মুক্তকথা ২০১৯-এ ইউরোপে অভিবাসনের চিত্র

২১-১২-২০১৯, ১০:৫৫

মাকসুদ রহমান

fb tw
২০১৯-এ ইউরোপে অভিবাসনের চিত্র
গত ১৮ ডিসেম্বর বুধবার ছিল বিশ্ব অভিবাসন দিবস। সমগ্র পৃথিবীতে বর্তমানে মোট অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় এক বিলিয়ন। এটা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক সপ্তমাংশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা বর্তমানে ২৫৮ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি ৮০ লাখ। এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসীকে উন্নত বিশ্ব সহজে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলো না। কিন্তু কষ্ট, জীনের মায়া ত্যাগসহ সাহসিকতা নিয়ে অনেকেই পৌঁছতে পেরেছে জীবনের অর্থনৈতিক বিকাশের চূড়ায়।
২০১৯ সালে কেবল আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের অন্যসব দেশে প্রবেশ করেছেন ৭৬ হাজার ৫৫৮ জন অভিবাসী। কিন্তু এতে গত ১১ মাসে সাগরের জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭১ জন। প্রকৃত সংখ্যাটি এরচেয়ে অনেক বেশি।
অপরদিকে তুরস্ক থেকে সাগর পথে গ্রীস বা স্থল পথে গত জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ইইউ দেশগুলোতে প্রবেশ করা অভিবাসীর সংখ্যা ৭০ হাজার ২জন। সংখ্যাটা ২০১৮ সালের চেয়ে দ্বিগুণ। এ পথের অধিকাংশ অভিবাসী ৩০% আফগানি, ১৪% সিরিয়ান, ১৮% পাকিস্তানি, ৮% ইরাকি, অনেক বাংলাদেশি ও তুর্কি বলে জানা গেছে। এখানেও প্রাণ হারানো অভিবাসীর সংখ্যা কয়েকশ।
ইউরোপীয় দেশগুলির মোট অভিবাসন প্রত্যাশী প্রবেশকারীর সংখ্যা বছর প্রতি গড়ে ৪.৪ মিলিয়ন। এর মধ্যে ইইউর ২৮ দেশের অভিবাসীর সংখ্যা ৩.১ মিলিয়ন। বাকি ১.৩ মিলিয়ন অভিবাসী প্রতিবছর ইইউ দেশগুলিতে প্রবেশ করেন। এরমধ্যে চীন, পূর্ব এশিয়া, উপ-মহাদেশ, আফ্রিকা, মেক্সিকো, পানামা, ব্রাজিলসহ সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকান দেশের অভিবাসীরা প্রবেশ করছেন ইইউ দেশগুলির মধ্যে। এদের মধ্যে অনেক দেশ আবার ভিসামুক্ত প্রবেশ অধিকার পান ইইউতে।
ইইউ-এর একটি বিশাল পরিকল্পনা আছে জনসংখ্যা নিয়ে। ১.৭% জন্মহার বৃদ্ধি করার জন্য একটা মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইইউ, ১লা জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ১লা জানুয়ারি ২০৮০ পর্যন্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ইইউ-এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে ০.৩%। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ইইউ গঠনের জন্য কাম্য জনসংখ্যা খুবই জরুরি। তাহলে কেনো ইইউর প্রবেশদ্বার এতো কঠিন? উত্তর হলো ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবনে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তা জরুরি।
অবশ্যই এই পথের ভিন্নতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। ইইউ-এর বিশাল অর্থনৈতিক উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা তৃতীয় বিশ্বের সেই সকল দেশের কর্মসংস্থান স্থানান্তর করতে পারে, যেখান থেকে অভিবাসীরা ইউরোপমুখী হন। সঙ্গে সঙ্গে ঐসকল দেশে বৈশ্বিক মানবিক ও রাজনৈতিক  নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে অভিবাসনের স্রোত কমতে বাধ্য।
অভিবাসীরা উন্নত জীবনের সাধ নিতে গিয়ে সাগরের নীল জলে হারিয়ে যান। ক্যাম্প কিংবা ডিটেনশন সেন্টারে নির্যাতন সহ্য করেন। অনেকে মারাও যায়। গত কিছুদিন আগে দেখলাম বাংলাদেশের অর্থনীতির সবকটি সূচক নিম্নমুখী। কেবল প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। জয় হউক বাংলাদেশের অভিবাসীদের। চাই নিরাপদ বিশ্ব অভিবাসন।
লেখক: সময় টেলিভিশনের ইতালি প্রতিনিধি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop