বাংলার সময় বাংলাভাষীরা ‘সংখ্যালঘু’ বাংলাদেশের যে শহরে

২৩-০২-২০২০, ০১:৪২

রতন সরকার

fb tw
বাংলাভাষীরা ‘সংখ্যালঘু’ বাংলাদেশের যে শহরে
বাংলার পরিবর্তে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু মানবে না বলে রাজপথে রক্ত ঢেলেছিলো বাঙালি। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য শুরু হওয়া সেই আন্দোলন সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে শেষ হয় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের শহর সৈয়দপুরে দারুণ প্রতাপ নিয়ে বিকশিত হয়েছে উর্দু। বায়ান্ন ও একাত্তরে পূর্ব-পশ্চিমের বিভাজন রেখা স্পষ্ট হয়ে গেলেও বাংলা এই শহরের সংখ্যালঘু মানুষের ভাষা। 
একদিন বিকেলে গোলাহাট বধ্যভূমির পাশে রেললাইনের ওপর বসে জটলা করা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ১৯৭১ সালে ঘোর যুদ্ধের সময় ভারতে পাঠানোর কথা বলে ট্রেনে করে এখানে এনে প্রায় চারশ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করেছিল পাকবাহিনী। 
শীতের পড়ন্ত বিকেলে বয়স্ক নারী-পুরুষ ঢলে পড়া সূর্যের উত্তাপ নিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসেছে। সঙ্গে আসা কিছু ছেলেমেয়ে খেলাধুলা করছে। এই শহরটি অবাঙালি অধ্যুষিত। বাঙালিদের একটা অংশ থাকলেও সবাই কথা বলে উর্দুতেই। তবে চেহারা দেখে বোঝার উপায় নাই কে বাঙালি আর কে বাঙালি নয়। তাই অনুসন্ধিৎসা থেকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম। এখানে বাঙালি কেউ নাই?
উত্তরে বেশ কয়েক জনই বলে উঠলেন, ম্যায় বংগালি হু (আমি বাঙালি)। 
নিজেকে ‘ম্যায় বাঙালি হু’ দাবি করলেও বাংলায় আর তেমন কিছুই বলতে না পেরে অনেকটা বিব্রত হয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। 
 
বাংলা ভাষার এই অপভ্রংশ এক দিনের নয়। ইংরেজ আমলে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে ঘিরে এই শহরে উর্দুভাষীদের গোড়াপত্তন। যা এখন প্রবল প্রতাপে ক্রমবিকাশমান। আর এর দায় নির্বচনকেন্দ্রিক রাজনীতির ওপর চাপিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। 
সাংবাদিক কাজী জাহিদ বলেন, সংখ্যার পাশাপাশি এখন তারা আর্থসামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। ভোটার হিসেবে রাজনীতিতেও তাদের গুরুত্ব অপরিসীম। 
উর্দুকে চাপিয়ে দিতে পাকিস্তানিরা বাঙালির রক্ত ঝরালেও, স্বাধীন বাংলাদেশে উর্দ্দু ভাষা-সংস্কৃতি বিকাশের স্বাধীনতায় ‘অন্যরকম’ সৌন্দর্য দেখছেন অনেকে। পাশাপাশি বাঙালির একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ায় পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শণের দায় বাংলাদেশের ওপর বর্তায় বলে অভিমত অনেকের। আর সেটি উর্দু হলেও। 
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদের মন্তব্যও সে রকম।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদল বলেন, একটা সময় বাঙালি-বিহারির (অবাঙালি) মধ্যে দূরত্ব ছিলো। তারা বরাবরই আওয়ামী লীগ বিরোধী ছিলো। নৌকায় কখনোই ভোট দেয়নি। কিন্তু এখন অনেকেই আওয়ামী লীগ করেন। ভালো ভাবেই করেন, নেতৃত্ব পর্যায়েও আছেন অনেকে। 
বাঙালি-অবাঙালির দূরত্ব ঘোঁচানোর ফলস্বরূপ এক বার তার নিজের মেয়র নির্বাচিত হওয়া এবং সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জের ওই আসনটিতে নৌকার বিজয়কে বড় উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। 
অবাঙালিদের সমর্থনে বার বার এমপি, মেয়র নির্বাচিত বিএনপি নেতা, বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার। অবাঙালিদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের জন্য সবচে নন্দিত ও নিন্দিতও তিনি। বাসায় উর্দু শিক্ষক রেখে ওই ভাষাটি আয়ত্ব করেন বলে অভিযোগ করেন তার বিরোধীরা। তিনি একটি সায়ার (উর্দু কবিতা) শোনালেন-
‘ফুলো সে খুসবু আতি হ্যয়, পাত্তো সে নেহি। 
মুহাব্বত একও সে আতা্, হাজারো সে নেহি।’ 
যার বাংলা করলে দাড়ায়- ফুল থেকে সুবাস আসে, পাতা থেকে নয়। ভালোবাসা একজন থেকে আসে, হাজার জন থেকে নয়। 
তার মতে সৈয়দপুরের মানুষ বাংলা ও উর্দুর সংমিশ্রণে কথা বলে। সেই ভাষাকে ‘উর্বাং’ বলা চলে। 
এ সময় একটি এনাউন্স কানে ভেসে এলো। প্রচারকর্মী ‘এখ খুশ খবরি হ্যায় …’ বলে সুখবর প্রচার করে চলছেন। প্রেসক্লাবের সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেলো উর্দুতে লেখা। কথা হলো সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। মনে হলো প্রসঙ্গটি অনেকের কাছে বিব্রতকর।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop