মুক্তকথা শিশু আইন মানছেন না কেউই

০১-০৩-২০২০, ১৭:০১

আরিফ রহমান শিবলি

fb tw
শিশু আইন মানছেন না কেউই
বাংলাদেশে গত এক বছরে র‍্যাব ও পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার দেখানো হয়েছে অসংখ্য কিশোর-কিশোরীকে। আমি একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার শিশু আইন করে। সেখানে স্পষ্ট লিখা আছে, শিশু-কিশোর অপরাধীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই যেন পোশাক পরে গ্রেফতার না করে। এমনকি বিচারক ও আইনজীবীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, ভয় পায় এমন আচরণ না করার জন্য। মানা হচ্ছে কি কোথাও? শিশু আইন ২০১৩-তে এই ব্যাপারে বলা হয়েছিলো, (১) আদালতকক্ষের ধরন, সাজসজ্জা ও আসন বিন্যাস বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে। (২) শিশু-আদালতের আসন বিন্যাস এমনভাবে করিতে হইবে যেন সকল শিশু বিচার প্রক্রিয়ায় তাহার মাতা-পিতা বা তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ বা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা বর্ধিত পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তা ও আইনজীবীর, যতদূর সম্ভব, সন্নিকটে বসিতে পারে। (৩) উপ-বিধি (১) এর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিয়া আদালতকক্ষে শিশুর জন্য উপযুক্ত আসনসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য, প্রয়োজনে, বিশেষ ধরনের আসন প্রদানের বিষয়টি শিশু-আদালত নিশ্চিত করিবে। (৪) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত কর্তৃক শিশুর বিচার চলাকালীন, আইনজীবী, পুলিশ বা আদালতের কোন কর্মচারী আদালতকক্ষে তাহাদের পেশাগত বা দাপ্তরিক ইউনিফরম পরিধান করিতে পারিবেন না।
কিন্তু বাস্তব চিত্র কেউই শিশু আইন আদালতে মানেন না। একজন শিশু মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমি নিজেও আদালতের পাশাপাশি বেশকিছু থানায় গিয়ে চমকে গিয়েছি! সাধারণ কয়েদীর সাথে ১২ থেকে ১৬ বছরের শিশু, কিশোর-কিশোরীকে রাখা হয়। ২০১৩ এর সেই শিশু আইনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যেক থানায়, সাব-ইন্সপেক্টর এর নিম্নে নহেন এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানক্রমে, একটি শিশুবিষয়ক ডেস্ক গঠন করিবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন থানায় মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর কর্মরত থাকিলে উক্ত ডেস্ক’এর দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাহাকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশুবিষয়ক ডেস্ক’ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে অভিহিত হইবেন।
আমি নিজে দেশের অসংখ্য থানায় গিয়ে দেখেছি গত ৭ বছরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। কারণ! এইগুলো দেখার সবাই আনন্দ ভ্রমণ বা নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আদালত গিয়েও আমি দেখেছি আইনজীবীরা শিশু বা কিশোর-কিশোরীদের সামনে নিজ নিজ এপ্রোন পরে ঘোরাফেরা করেন বা এইসব মামলা পরিচালনা করেন, কিন্তু কেন? দেখার কি সত্যি ই কেউ নাই? ২০১৩ শিশু আইনে বলা হয়েছে, শিশু, কিশোর-কিশোরী ছবি তার বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার অপরাধ। অথচ! র‍্যাব ও পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগ নিয়মিত হাজির করছেন সাংবাদিকদের সামনে। এমনকি তাও সরাসরি সম্প্রচার করা হয় অনেক সময়। আমি প্রশ্ন করতে চাই, ২০১৩ শিশু আইন কি পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী'র অফিসারা? 
চারমাস আগে এক প্রতিবেদনে দেখানো হয় ডিভোর্স হয়ে গেছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ কেউ দায়িত্ব নিতে রাজী নয়, কিন্তু সেখানেও শিশু'র ছবি প্রকাশ করা হয় বেশকিছু গণমাধ্যমে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের পোশাক পরে আদালতে দেখা যায়। এইগুলো কি অপরাধ যুক্ত থাকা নয়? আমি তা জানতে চাই সব মহলের কাছে! শিশু আইন ২০১৩ শিশু আইনে বলা হয়েছে, একজন পুলিশ অফিসার কখনো যেন ভীত হয় এমন আচরণ না করে কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে চিত্র ভিন্ন। কারণ! এইগুলো দেখার কেউ নাই। ২০১৩ শিশু আইনে বলা হয় উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন। অথচ! আমার ব্যক্তিগত অনুসন্ধান বলছে, বেশীরভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য তা করেন না আর করলেও অবহেলা থাকে। 
লেখক: প্রধান নির্বাহী, কিডস মিডিয়া ও সদস্য, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop