অন্যান্য সময় ৩৫ বছর ধরে শেকল তার একমাত্র ‘বন্ধু’, শেকলই ‘শত্রু’

০৪-০২-২০২০, ১৮:২৭

রতন সরকার

fb tw
৩৫ বছর ধরে শেকল তার একমাত্র ‘বন্ধু’, শেকলই ‘শত্রু’
তিন যুগ ধরে শেকলবন্দি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ীর গোলাম মওলা। বাড়ির পাশের ঝোপে ছোট্ট টিনের ছাপড়ায় কৈশোর-যৌবন, আর অসংখ্য শীত-বর্ষা কাটিয়ে এখন জীবনের শেষবেলা তার। ছাড়া পেলেই সে হিংস্র হয়ে ওঠে, তাই মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকটিকে শেকলে বেঁধে রেখে দায়িত্ব শেষ করেছেন সবাই। গত ৩৫টি বসন্তে এই শেকলটি তাই গোলাম মওলার সবচেয়ে বড় বন্ধু আবার সবচেয়ে বড় শত্রুও।
মূলবাড়ির ভেতরে টানা-টানা লম্বা দুটি দোচালা ঘরে পার্টিশন দেয়া খোপ খোপ ঘরগুলোতে বাস করে চার ভাইয়ের পরিবার। মাটি-লেপা পরিচ্ছন্ন বড় উঠানের পশ্চিমে গাছ-গাছড়ার ঝাড়-জঙ্গল। মাথার সিঁথির মতো মেঠো পথ ধরে এগিয়ে যেতেই পায়ে বাঁধা শেকল ধরে প্রাণপণ টানাটানি করতে দেখা গেলো মধ্যবয়স পেরুনো লোকটিকে। শেকলের আরেকটি প্রান্ত বাঁধা মোটা গাছের সঙ্গে। শিকল ছিড়ে মুক্ত হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা তার সফল হয়নি ৩৫ বছর ধরে। শেকলের বৃত্তের ভেতরই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয় তাকে, সেখানেই তার আহার-নিদ্রা। তার কাছাকাছি যায় না কেউ। দূর থেকে লম্বা লাঠি দিয়ে ঠেলে দেয়া হয় ভাতের থালা।   
সরেজমিনে দেখতে গিয়েছিলেন সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক রতন সরকার। শোনা যাক তার মুখ থেকেই। 
সাহস করে কাছে গেলাম। হাত বাড়িয়ে দিতে হ্যান্ডশেক করেন শেকলবন্দী গোলাম মওলা। কেমন আছেন? জানতে চাওয়ায় বিড়বিড়িয়ে শুধু বললেন, চেয়ারম্যানে বান্ধি থুছে …।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুযোগ পেলেই সামনে যা পান তা নিয়ে তাড়া করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালায় লোকজন। তার হাতে আহত হয়েছেন অনেকে। যাদের মধ্যে পরিবারের দুই নারীও আছেন। তার হাত থেকে রক্ষা পায় না গরু ছাগলও। গরু ধরে লেজ কাটা, ছাগলের পা কাটা, ডানা ধরে হাঁস-মুরগী ছিঁড়ে ফেলা ছিলো তার প্রতিদিনের কাজ। তাই বাধ্য হয়েই বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা।
মানবাধিকারকর্মী ও পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বিষয়টিকে মৌলিক অধিকার পরিপন্থী দাবি করে বলেন, মানসিক বিকারগ্রস্ত এই মানুষটি সুচিকিৎসার দাবি রাখেন। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও মনে করেন তিনি।
তুহিন বলেন, সংবিধান স্বীকৃতভাবেই রাষ্ট্রের দায় আছে তার প্রতি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে কোন রকম উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হলে তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, পুলিশ-জনপ্রতিনিধি-হাসপাতালসহ সবখানেই ধর্ণা দিয়েও প্রতিকার সমাধান পাননি। পীরগঞ্জ থানার তৎকালীন এক ইনচার্জের নির্দেশেই কম-বেশি ৩৫ বছর ধরে বন্দী বা শেকল বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে তাকে। আর টানা ২১ বছর একই স্থানে শেকলে বাঁধা আছেন মওলা।
পীরগঞ্জ থানার বর্তমান পরিদর্শক  ‍সুরেশ কুমার সরকার গোলাম মওলার খবর জানেন বলে স্বীকার করেন। কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সদুত্তর পাওয়া যায়নি তার কাছে থেকে।
তবে মাস কয়েক আগে রংপুর জেলার পুলিশ সুপারের পদে যোগ দেয়া বিপ্লব কুমার সরকার অবশ্য বলেছেন, বিষয়টি তার জানা ছিলো না। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop