মুক্তকথা রোগীরা কেন ভারত যায়?

২৪-১২-২০১৯, ১৫:১৭

ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে

fb tw
রোগীরা কেন ভারত যায়?
অনেকেই রোগীরা ভারতে যাচ্ছে কেন এই নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এটি আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হয় না। রোগীদেরকে যদি ক্লায়েন্ট হিসেবে ধরা হয় এবং তারা যে সেবাটি নিচ্ছেন সেটি যদি অর্থ দিয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অধিকার আছে যেকোনো স্থান থেকে সেবা নেওয়ার। পাশের দেশ যদি এই ভোক্তা শ্রেণীকে টার্গেট করে পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়ে, আস্থায় নিয়ে তাদের দেশমুখি করতে পারে, সেখানে আমাদেরকেই নিজ করণীয় ঠিক করতে হবে।
ভারতের সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে খুব বেশি বিপরীত নয়। ওখানেও প্রচুর অব্যবস্থাপনা, ভুল চিকিৎসা, ফ্লোরে রোগী শুয়ে থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজমান। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের যে সকল রোগীরা পাশের দেশগুলোতে চিকিৎসা নেন, তারা মূলত সেখানকার প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতেই উচ্চ মূল্যে সেবা ক্রয় করে থাকেন। সেখানে গিয়েও বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও অব্যাহত প্রচারণার বিপরীতে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি হওয়া হাসপাতালগুলো সমমানের সেবা নিশ্চিত করতে পারছে কি? সেবা নিশ্চিত হয়ে থাকলে সে তথ্যগুলো ভোক্তা শ্রেণীর কাছে পৌঁছাতে পারছে কি? পৌঁছানো সম্ভব না হলে কেন হচ্ছে না সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে কি? সত্যটা হলো আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, দেশের জন্য করবেটা কে?
বাংলাদেশে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এযাবত কালে যত রিসার্চ হয়েছে, তার অধিকাংশই চিকিৎসার ফলাফলজনিত। কিন্তু রোগী বা তার অভিভাবক, ভোক্তা শ্রেণীর মানসিকতা, তাদের সামাজিক অবস্থান, তারা কি চায়, তাদের স্যাটিসফেকশন লেভেল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর ফ্যাক্টরসমূহ, সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নিয়ে আজ পর্যন্ত কতগুলো রিসার্চ করা হয়েছে?
কোন কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে রোগীরা তাদের পছন্দের চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই বাছাই করছে, সেটি নিয়ে কোন স্টাডি করা হয়েছে কি?
এদেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসকগণ সার্ভিস দিচ্ছেন তারা যথাযথ প্রফেশনালিজম বজায় রেখে নিজেদের সার্ভিস ডেলিভারি করতে পারছেন কি? আমি ফি নিচ্ছি কিন্তু তার বিপরীতে রোগী কতটুকু সার্ভিস চায়, সে বিষয়ে আমাদের যথার্থ আইডিয়া হয়েছে কি? আমরা কি ভাবছি সেটা কোনো বিষয় নয় বরং আমার ক্লায়েন্ট কি ভাবছে, সেটাই আসল।
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মনে রাখা উচিত, বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ আর নেগেটিভ প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে কোনো আকর্ষণ থেকে সাময়িক বিরত রাখা যাবে কিন্তু বেশিদিন আটকে রাখা যাবে না। পরদেশীদের প্রচারণার ভাষা যাই হোক না কেন, মানুষ যদি তাতে কনভিন্স হয়, তাহলে তারা সে পথেই হাঁটতে থাকবে। কেনো তারা বাইরে যাচ্ছে এ প্রশ্ন করা যেমন শিশুসুলভ তেমনি নিজেরা কেন ধরে রাখতে পারছি না, তার কারণগুলো স্বীকার না করাটাও এক ধরনের কুপমন্ডুকতা।
খারাপ অর্থে একটা কথা প্রচলিত আছে যে "চিকিৎসকরা বেশি প্রফেশনাল"। কিন্তু একজন রোগী বা রোগীর অভিভাবক হিসাবে আমার কাছে বিভিন্ন স্থানে সেবা নিয়ে এটাই মনে হয়েছে "সব মিলিয়ে আমাদের যেটি অভাব তাহলে, প্রফেশনালিজম। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সত্যিকারের "প্রফেশনাল"-ই হওয়া উচিত।
এদেশের মাটি আর মানুষকে অন্য কেউ আমাদের চেয়ে বেশি ভালোবাসে, দরদ রাখে, বেশি সেবা দিতে পারবে, সেটি একটি সর্বৈব মিথ্যা প্রচারণা। ভালোবাসার সাথে সত্যিকারের প্রফেশনালিজম নিয়ে আমরা যেদিন আমাদের "ক্লায়েন্টের স্যাটিসফেক্টরি লেভেলে" সেবা দিতে পারব, সেদিন হয়তো তারা আমাদের ভালোবাসার টান ছেড়ে বহুদূরের পথ হাঁটতে চাইবে না। অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, অধ্যাপক এম আর খান, জোহরা বেগম কাজী, অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক মঈনুজ্জামান এর একজন উত্তরসূরী ছাত্র হিসেবে আমি সেটি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করছি।
লেখক: কনসালট্যান্ট, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকা।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop