মুক্তকথা সন্তানকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না?

১৯-০২-২০২০, ২১:৩৪

আফজাল হোসেন

fb tw
সন্তানকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না?
একটা ঘটনা বলি, স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে সেটি নিয়ে মামলা। বাবা-মা ও শিশু আদালতে উপস্থিত। বাবার কোলে শিশুটি। সঙ্গে দাদী। আদালত কক্ষের এক পাশে মা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদছেন। বাবাও সন্তানকে কোলে নিয়ে আছেন। তার চোখেও জল টলমল হয়ে আছে। কোলের ছোট্ট শিশুটি হাতে খেলনা নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন, মাকে দেখে দূর থেকে আম্মু আম্মু বলে ডাকছেন। যেতে পারছে না।
 
আমার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য এটি। মামলাটির শুনানি শেষে বাবা শিশুটি নিয়ে চলে গেলেন। গর্ভধারিনী মা আদালত থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। চোখের জল মুছতে মুছতে আদালত ছেড়ে গেলেন। এক সাংবাদিক হিসেবে তাকে প্রশ্ন করার কোনো সাহস হয়নি আমার। 
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উচ্চ আদালতে এ ধরণের মামলার ঘটনা বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মা এসেছেন আদালতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবা এসেছেন আদালতের বারান্দায়।
সবক্ষেত্রেই আদালত খাস কামরায় বাবা-মাকে ডেকে বিষয়টি সুরাহার পরামর্শ দিয়েছেন। আদালতের কাঠগড়ায় ভরা এজলাসে শুনানি না করে বিচারকের নিজ কক্ষে ফয়সালা করার চেষ্টা করেছেন। উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বিরোধমীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন আদালত। যেসব ক্ষেত্রে সফল হননি সে ক্ষেত্রে সন্তানকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহের তিনদিন বাবার কাছে, চারদিন মায়ের কাছে শিশু থাকবে এভাবে। আর এ বিষয়টি তদারকির জন্য প্রবেশনারি অফিসারও নিয়োগ করতে হয়েছে। এভাবে কি সন্তানকে দেখে মনভরে বাবা-মায়ের। তারপরও আইনের এই জটিল সমীকরণ মানতে হয়। এটাই বাস্তবতা।
আরেকটি ঘটনা বলি, এ ধরণের একটি ঘটনা হাইকোর্ট ঘুরে আপিল বিভাগে গেল। আদালত বাবা-মা ও সন্তানকে হাজির করতে বললেন। নির্ধারিত দিন সবাই হাজির হলেন। দুপক্ষই বড় আইনজীবী নিয়োগ করেছে। আদালত শুনানির দিকে খুব একটা না গিয়ে শিশু দুটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কার কাছে থাকবে? শিশু দুটি উত্তর দিয়েছিল। সেটা নয়, নাই বলি। তবে ছোট্ট শিশুর কাছে এমন প্রশ্ন কতটা ভারী তা হয়তো তারা জানেন না। তখন আমার মনে প্রশ্ন উঠ আমাকে যদি এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাহলে কি উত্তর দিতাম? আপনারা ভাবেন তো কী উত্তর হতে পারে এমন প্রশ্নের?
 
মুসলিম আইন অনুযায়ী, বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক, আর মা হচ্ছেন সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।
আইনের এ বাস্তবতার কারণে অনেক শিশুকে দাঁড়াতে হয় আদালতের সামনে। বাবা-মাকে বাছাই করে নিতে। শিশুটি মানসিকভাবে মারাত্মক আহত হন। অনেক মা-বাবা হয়ত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ বা আইন আদালতের দিকে আসেন না। হয়ত এ সংখ্যাটায় বেশি। বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ দুটিই আইনগত ও সামাজিক চুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে।
সুতরাং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তানের ভবিষ্যতের দিকটাও দেখতে হবে আমাদের। সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছেদের সময় পারস্পারিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সন্তানের বিষয়টি মিটিয়ে ফেলাই উত্তম পন্থা। নানা ইস্যুতে পারস্পারিক দ্বন্দ্বের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তান থাকলে এ বিষয়ে খেয়াল রাখা ভালো। আশা করি কোনো মা-বাবা চান না তার সন্তান বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে তুমি কার কাছে থাকবে? 
 
একজন সাংবাদিক হিসেবে আমিও চাই না কোনো শিশু আদালতের সফেদ বারান্দায় হাঁটুক।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop