খেলার সময় ২০১৯: ক্রিকেটে হতাশার বছর

২৮-১২-২০১৯, ২০:৪৩

মামুন শেখ

fb tw
২০১৯: ক্রিকেটে হতাশার বছর
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটা নিয়ে সারা বছরই আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে বিশ্বকাপের বছরে সমর্থকদের প্রত্যাশার খুব অল্পই পূরণ করতে পেরেছেন টাইগাররা। বরাবরের মতো ২০১৯ সালেও বিদেশের মাটিতে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপাটি এসেছে বিদেশের মাটিতেই। ঘরের মাঠেও লজ্জায় পড়তে হয়েছে এ বছর। সফলতা-ব্যর্থতার পরিমাপ করার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগারদের বছরটা কেমন কেটেছে সেদিকে একটু ফিরে দেখা যাক-
নিউজিল্যান্ড সিরিজ: হতাশার সফর ভীতিতে শেষ
৩টি ওয়ানডে, ৩টি টেস্ট।
জানুয়ারিতে কোনো খেলা ছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের। ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যায় টাইগাররা। আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন আর বাংলাদেশি পেসারদের নিয়ে। তবে পুরো সফরে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নাস্তানাবুদ হয় টাইগাররা। সফরে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টেস্টের সবগুলোতেই হেরে দেশে ফেরেন। ওয়ানডে সিরিজে উড়ে যাওয়ার পর দুই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। তবে হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টে ব্যাটসম্যান বেশ ভালো করেন। কেন উইলিয়ামসনের ২০০*, লাথামের ১৬১ এবং জিত রাভালের ১৩২ রানের কাছে তামিমের ১২৬ এবং ৭৪, সৌম্য সরকারের ১৪৯, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১৪৬ রানের ইনিংসটি কোনো সুখবর বয়ে আনতে পারেনি। ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় টেস্টেও ইনিংস এবং ১২ রানে হারে বাংলাদেশ। 
ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় এবং সফরের শেষ টেস্ট নামার আগে অয়ঙ্কর অবস্থায় পড়তে হয় তামিম, সৌম্যদের। ১৬ মার্চ মাঠে নামার কথা ছিলো দুদলের। ঠিক তার আগের দিন ছিলো শুক্রবার। জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে আল নূর মসজিদ এবং ক্রাইস্টচার্চে লিনউড ইসলামিক সেন্টার ভায়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। নির্বিচার গুলিবর্ষণের ওই ঘটনা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসবাদী হামলা। এতে প্রায় ৫০ জন নিহত হন ও কমপক্ষে ৫০ জনের মত গুরুতরভাবে আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান জুমার নামাজ পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। 
এ ঘটনার পর বাতিল করা হয় ১৬ মার্চের ম্যাচটি। আর বাংলাদেশ দলকেও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। মাঠে হতাশার নিউজিল্যান্ড সফরটি শেষ হয় চরম ভীতিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে।
আয়ারল্যান্ড সফর: মাশরাফিদের ইতিহাস
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড এবং বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ
এপ্রিলের পুরোটা সময় আয়ারল্যান্ড সফরের এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন ক্রিকেটাররা। স্বাগতিক দেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হয় মে মাসের শুরুতে। প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া ছাড়া বাকি তিনটি ম্যাচ জিতেই ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। ফাইনালে কার্টেল ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন সৌম্য সরকার। শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। মাঝে মুশফিক ঝড়। সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাহাড়সম টার্গেট সহজেই পার করে টাইগাররা। আর সপ্তমবারের চেষ্টায় কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ে সফল হয় মাশরাফি বাহিনী।
ডিএল মেথডে ক্যারিবীয়দের দেওয়া ২১০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৭ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। ৪১ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছয়ে ৬৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। ২২ বলে ৩৬ রান করেন মুশফিক। মোহাম্মদ মিঠুন ১৭ রান করে আউট হন দলের রান যখন ১৪৩। সেসময় কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপরই সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ম্যাচের কঠিন সমীকরণটা একাই সহজ করে দেন তিনি। ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের করা ২২তম ওভারে মোসাদ্দেক একাই ২৫ রান তুলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ২০ বলে ৫০ রান করে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি।
৭ বল হাতে রেখেই ২১০ রানের টার্গেট টপকে যায় টাইগাররা। ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেকের ইনিংসটি ২টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে সাজানো ছিল।
বিশ্বকাপ: প্রত্যাশার পাহাড়, প্রাপ্তি শূন্য
বিশ্বকাপের স্কোয়াড: মাশরাফী বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু জায়েদ রাহি, মোস্তাফিজুর রহমান এবং রুবেল হোসেন।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে প্রত্যাশার পাহাড় নিয়ে ইংল্যান্ড যাত্রা। ক্রিকেটের জন্মভূমিতে বসে ১২তম বিশ্বকাপের আসর। ৩০ মে থেকে যা চলে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসের ১১টি ভেন্যুতে হয় পুরো আসর। ২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাশরাফিরা মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ১৬ কোটি বাংলাদেশির আশার পারদ আরা উপরে উঠে যায় যখন শক্তিশালী প্রটিয়াদের ২১ রানে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসানের ৭৫ এবং মুশফিকুর রহিমের ৭৮ রানে ভর করে ৩৩০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৩০৯ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটের হার দিয়ে হতাশার শুরু। কার্ডিফে পরের ম্যাচে টাইগারদের ১০৬ রানে উড়িয়ে দিয়ে প্রত্যাশার ফানুসে সুই ফুটিয়ে দেয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
উপমহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে জয়টা ছিলো প্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দারকারিও। অথচ বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি মাঠেই গড়ালো না। পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই খুশি থাকতে হলো মাশরাফিদের। তবে টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দৈন্য কাটায় টাইগাররা। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারটা অপ্রত্যাশিত ছিলো না। তবে ৩৮১ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে মুশফিক মাহমুদুল্লাহদের লড়াই নজর কাড়ে। ইংলিশ কন্ডিশনে অজি পেসার বিপক্ষে ৩৩৩ রান তোলে বাংলাদেশ। পরিচিত প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে হারাতে অবশ্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি মাশরাফি বাহিনীর। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে ভারত এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে সেমির আশা শেষ হয়ে যায়। ৯ ম্যাচের ৩টিতে জয়, ৫টিতে পরাজয় আর ১টি পরিত্যাক্ত- সব মিলিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৮ নম্বরে থেকে শেষ হয় টাইগারদের বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের নিচে ছিলো শুধু উইন্ডিজ এবং আফগানিস্তান।
দলীয় সাফল্য না আসলে ব্যক্তিগত অর্জনে দেশি বিদেশি দর্শকদের নজর কাড়েন সাকিব আল হাসান। ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান করে আসরের তৃতীয় সর্বাধিক রানের মালিক হন তিনি। তারচেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলা রহিম শর্মা করেন ৬৪৮ রান। আর দুই ম্যাচ বেশি খেলা ডেভিড ওয়ার্নার করেন ৬৪৭ রান। অলরাউন্ডার সাকিবকে অনেকেই ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কারের দাবিদার বলেও বিবেচনা করছিলেন। বল হাতে দলকে সাফল্য এনে দিতে না পারলেও কাটার মাস্তার মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সর্বাধিক উইকেট শিকারিদের তালিকায়। ৮ ইনিংসে ২৪.২০ গড়ে ২০টি উইকেট তুলে নেন তিনি। উইকেট শিকারির তালিকায় জোফরে আর্চারের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় হন তিনি। তবে ইকোনমি রেট (৬.৭০) খুব একটা ভালো ছিলো না। বিশ্বকাপ শেষে আইসিসি ঘোষিত টিম অব দ্যা টুর্নামেন্টেও একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন সাকিব আল হাসান। হতাশার বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত টাইগারদের অর্জন শুধু সাকিবের ব্যাটিংটাই।
শ্রীলঙ্কা সফর: ধবল ধোলাইয়ের লজ্জা
৩টি ওয়ানডে
বিশ্বকাপ থেকে ফিরে দম ফেলার সুযোগ পাননি টাইগারা। জুলাই মাসের শুরুতে দেশে ফিরে মাসের শেষ দিকেই আবার উড়াল দিতে হয় শ্রীলঙ্কায়। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয় ২৬ জুলাই। ৩১ জুলাই শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুদল। বিশ্বকাপের হতাশা শ্রীলঙ্কায় আরো বড় হয়ে দেখা দেয়। ধবল ধোলাই হয়ে দেশে ফেরে মাশরাফি বিহীন বাংলাদেশ।
আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ: ঘরের মাঠে সাদা লজ্জা
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং ত্রিদেশীয় সিরিজ
আগস্টে বিরতি। সেপ্টম্বরে আসবে আফগানিস্তান। প্রস্তুতি চলছে তার। এরমধ্যেই আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়া জিম্বাবুয়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পুরনো বন্ধু বাংলাদেশ। তাদের আমন্ত্রন জানায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি হয়ে যায় ত্রিদেশীয় সিরিজ। কিন্তু তার আগে সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখে টেস্টের নবীনতম দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকের একটি ম্যাচ খেলে টাইগারা। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে যা বড় লজ্জাই বয়ে আনে। টাইগারদের লাকি গ্রাউন্ড চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে আফগানদের ৩৪২ রানের জবাবে মাত্র ২০৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রান তোলে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও রশিদা খান মোহাম্মদ নবীদের কাছে নাস্তানাবুদ হয় বাংলাদেশি ব্যাটাররা। ১৭৩ রানে অলআউট হওয়ায় ২২৪ রানের বিশাল হার মেনে নিতে হয়।
তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে কাটা ঘায়ে কিছুটা মলম লগানোর সুযোগ এসেছিলো। কিন্তু আফগানদের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত হওয়ায় শিরোপা ভাগাভাগি করে নিতে হয়। তার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জয় পেলেও আফগানিস্তারে বিপক্ষে একটিতে জয় এবং একটি ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ।
স্বপ্নভঙ্গের ভারত সফর
৩টি টি-২০, ২টি টেস্ট
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত। তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩ নভেম্বর মুখোমুখি হয় দুদল। সৌম্য, মুশফিকদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে প্রথমবারের  মতো সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের। কিন্তু পরের দুই ম্যাচ জিতে আসার গুঁড়ে বালি ঢেলে দেন রহিত শর্মারা।
টি-২০তে আশাভঙ্গের পর টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে যে দেশগুলো টেস্ট খেলতে চায় না তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচটি খেলেছিলো টাইগারা। কিন্তু ভারতের মাটিতে তারা আমন্ত্রণ জানাতো না। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেই প্রথা ভাঙে। বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানায় ভারত, যার মধ্যে ছিলো ২টি টেস্টও। ভারতের মাটিতে বহুল কাঙ্খিত টেস্ট সিরিজটি মোটেও স্বরণীয় করে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই টেস্টেই ভায়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতা, দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা। তবে খেলার বাইরে বেশ কিছু বিষয় মনে রাখবেন দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে দুই দলই নিজেদের প্রথম দিবারাত্রীর টেস্টে মুখোমুখি হয়। ম্যাচটি ঘিরে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের দুই দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে ইডেনের ঘণ্টা বাজিয়ে ম্যাচের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও।
টেস্ট ম্যাচ: ৫
বাংলাদেশ দলের জন্য টেস্টে ২০১৯ সালটা এক অভিশপ্ত বছর। এক বছরে বাংলাদেশ মাত্র পাঁচটি টেস্ট খেলেছে। সব কটি ম্যাচেই লজ্জাজনকভাবে হেরেছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে দুই টেস্টে হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। বছরের শেষের দিকে ভারত সফরে গিয়েও লজ্জার হার। তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লজ্জা পেয়েছে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে নবাগত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২২৪ রানে হার!
ওয়ানডে: ১৮
বিশ্বকাপ এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজসহ সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে মোট ১৮টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। যারমধ্যে জয় পেয়েছে ৭টিতে আর পরাজিত হয়েছে ১১টি ম্যাচে। এর মধ্যে তিনটি জয় এসেছে বিশ্বকাপে। টাইগাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণভাবে আসর শুরু করলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকেও হারিয়েছিলেন টাইগাররা।
টি-২০
মোট ৭টি। জয় ৪টিতে। পরাজয় ৩টিতে। 
সর্বাধিক রান: মুশফিকুর রহমান
চলতি বছর ৫০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিকুর রহমান। ১৮ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ৭৫৪ রান। ১ শতক এবং ৫ অর্ধশতকে সর্বোচ্চ স্কোর ১০২ রান। পঞ্চাশের উপরে গড় থাকা মুশফিকের পরেই রয়েছেন সাকিব আল হাসান। যদিও মাত্র ১১ ইনিংস খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। সর্বোচ্চ ৯৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৭৪৬ রান! সর্বোচ্চ ১২৪, তাও বিশ্বকাপে।
সর্বাধিক উইকেট: মোস্তাফিজুর রহমান
চলতি বছর ফর্ম না থাকলেও বাংলাদেশের হয়ে সফল বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। বাজে বছর পার করার পরেও কাটার মাস্টার ১৬ ম্যাচ খেলে দেশিয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ- মোট ৩৪ টি উইকেট নিয়েছেন। দুইবার পেয়েছেন পাঁচ উইকেটের দেখা। তবে রান খরচ করেছেন ওভারপ্রতি প্রায় সাতের কাছাকাছি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop