ভ্রমণ বিপর্যয়ের মুখে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

২৪-০২-২০২০, ২০:৫৮

বাংলার সময় ডেস্ক

fb tw
বিপর্যয়ের মুখে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো
দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে চলমান দূষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে আগামী প্রজন্ম প্লাস্টিক আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। নদী ও সমুদ্র দূষণ করলে খাবার পানিও পাওয়া যাবে না। তাই দেশের পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের আগে সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড মিলনায়তনে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড ইকো ট্যুরিজম শীর্ষক কর্মশালায় পর্যটন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা এ কথা বলেন। সমুদ্র বিষয়ক পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ আওয়ার সি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং মেরিন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (প্ল্যানিং) সোলায়মান হায়দার বলেন, পরিবেশগতভাবে সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। পরিবেশ রক্ষায় কেউ নিজের দায়িত্ব পালন করে না। হোটেল মালিকরা ও দোকানদাররা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো ভাবে করে না। কিন্তু ব্যবসা করবে অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করবে না এটা কিভাবে হয়?। এমনকি রেসপন্সিবল বিহেভিয়ার বিষয় পর্যটকরাও সচেতন না থাকায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সময় পর্যটকরা পাখিকে চিপস খাওয়ানো নামে প্যাকেটটা নদীতে ফেলে দেয়। এমনকি সেন্টমার্টিন এর বীচে পর্যটকরা গিয়ে সাইকেল বা মোটরসাইকেল নিয়ে নামে। এভাবে বীচ টা নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কেন আমরা জাহাজ থেকে পানিতে বর্জ্য ফেলবো?। কেন আমরা জাহাজ- হোটেল মালিকরা বর্জ্য পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করব না? এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে পারে না। যদি এভাবে চলে তাহলে এর ভয়াবহতা অনেক বড় হবে। এভাবে চলতে থাকলে সেন্টমার্টিনে আর মাছ পাওয়া যাবে না। এমনকি পানিও থাকবে না। ফলে কারো ব্যবসাও থাকবে না। এজন্য আমাদের সকলের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে, শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক হলে চলবে না।
তিনি বলেন, হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেই। রাতের বেলা আলো জ্বালিয়ে রাখে সেটা এ দীপকে ঘিরে বেঁচে থাকা জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকির হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এটা এখনি বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তারা আদালতে স্টে অর্ডার নিয়ে রাখায় আমরা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
stay home stay safe
তিনি বলেন, এত কিছুর পরেও মনে হচ্ছে হোটেল মালিকরা শুধু ব্যবসা মুখী হয়ে গেছে। তারা পরিবেশ বান্ধব হতে পারেনি, এটা হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন এলাকায় আমাদের সন্তানেরা ময়লা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাবে না এমন কি খাবার পানিও পাবে না।
সেন্টমার্টিনে ইট দিয়ে ঘরবাড়ি করা যাবে না অথচ সেখানে এরকম অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে কিভাবে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কোর্টে গিয়ে মামলা করে স্টে- অর্ডার নেয়ায় আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। তবে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, শিগগিরই এর সমাধান হবে। আমি ব্যবসায়ীদের বলব, কোর্ট থেকে একটা পজিটিভ রায় আসলে একসময় আপনাদেরকে এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। ফলে আগে থেকে সতর্ক থাকলে ভালো।
বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এস এম জহির উদ্দিন আকন বলেন, দেশের পর্যটন শিল্প টিকে আছে প্রকৃতির ভিত্তির ওপর। তাই পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে আগে রক্ষা করতে হবে প্রাণ ও প্রকৃতি। বিশেষ করে সাগরে পর্যটন ও সমুদ্র অর্থনীতিতে এগিয়ে যেতে হলে সমুদ্রের ইকোসিস্টেম ধরে রাখতে হবে। সমুদ্রের প্রাণীদের তাদের পরিবেশে বাঁচতে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্রান্ডিং বাংলাদেশের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা আসিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত যেকোনো ধরনের পণ্যে 'মেড ইন বাংলাদেশ' লেখা থাকে না। এজন্য আমরা ব্রান্ডিং বাংলাদেশ নামে এ সংগঠনের করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের প্রধান টার্গেট ছিল প্রতিবন্ধী মানুষকে সমুদ্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। আমরা চিন্তা করেছিলাম প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে তিনজন করে প্রতিবন্ধী লোককে রেখে দেওয়া যারা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোর এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মেজবাউল আলম বলেন, সমুদ্র এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ পরিস্থিতির জন্য জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। এসব স্পটে পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা অনেক সময় এটা কে গুরুত্ব দেই না। প্রয়োজনে এই বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে স্থান দিতে হবে। গণমাধ্যমকেও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো দরকার। এক্ষেত্রে বিশেষ করে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাছাড়া আমরা সমুদ্র সম্পদের ব্যাপারে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নই।
সেভ আওয়ার সি'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল হকের পরিচালনায় কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পর্যটন গবেষক মোখলেসুর রহমান, মেরিন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্কের সভাপতি মাহমুদ সোহেল প্রমুখ।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop