বাংলার সময় করোনা ভাইরাস: ঝুঁকিতে মোংলা বন্দর

০৭-০২-২০২০, ১৯:২৫

মাহমুদ হাসান

fb tw
করোনা ভাইরাস: ঝুঁকিতে মোংলা বন্দর
করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চীনা নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাবিকদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এ বন্দরে। বন্দরে জাহাজে আসা নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নেই যথাযথ ব্যবস্থা। ফলে বিদেশি জাহাজের পণ্য খালাস বোঝাই কাজ করতে গিয়ে নাবিকদের সংস্পর্শে যাওয়া স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশংকা রয়েছে। 
তবে এ ভাইরাস প্রতিরোধে বন্দর জেটিতে নেয়া হয়েছে প্রাথমিক প্রস্তুতি। তবে এ প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। 
মোংলা বন্দর সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে মোংলা বন্দরে ৪ থেকে ৫টি দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আসছে। আর প্রতিটি জাহাজের নাবিকের সংখ্যা থাকে ৩০ থেকে ৪০ জন। সেই হিসেবে এ বন্দরে প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক বিদেশী নাগরিকের আগমন ঘটে। অপরদিকে পণ্য খালাস বোঝাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ দিন। 
বর্তমানে এ বন্দরে ১৮টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এ সকল জাহাজে রয়েছেন চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এ ছাড়া মোংলা ইপিজেড ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পে কাজ করছেন অসংখ্য চীনা নাগরিক। 
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল জানান, বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর পণ্য খালাস বোঝাই কাজে যেতে হতে হচ্ছে এজেন্ট, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় শ্রমিকদের। প্রয়োজনের তাগিদে তাদের বিদেশি নাবিকদের সংস্পর্শে যেতে হচ্ছে। 
তিনি জানান, বন্দরে আসা বিদেশি নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। এ ক্ষেত্রে বিদেশি নাবিকদের মাধ্যমে দেশীয় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের আরও আধুনিকায়নসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।
জানা যায়, শুধুমাত্র বন্দর জেটিতে আসা জাহাজে যাতায়াতকারী শ্রমিক ও বিদেশি নাবিকদের স্বাস্থ্য স্ক্যান করা হয়। কিন্তু বহির্নোঙ্গরে থাকা জাহাজের নাবিক ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না। স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল সংকট রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়াও অহরহ বিভিন্ন প্রয়োজনে চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাবিকরা প্রয়োজনীয় কাজে লোকালয়ের হাট বাজারে আসছেন। বিশেষ করে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের হাট-বাজারে যাতায়াতে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 
করোনা ভাইরাস আলোচনায় আসায় এখন নামমাত্র নড়েচড়ে বসেছে ডিজি শিপিংয়ের অধিনস্ত স্বাস্থ্য বিভাগ। শুধুমাত্র বন্দর জেটিতে বসানো হয়েছে লেজার ডিটেক্টেট স্ক্যানার। 
এ প্রসঙ্গে মোংলা পোর্ট হেলথ (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়) মেডিকেল অফিসার সুফিয়া খাতুন জানান, তাদের কাছে দুটি লেজার ডিটেক্টেট স্ক্যানার রয়েছে। একটি জেটিতে অপরটি জাহাজে পাঠানো হয়। তবে বহির্নোঙ্গরে আসা জাহাজে স্বাস্থ্য কর্মীরা পৌঁছাতে পারে না। 
এ দপ্তরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বল্প জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাই স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারসহ বিদেশি নাবিকদের সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য। তবে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছাড়ানোর ঝুঁকি ও শংকা রয়েছে। এ অবস্থায় সচেতনতার বিকল্প নেই বলে জানান তিনি। 
মোংলা বন্দর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল হামিদ জানান, বন্দর হাসপাতাল ও মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক দুটি আইসোলেটেট রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা যায় সেই লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি বিভাগের একটি অ্যাম্বুলেন্স। 
জানা যায়, এ সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের আওতাধিন মোংলা পোর্ট হেলথ বিভাগ পরিচালনা করছে। বন্দর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই সকল কার্যক্রম তদারকি করছে মাত্র। 
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডর শেখ ফখর উদ্দিন জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, পণ্য থেকে নয়। তাই প্রাথমিক ভাবে এ বন্দরে আসা চীনাসহ বিদেশি নাবিক এবং নাবিকদের সংস্পর্শে যাওয়া শ্রমিক কর্মচারীদের বন্দর জেটিতে স্ক্যান করার ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া, বন্দরের উন্নয়নমুখী ড্রেজিং প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেস প্রায় অর্ধশত চীনা নাগরিক। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ হলে তারা নিজ দেশে ফিরবেন। তাই এ সময়ের মধ্যে তাদের চীনে যাতায়াতের সম্ভাবনা খুবই কম।
মোংলা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মাদ সেলিম শেখ জানান, মোংলা ইপিজেডে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে অসংখ্য চীনা নারী-পুরুষ কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাগজপত্রের সার্বিক কাজ করে থাকেন দোভাষীরা। তাই কাস্টমসের সঙ্গে চীনা নাগরিকসহ বিদেশী নাবিকদের খুব বেশি সম্পৃক্ততা নেই। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ সমূহে যাতায়াতকারী কাস্টমস পিও-সহ নিজেদের স্টাফ ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সতর্কতা প্রস্তুতিসহ নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে। 
মোংলা ইপিজেডের জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবু আহম্মেদ সিদ্দিক জানান, ইপিজেডের অভ্যন্তরে ৮ থেকে ১০টি চীনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এখানে কাজ করছেন অন্তত ৪০ থকে ৪৫ জন চীনা নাগরিক। আর তাদের এ সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক দেশীয় শ্রমিক। 
তিনি জানান, এখানে অবস্থানকারী চীনা নাগরিকরা নিজেরাই নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। তবে নতুন করে তাদের নিজ দেশে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠান সমূহে কর্মরত শ্রমিকরা সচেতনতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop