বাংলার সময় মুখ থুবড়ে পড়েছে মোংলার সাতশো কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প

১২-০১-২০২০, ১৯:০১

মাহমুদ হাসান

fb tw
মুখ থুবড়ে পড়েছে মোংলার সাতশো কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প
মোংলা সমুদ্র বন্দরের প্রবেশদ্বার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ফেয়ারওয়ে বয়ার আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরুতেই অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরের পর চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মোট কাজের প্রায় ২৪ শতাংশ সম্পন্ন করতে পেরেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 
এ অবস্থায় আরও ছয় মাস প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। 
এদিকে আউটার বার এলাকায় চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে শনিবার (১১ জানুয়ারি) পরিদর্শন করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 
পরিদর্শন শেষে রোববার (১২ জানুয়ারি) মোংলা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আঞ্চলিক দেশ সমূহের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আমদনি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চায় সরকার। এ কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমাদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ এ বন্দরের গতি বাড়াতে সরকার বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫০ সালে বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পর এই প্রথম বন্দর চ্যানেলের প্রবেশদ্বার আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে বেশ কয়েকবার এ এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে তা কার্যকরী করতে ব্যর্থ হতে হয়। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ফেয়ারওয়ে বয়ার পশুর নদীর মোহনায় হিরণ পয়েন্ট ১০ নম্বর বয়া থেকে গভীর সমুদ্রের ৫ নম্বর এলাকার হংসরাজ বয়া পর্যন্ত মোট ১১ কিলোমিটার নদীর ডুবোচর ও নাব্যতা কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশ থেকে পণ্যবাহী বড় জাহাজ আগমনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে আসছিল। মাঝে মধ্যে পণ্যবাহী সামুদ্রিক জাহাজগুলোকে এ এলাকার ডুবো চরে আটকে পড়তে হতো। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের চরম ভোগান্তি চলছিল।
এ অবস্থায় শুরু হওয়া ড্রেজিং কার্যক্রম শেষ হলে জাহাজ আগমনে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়বে। সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারবে বলেও জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগের উপ-প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক বজলুর রহমান জানান, হংকং রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি চীনা কোম্পানি মোংলা বন্দরের আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ করছে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেকে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের পর দরপত্রে কাজ পাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানটি সাথে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কর্তৃপক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ফেরুয়ারিতে ডাইক নির্মাণসহ খনন কাজ শুরু করে। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকুল হয়ে যাওয়ায় পরে এ ড্রেজিং কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে এ কাজ আবার শুরু করা হয়। 
তিনি আরও বলেন, ড্রেজিং প্রকল্প শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি  ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট পণ্য বোঝাই করে যে কোন জাহাজ মোংলা বন্দর জেটিতে প্রবেশ করতে পারবে।
এদিকে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোশিয়েসনের সদস্য ও বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল অভিযোগ করে বলেন, বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যে প্রক্রিয়ায় খনন কাজ চালাচ্ছে তাতে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে শতকরা প্রায় ২৪/২৫ ভাগ। এতে করে প্রকল্প শেষ করতে আরো অনেক বেশী সময় লাগতে পারে যাতে করে এর ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop