মহানগর সময় যে আশায় বেঁচে আছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কিশোর শঙ্কুর মা

০৩-০৩-২০২০, ০৯:৩৯

রতন সরকার

fb tw
যে আশায় বেঁচে আছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কিশোর শঙ্কুর মা
৭মার্চ রেসকোর্স ময়দান। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে যে শহীদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে অ্যাসেম্বিলিতে না যাবার ঘোষণা দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যে মায়ের শূন্য বুকের হাহাকার তাঁকে শক্তি দিলো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ঘোষণার, সেই শহীদের খোঁজ কেউ রাখেনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ‘প্রথম শহীদ’ হিসেবে সন্তানের স্বীকৃতিটুকুর আশায় আজও বেঁচে আছেন সেই মা। বয়ে চলেছেন শতবর্ষী জীবনের ভার।
এক দিনে সৃষ্টি হয়নি সেই ৭ মার্চের প্রেক্ষাপট। ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যত্থান আর ৭০-এর নির্বাচনসহ শত-সংগ্রাম ভিত্তি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের। কিন্তু কিছু ঘটনা তো ছিলো যা বঙ্গবন্ধুকে দাঁড় করিয়ে দেয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হবার।
ঐতিহাসিক সেই ভাষণের পরতে পরতে প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ভাষণটি শুরু করেছিলেন ভরাক্রান্ত মন নিয়ে হাজির হবার কথা দিয়ে। আজ আর কেউ প্রশ্ন করে না কোন ঘটনায় সেদিন মন খারাপ ছিলো স্বাধীনতার মহানায়কের?
বিশ্বের ইতিহাসে স্থান করে নেয়া ভাষণটি বিশ্লেষণ করলে অন্য কয়েকটি শহরের সঙ্গে রংপুরের নামটি পাওয়া যায়।   
এক পর্যায়ে ২৫ তারিখে অ্যাসেম্বিলি কল করার কথা বললেন পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা শেখ মুজিব। বললেন, রক্তের দাগ শুকায় নাই, ওই শহীদদের রক্তের উপর পাড়া দিয়ে অ্যাসেম্বিলিতে যোগ দিতে পারে না মুজিবর রহমান।
কোন শহীদের রক্তের কথা বলেছিলেন তিনি?
এহিয়া সাহেবকে পূর্ববাংলায় এসে দেখে যেতে বললেন। বললেন, আসুন, দেখুন কী ভাবে আমার গরীবের উপর, আমার বাংলার মানুষের উপর গুলি করা হয়েছে, আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে …
 
বুক খালি হওয়া সেই মা কী দীপালি সমজদার নন?
ইতিহাসের সত্য হলো, ৩ মার্চ ডাকা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হঠাৎ বন্ধ করেন এহিয়া খান। ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয় বঙ্গবন্ধুর ডাকে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হয় রংপুরে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই মিছিলে গুলি চালায় অবাঙ্গালিরা। ঘটনাস্থলে বুকে গুলি লেগে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার। সে সময় শঙ্কু স্থানীয় কৈলাশরঞ্জন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো।  শঙ্কুর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ রংপুরের আরও দু’জনের মৃত্যু হয় ৩ মার্চ বিকেলে। একই দিন বিকেলে রাজধানীর মৌচাক মোড়ে শহীদ হন কলেজ ছাত্র ফারুক ইকবাল।
কিশোর শঙ্কুর মৃত্যু শহীদী স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু প্রথম শহীদের স্বীকৃতিটুকু মেলেনি। তার স্মরণে কিছু করার বা গড়ার অবকাশ এখনও মেলেনি কারও।
সারাটা জীবন দীপালি সমজদার তার সন্তানের স্মৃতির স্মারক হিসেবে একটা স্মৃতিস্তম্ভের দাবি করে আসলেও পাননি। এখন সে চাওয়ার শক্তি কেড়ে নিয়েছে বয়স। শতবর্ষী জীবনের ভার বইতে গিয়ে এখন নিজের চিকিৎসা আর ভাত-কাপড়ের আকুতিটাই মূখ্য হয়ে উঠেছে।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটা দিতে অকাতরে প্রাণ বিলানো কিশোর ছেলেটার প্রতিদান হিসেবে ৩ শতকের একটি বাড়ি দিয়েছে রাষ্ট্র। কিন্তু সেটি পাইয়ে দেয়ার মাসুল হিসেবে বাড়ির অর্ধেক দাবি করেছেন এক সাংবাদিক। সরকারের দেয়া বাড়িটা নিয়ে শঙ্কা এখন মৃত্যুর চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে তার কাছে।
আজ ২০২০ সালের ৩ মার্চ। স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও কী আমাদের বোধ জাগ্রত হবে না?

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop