বাংলার সময় আলো ছড়াচ্ছে রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী-অটিস্টিক বিদ্যালয়

২৬-০২-২০২০, ২০:১৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি

fb tw
আলো ছড়াচ্ছে রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী-অটিস্টিক বিদ্যালয়
অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে যখন হতাশ তাদের অভিভাবকরা ঠিক সেই সময়ে শিক্ষার আলো দেখাচ্ছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি। যেসব প্রতিবন্ধী আগে স্পষ্ট করে কথা বলতে পারত না, পারত না লিখতে, চিনত না বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা, তারাই এখন অনেকটাই কথা বলতে পারে ও লিখতে পারে, চেনেন বর্ণমালা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও তারা এখন অনেকটাই সচেতন ও বুদ্ধিমতি। 
দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে অবস্থিত রসুলপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি। এই বিদ্যালয়টি  উপজেলা শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে (কাহারোল-বলেয়া বাজার) যাওয়ার পাকা রাস্তা সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছে ২০১৩ সাল নাগাদ এবং ২০ শতাংশ জমির উপর। এই প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ কান্ত রায়। আর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করে আসছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল এর প্রতিষ্ঠান দীপ্ত জীবন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। 
এই প্রতিষ্ঠানটিতে ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। আর প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছেন ১৫২ জন। শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন দুপুরে খাওয়ারও ব্যবস্থা করেছেন বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের আলোর মুখ দেখাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র দেবনাথ ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। যার অর্থদাতা ছিলেন ইউপি সদস্য সারদা কান্ত রায়। 
সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কেউ হাঁটতে পারে, কেউ পারে না। আবার কেউ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে। কারো হাত বাঁকা, কারো পা বাঁকা আবার কেউ সঠিকভাবে কথাও বলতে পারে না। এসবের পরেও আরো কয়েকজন আছে যারা মা-বাবার কোলে আসা-যাওয়া করে। এসব শিশু যাতায়াতের জন্য নিজস্ব ৩টি ইজিবাইকও রয়েছে। জানা গেছে, বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুরা ভর্তি হওয়ার পর থেকে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবন। এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক-কর্মচারীর আন্তরিকতায়। নিজ পরিবারেও যাতে এসব শিশু অবজ্ঞা কিংবা অবহেলার শিকার না হয় সে জন্যও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর মা নীলা রানী জানান, তার মেয়ে একজন প্রতিবন্ধী। আগে লিখতে পারত না। বর্তমানে সে লিখতে পারে, পড়তে পারে। দিন দিন তার অনেক উন্নতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার প্রতিবন্ধী সন্তানকে বোঝা মনে করি না। তাকে নিয়মিত স্কুলে নিয়ে আসি। শত কষ্ট হলেও তাকে মানুষের মতো মানুষ করে তুলব। প্রধান শিক্ষক মোছা. মৌসুমী আক্তার বলেন, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা অনেক কষ্টের, তবুও আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি ওদের শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে। দিন দিন তাদের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে।
 
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের অনেক উপকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন শিশুদের মিড ডে মিল অর্থাৎ দুপুরের খাওয়া দেয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানাই। আর অন্যান্য স্কুলের থেকে এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি। এখানে শিক্ষকরা এই শিশুদের যত্নসহকারে পাঠ দান করান। আশা করছি বিদ্যালয়টি ও বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা ভাল করবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop