত নারী এবং পুরুষের মধ্যকার ব্যবধান। আমরা বলছি Gender is equal.A man has the right to do whatever he wants, a woman has the right to do so.
আমাদের সমাজ ঠিক করে দিয়েছে একজন নারী পরিধান করবে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ আর পুরুষ পরিধান করবে শার্ট, জিন্সের প্যান্ট, লুংগি, হাফ প্যান্ট। কিন্তু এগুলো একজন নারী পরিধান করলেই নারী হয়ে যায় চরিত্রহীন। ধর্ষণ করা তখন পুরুষতান্ত্রিক পুরুষদের জন্য জায়েজ হয়ে যায়। কারণ এই নারী জিন্স পরেছে, শার্ট পরেছে তার শরীর বোঝা যাচ্ছে। পুরুষের মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। কিন্তু হাজারো পুরুষ হাফ প্যান্ট আর আঁটোসাঁটো গেঞ্জি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে নারীর কিছু হয় না বাট পুরুষের লালা পরে!! তাই বলছি Each for equal.
আবার নারী করবে কেবল ঘরের কাজ, বাহিরের কাজ তার জন্য হারাম। যদিও নারী বাহিরের কাজ করে তবে তাকে ঘর এবং বাহির সামলানোর মত মাল্টি ট্যালেন্টেড হতে হবে। কিন্তু পুরুষ কেবল চাকরি করবে আর অর্থ উপার্জন করবে আর ফুর্তি করবে। এই জায়গায় সমতা আনুন। নারী যেমন ঘরের কাজ করবে পুরুষ ও তেমনি করবে। ভাগাভাগি করেই করবে। ঠিক তেমনি চাকুরীজীবী পুরুষ যেমন সংসারে টাকা দেয় তেমনি চাকুরীজীবী নারীও সংসারে টাকা দিবে। নারী যেমন সন্তানের পরিচর্যা করবে তেমনি বাবা হিসেবে পুরুষও করবে। মা হলেই নারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে সন্তান পালন করবে আর পুরুষ বাবা বগলদাবা দিয়ে ঘুরে বেড়াবে তা হবে না। দুজনকেই সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে হবে। মাকেই কেন একলা অফিস থেকে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ফিরে ছোট্ট সন্তানের ডায়পার পরিবর্তন করতে হবে??? কেন বাবারা এটা করতে পারবেনা???
কিন্তু এই বাবাই আবার কোন কারণে তাদের ডিভোর্স হয়ে গেলে আমার সন্তান, আমার সন্তান বলে দাবি করে!! এমনকি বাংলাদেশের আইনে ও একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর সন্তানের উপর মায়ের কোন আইনানুগ অধিকার নাই। আমি জাস্ট ভাবতে পারি না কতটা বৈষম্য করা হয় এই ক্ষেত্রে। দশমাস দশ দিন পেটে ধরে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করে পৃথিবীর আলো দেখিয়ে সেই মায়ের নাকি কোন অধিকার নাই তার সন্তানের উপর!! এই ক্ষেত্রে সমতা আনুন।তাই বলছি Each for equal. 
আবার কর্মক্ষেত্রে নারীকে নানানভাবে পুরুষের চাইতে ছোট করে দেখা হয়, ভাবা হয় যেটা তৈরি করেছে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষরা নিজেই।
একটা ঘটনা বলি- চাকরির সুবাদে একটা ভাইভাবোর্ডে থাকার সুযোগ হয়েছিলো কোন একসময়। যেখানে জবটা ছিলো মূলত ফিল্ড পজিশনের জন্য। আই মিন, প্রায় ৩টি ইউনিয়নের দায়িত্ব থাকবে তার উপর যিনি এই জবটা পাবেন। যোগ্য কর্মী বাছাই এর ক্ষেত্রে ভাইভাবোর্ডের অনেকের মধ্যেই ভাবনা ছিলো এতগুলো ইউনিয়ন একসাথে দেখা, ফিল্ড ভিজিট যা একজন নারীর পক্ষে সম্ভব নয়।সেই প্রজেক্টের ম্যানেজার তো বলেই ফেললেন, না, আমি কোন রিস্ক নিতে পারবো না কোন নারীকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে। খুব অবাক করা বিষয় শুধুমাত্র একজন নারী তাই তাকে এভাবে ভাবা হচ্ছে!! কিন্তু কেন!! নারী কোন অংশে কম আছে, পিছিয়ে আছে!! একজন পুরুষ যা পারে নারী কেন পারবে না!! এসবে সমতা আনুন একেই আমরা বলছি Each for equal. ঠিক তেমনি এইটা ও বলছি যে নারী কোন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নয়। তাকে এগিয়ে আনার জন্য  আলাদা কোঠা দিয়ে চাকুরী দিতে হবে না। নারী পুরুষের সমকক্ষ। একজন পুরুষ যদি আপনার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে থাকতে পারে তেমনি নারী ও পারে। নারী তার যোগ্যতার বলেই আপনার ঐ চাকুরী গ্রহণের অধিকার রাখে। সেই অধিকারই নিশ্চিত করুন এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। 
এই সমাজের ধারক বাহক আপনারা। 
আমি ঘরে যদি আমার ছেলে সন্তানকে মাছের মাথা দেই তাহলে যেনো আমার মেয়েটাকেও দেই। পরিবারে ছেলে সন্তানকে যদি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখি তাহলে যেনো পুরুষ সন্তানের ক্ষেত্রে ও দেখি। পোলা বংশের বাত্তি আর মাইয়া অন্যের ঘরের বান্দি তা যেনো না ভাবি। এই জায়গায় সমতা আনুন। আওয়াজ তুলুন Each for equal. 
আপনি ঘরের বউ আপনি যদি আপনার স্বামীকে মাংস ভাত খেতে দেন তাহলে নিজেও যেনো খেতে পারেন কিংবা খান সেইটা ভাবুন। আপনার স্বামী অসুস্থ হলে যেমন সেবা পাবার অধিকার আছে তেমনি আপনি স্ত্রী আপনার ও আছে সেই দিকে সমতা আনুন। তাই বলছি Each for equal. 
Each for equal এটি অনেক বেশি প্রয়োজন নারীর আর্থ-সামাজিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য।
 একজন পুরুষ অতি সহজেই রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন, চাইলেই যেকোনো ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু একজন নারী যদি ঠিক করেন তিনি রাজনীতি করবেন কিংবা কোন ব্যবসা করবেন তাহলে তাকে পরিবার, সমাজ থেকে শুরু করে নানান জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি শত বাধা পেরিয়ে যদি নারী শুরু ও করেন তবুও তার চলার পথ এতোটা মসৃণ নয়। বাবাকে বলেছি আর ৫ বছর চাকুরী করার পর আমি ব্যবসা করতে চাই। বাবা আমার দিকে ৫মিনিট হা করে তাকিয়ে ছিলেন। আর মা তো বলেই ফেললেন মাইয়া তার গোল্লাই গেছে। একটা সরকারি চাকুরী জোগাড় করতে তো পারেইনি উপরুন্ত এখন এনজিও এর চাকুরী ও পাচ্ছেনা তাই নাকি ব্যবসা করার ফন্দি আঁটছি। কথা আর বাড়াইনি। ভেবেছি ৫ বছর পরের কথা সেই সময়েই না হয় দেখা যাবে। 
আমাদের সমাজের এরকম হাজারো নারী আছে যাদের ব্যবসা করতে চাইলে নানান প্রতিবন্ধকতা সামনে আসে। এমনকি ব্যাংক লোন নিতে গেলেও নারীকে নানা হ্যাপা পোহাতে হয়। এই গ্যারান্টার, সেই গ্যারান্টার, আপনার স্বামী কি করে, বাবা কি করে হাজারো প্রশ্ন?? আর একা নারী হলে তো কথায় নেই!! এই ক্ষেত্রে সমতা আনুন। তাই বলছি Each for equal.
আর রাজনীতিতে নারী! আজ থেকে খুব পিছনে নয় এইতো সেদিন যখন জবি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম মাত্র একজন মেয়েকে দেখেছিলাম সক্রিয় রাজনীতি করতে। যদিও এখন নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়ার মত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী হলেও রাজনীতিতে নারীর যাত্রাপথ যে খুব বেশি মসৃণ নয় তা চোখ কান খোলা রাখলেই বুঝতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তা শাহাবাগ আন্দোলন থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই চোখে পড়ার মত। এই ক্ষেত্রে সমতা আনুন। বলুন, আওয়াজ তুলুন Each for equal.
আপনি একজন নারী সাংবাদিক আপনি চাইলেই রাত ১২টায় সংবাদ সংগ্রহে যেতে পারবেন না। কারণ আমাদের সমাজে একজন পুরুষের রাত ১২টায় কিংবা গভীর রাতে রাস্তায় ঘোরার কিংবা যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকারই বলি তা নেই। কারণ রাষ্ট্র সেই অধিকার আপনি নারী আপনাকে দেয়নি। আপনি একজন নারী অতি জরুরি প্রয়োজনেও যদি রাতে বাহিরে বের হোন আপনি যদি ধর্ষণের শিকার হোন আপনাকে প্রশ্ন করা হবে আপনি কেন এত রাতে বাহিরে গিয়েছিলেন কিন্তু পুরুষ ধর্ষক কেন এতো রাতে বাহিরে এই প্রশ্ন কেউই করবেনা??? এই ক্ষেত্রে সমতা আনুন। আওয়াজ তুলুন Each for equal.
অতি উত্তরাধুনিকতার এই যুগে নারী আজ অনেক এগিয়ে। নারীকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নাই। নারী পিছিয়ে আছে তাকে এগিয়ে আনতে হবে আপনাদের (পুরুষদের) জাতে তুলতে হবে এই ভাবনা আর নয়। ছোট এই জীবনের অভিজ্ঞতায় বলবো নারী আজ চকুরি করছে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট সবক্ষেত্রেই নারীর পদচারণা আছে। কিন্তু কর্পোরেট জগত, এনজিও ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীরা এখনো নারীকে তাদের যোগ্য, সম কম্পিটেন্ট ভাবতে পারে না। এমন একখান ভাব যেনো তাদের সংস্থায় ৫০% নারী কোঠা পূরণ কর‍তে হবে নইলে ডোনার ফান্ড দিবে না তাই নারী তোমারে চাকুরী দিয়েছি। প্লিজ এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন। নারীরা পারে, সব পারে! যা অনেকক্ষেত্রে আপনি পুরুষ পারেন না! তাই বলছি Each for equal.
আসুন সকলে মিলে আওয়াজ তুলি Each for equal.
মননে, মগজে, চিন্তায় বিশ্বাস করি Each for equal চর্চায় পরিবর্তন আনি। কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করি Each for equal. 
গড়ে তুলি নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ।
 বিদ্রোহী কবির সুরে বলে উঠি,
"এ বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি কল্যাণকর
অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"
লেখক: উন্নয়ন কর্মী ও গবেষক।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop