ভ্রমণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রামে দেখে আসুন ‘কমলা রাণীর দিঘী’

০৭-০২-২০২০, ২২:০৯

রাশেদ আহমদ খান

fb tw
‘কমলা রাণীর দিঘী’
ছবি: ‘কমলা রাণীর দিঘী’
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইতিহাস ঐতিহ্যের লালনভূমি কিংবদন্তী গ্রামের নাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং। বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে বানিয়াচং খ্যাতি লাভ করেছে। এক সময় বানিয়াচং ছিল প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী। মোগল আমল থেকেই তিলোত্তমা এ গ্রামটি শহর হিসেবে পরিচিত। আজ থেকে শ’ শ’ বছর পূর্বেই বিভিন্ন রূপ কথা ও কাব্যে বানিয়াচং শহর হিসেবে বিধৃত রয়েছে। প্রাচীন লোক সাহিত্যের স্বনামধন্য প্রকাশনা ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র দেওয়ানা মদিনা বিবির সংলাপে বানিয়াচঙ্গ এর উল্ল্যেখ রয়েছে এভাবে, ভাইয়েরে বুঝাইয়া কয়/ তুমি সোদর ভাই/তোমার কাছেতে মোর কিছুই গোপন নাই/তুমি যাও পরানের পুত্র সুরুযেরে লইয়া/কাসেমের খবর এক আনহ জানিয়া/আমার সগল কথা তাহারে বলিবা/তাহার মনের কথা যত সগল শুনিবা/এইনা বলিয়া বিবি পাঠায় তারারে/যাইতে যাইতে গেল তারা বাইন্যাচং শহরে। 
গর্ব করার মতো ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর দেড় লক্ষাধিক লোক অধ্যুষিত এ গ্রামটির দীর্ঘ অবস্থান ভৌগোলিক ধারাকেও পাল্টে দিয়েছে। ‘কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় ১টি ইউনিয়ন’ ভূগোলের এ চিরায়িত ধারাটি বানিয়াচংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ কয়েকটি গ্রাম নিয়ে ইউনিয়ন নয়, কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে বানিয়াচং গ্রামের অবস্থান। ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫ কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এ গ্রামটি ৪টি ইউনিয়ন ও ১২০টি মহল্লায় বিভক্ত। ভৌগোলিক সুদৃঢ় অবস্থানের কারণেই হয়তো প্রাচীনকালে এ গ্রামটি রাজধানী শহর হিসেবে সমাদৃত হয়েছিল। 
তৎকালীন রাজা বাদশারা তাদের রাজধানী শহর বানিয়াচংকে সু-সজ্জিত করার জন্য এ গ্রামের প্রভূত উন্নয়নসাধন করেন। তন্মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য নিদর্শন ছিল প্রজাদের জল কষ্ট নিবারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় দীঘি খনন। এ গুলোর মধ্যে কেশব মিশ্রের প্রপৌত্র রাজা পদ্মনাভ গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে খনন করিয়েছিলেন দেশের সর্ব বৃহৎ দীঘি। যা কমলা রাণীর দীঘি/কমলাবতীর দীঘি হিসেবে সুপরিচিত। ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১ কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট ৬৫ একর জমির উপর খনন করা হয়েছে এ বিশাল দীঘি। এর খননের সাথে ১টি প্রাচীন লোক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। 
প্রচুর শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে দীঘি খননের পরও নাকি পানি উঠছিল না। একদিন রাজা পদ্মনাভ স্বপ্নে দেখলেন, তার স্ত্রী কমলা রাণীকে দীঘিতে বিসর্জন না দিলে জল উঠবে না। অবশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে সতীসাধধী ও প্রজা বৎসল কমলা রাণী প্রজাদের দুঃখ কষ্টের কথা ভেবে আত্মবিসর্জনে রাজি হলেন। নির্দিষ্ট দিনে বিষাদ পূজা সমাপ্ত করে হাজার হাজার প্রজাদের উপস্থিতিতে রাণী কমলা অশ্রুসিক্ত নয়নে চির বিদায় নিয়ে দীঘিতে নামলেন এবং তাকে তলিয়ে জলে ভরে উঠল পানি।