মুক্তকথা দেশে রক্তের অভাবে বছরে ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু!

০৬-০১-২০২০, ২১:০৫

মাকসুদ রহমান

fb tw
দেশে রক্তের অভাবে বছরে ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু!
সৃষ্টিকর্তার এক বিস্ময়কর দান ‘রক্ত’। মানুষের জীবন রক্ষায় রক্তের কোনো বিকল্প নেই। বেঁচে থাকার এ বিকল্পহীন একধরনের তরল যোজক কলা তৈরির মানব শরীর ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো উৎসও নেই। ফলে অন্যের রক্তের ওপর নির্ভর করতে হয় কোটি কোটি মানুষকে। বিশ্বে প্রতি বছর ১০ কোটি ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন অনেক বেশি।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৩ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রক্ত না পেয়ে মারা যান প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ। প্রয়োজনীয় রক্তের ৩৫-৪০ ভাগ পাওয়া যায় রোগীর নিকটজন থেকে, ১৫-২০ ভাগ স্বেচ্ছাসেবী থেকে ও ১৫-২০ ভাগ পেশাদার রক্ত বিক্রেতা থেকে। বাকি ২০-২৫ ভাগ বা প্রায় ২.৫ লাখ ব্যাগ রক্তের ঘাটতি থেকে যায়। অন্যদিকে পেশাদার বিক্রেতারা যে ১৫-২০ শতাংশ রক্তের যোগান দেন তা অনিরাপদ। ফলে ঘাটতি ও অনিরাপদ রক্তের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ বা প্রায় ৫ লাখ।
বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণ করছে। এর মধ্যে কিছু কেন্দ্রে হেপাপাইটিস বি-সি, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং এইডসের স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। মধ্যে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, বাঁধন, সন্ধানী ও রেড ক্রিসেন্ট অন্যতম। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো শহরকেন্দ্রীক হওয়ায় তৃণমূলে রক্তের ঘাটতি থেকেই যায়। রক্তের ঘাটতি থাকার প্রধান কারণ আমাদের অসচেতনতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, উন্নত বিশ্বে ৪৫ ভাগ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। আর বাংলাদেশ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি হাজারে মাত্র তিনজন রক্ত দেন। বাংলাদেশে ঘাটতি পূরণ ও অনিরাপদ রক্তের ব্যবহার বন্ধ করতে বর্তমানের চেয়ে বছরে মাত্র ৫ লাখ ব্যাগ অতিরিক্ত সংগ্রহ করতে হবে। একজন সুস্থ ব্যক্তি বছরে তিন বার রক্ত দিতে পারেন। এ হিসাবে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে আর মাত্র ২ লাখ মানুষকে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা হিসেবে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এ সমস্যা সমাধান হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাদার রক্তদাতারা বেশির ভাগই মাদকসেবী। মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিয়মিত রক্ত বিক্রি করে থাকে। মাদকসেবীদের রক্ত গ্রহণ করা বিপজ্জনক। এদের রক্তে থাকে হেপাটাইটিস, এইডস, সিফিলিসসহ নানা রোগের জীবাণু। এদের রক্ত নেয়ার পর রোগী প্রাণে বাঁচলেও পরে যে মারাত্মক রোগে ভোগেন; যা রোধের উপায় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন।
দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বিরাট অংশ তরুণ। এ সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামান্য পরিমাণও যদি সচেতন করে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সংগঠিত করা যায় তাহলে নিরাপদ রক্তসঞ্চালনের ঘাটতি দূর হওয়া কঠিন কিছু নয়। অনেক উন্নত দেশ চাকরিজীবীদের রক্ত দিতে বাধ্য করে তার প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সেটি হয় না। সে কারণে তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী প্লাটফর্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো করে রক্ত সরবরাহে কাজ করলে রক্তের অভাবে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করে রোগীদের ভবিষ্যত জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে। না হলে আপনি-আমি বা আমাদের নিটকজন এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নই।
এ পরিস্থিতি নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করতে এবং দুই লাখ রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করতে ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস) এর পক্ষ থেকে একটি অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল ব্লাড ডোনার প্লাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিসিএস এর যুব শাখা ‘কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ’ (সিওয়াইবির) ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে। ওই জনবলের সহায়তায় দেশের সব জেলায় ডিজিটাল ব্লাড ডোনার প্লাটফর্ম এর সাংগঠনিক রূপ দিয়ে রক্তদাতা সংগ্রহ করা হবে। সেখানে ডোনারদের ওয়েব ও অ্যাপভিত্তিক ডাটাবেজ থাকবে। যুক্ত করা হবে প্রবাসীদের ডাটাও। প্রবাসীরাও বিদেশে তাদের প্রয়োজনে এ ডাটাবেজ ব্যবহার করতে পারবেন।
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশজুড়ে দুই লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্লাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব হলে ২০২১ সাল থেকেই রক্তের অভাবে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করে রোগীদের ভবিষ্যত জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে। না হলে আপনি-আমি বা আমাদের নিটকজন এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নই।
এ উদ্যোগের সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে পারবে। নিজে ডোনার হিসেবে বা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করে যুক্ত হওয়া যাবে। আসুন ৫৫ হাজার মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করি। ‘আপনার চেষ্টায় বাঁচিলে প্রাণ, তবেই আপনি মানব-মহান’।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop