মুক্তকথা গাছ লাগান আনোয়ার, ফল খান মাহাথির!

২৫-০২-২০২০, ২১:৫৯

পলাশ মাহমুদ

fb tw
গাছ লাগান আনোয়ার, ফল খান মাহাথির!
মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ২০০৩ সালের পর থেকে বারবার ভেলকিবাজি দেখাচ্ছেন মাহাথির মোহাম্মদ বা ‘ডক্টর এম’। প্রায় দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৩ সালে সরে দাঁড়ান। নিজের শিষ্য ও বিশ্বস্ত অনুসারী নাজিব রাজাককে ক্ষমতায় বসান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের গড়ে তোলা রাজনৈতিক দল ও অনুসারীর সঙ্গ ত্যাগ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে হাত মেলার ‘পুরনো শত্রু’ আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে।
২০১৮ সালের আগে মাহাথিরের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড মালায়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ও রাজনৈতিক জোট বারিসান ন্যাশনালের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আনোয়ারের রাজনৈতিক দল প্রিবুমি বেরসাতু মালয়েশিয়া ও জোট পাকাতান হারাপান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভেলকি দেখিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন মাহাথির। তাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের আগে মাহাথির বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবেন না। আনোয়ার ইব্রাহিমকে ক্ষমতায় এনে বিদায় নেবেন। তবে সমালোচকদের ধারণা ছিল, ক্ষমতা পেলে বদলে যেতে পারেন এই ঝানু রাজনীতিবিদ। সেই ধারণাই সত্য হয়েছে। আবারও ভেলকিবাজী দেখালেন তিনি। আনোয়ারকে মস্তবড় ফাঁদে ফেলে নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করলেন। যদি এতে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিজ্ঞজনরা এখন তাকে ক্ষমতালোভী বলতে শুরু করেছেন।
আনোয়ার ইব্রাহিমের এক সময়ে গুরু ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। গুরু শিষ্যের আপ্রাণ চেষ্টায় ১৯৮১ সালে ক্ষমতায় আসে দল ইউনাইটেড মালায়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। প্রধানমন্ত্রী হন মাহাথির মোহাম্মদ। কিন্তু ধীরে ধীরে দলের মধ্যে শক্তিশালী হয়ে ওঠে আনোয়ার ইব্রাহিম। মাহাথিরের পরে অবসম্ভাবী হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে বরখাস্ত করেন মাহাথির। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ। নেয়া হয় কারাগারে। গুরু-শিষ্যের এই বিচ্ছেদ থেকে শুরু হয় আনোয়ারের একক সংগ্রামী জীবন।
প্রায় ২০ বছর সংগ্রাম করে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলেন আনোয়ার। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আনোয়ারের দল প্রিবুমি বেরসাতু মালয়েশিয়া ও জোট পাকাতান হারাপান এগিয়ে থাকে। এমন সময় মাহাথির বিরোধী রাজনীতির জনপ্রিয়তার মুকুটটি নিজের মাথায় পরিয়ে নেন। আনোয়ারের ২০ বছরের লাগানো গাছের ফল ভোগ করতে শুরু করলেন মাহাথির। এতো কিছুর পরও নিজের প্রতিশ্রুতি রাখলেন না এই প্রবীণ রাজনীতিক।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে শুরু করেন টালবাহানা। নিজের প্রতিশ্রুতি বেলামুল অস্বীকারও করেছেন তিনি। কিন্তু আনোয়ারের রাজনৈতিক জোটে এই অবস্থায় থাকতে পারছিলেন না। ভিতর থেকে প্রচন্ড চাপ ছিল মাহাথিরের ওপর। আনোয়ারের কাছে প্রধানমন্ত্রী হস্তান্তরের পক্ষেই  ছিল দলের বেশিরভাগ সদস্য। তাই আবারও ভেলকিবাজীর আশ্রয় নিলেন মাহাথির। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নাটকীয়ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেন। তবে এবার ফিরে এলেন আগের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে।
এই পদত্যাগ ভেলকি দেখানোর আগে ফিরে আসার সব পথ তৈরি করে রেখেছিলেন। ফলে তাকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া যেমন মালয়েশিয়ার রাজার কোনো উপায় নেই, তেমনি আনোয়ারেরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই। সোমবার মাহাথিরের পদত্যাগের আগে রোববার ক্ষমতাসীন জোটে আনোয়ারের প্রতিদ্বন্দ্বীরা ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা কুয়ালালামপুরে কয়েকদফা বৈঠক করেন। খবর রটে যায়, নতুন একটি জোট গঠন হচ্ছে এবং সেটির কুশিলব মাহাথির। এমনটি হলে আনোয়ারের পক্ষে একক সরকার গঠন সম্ভব হবে না। ফলে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এজন্য বাধ্য হয়ে মাহাথিরকেই আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আনোয়ারের দল ও জোটের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। কিন্তু তিনি এমন ফাঁদ পেতেছেন যাতে তাকে ছাড়া আনোয়ারের পক্ষে আর সরকার টেকানো সম্ভব না। সুতারাং আনোয়ার যদি তার গাছ বাঁচাতে যান তাহলে ফল খাবে মাহাথির। আর আনোয়ার ফল খেতে চাইলে গাছটিই হারাতে হবে।
লেখক: পলাশ মাহমুদ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক, সময় নিউজ।
palashmahmudju@gmail.com

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop