সাক্ষাৎকার অ্যাকচুয়াল বাংলা ব্যান্ডগান বাংলাদেশই করেছে

১১-১২-২০১৯, ২১:১৮

সুব্রত আচার্য

fb tw
বারান্দায় রোদ্দুর আমি আরাম কেদারায় বসে দু’পা নাচাইরে...গরম চায় চুমুক দিই আমি খবরের কাগজ নিয়ে বসে পাতা ওল্টাইরে...। গানের এই কথাগুলো কানে বাজলে আনমনা হয়ে পড়েন না এমন গানপ্রেমী খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন অনেক হৃদয়ছোঁয়া গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছে জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ডদল 'ভূমি'।
১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে 'ভূমি'। বাঙালি লোকগীতিকে শহুরে রূপে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলাই ছিলো ভূমির প্রাথমিক লক্ষ্য। যে কজনের হাতে 'ভূমি'র প্রতিষ্ঠা তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৌমিত্র রায়। বাংলা সংগীত জগতের এ নক্ষত্র বাংলাদেশ, বাংলা গান 'ভূমি'কে নেয় সময় নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন। সৌমিত্র রায়ের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সুব্রত আচার্য।
সময়: বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?
সৌমিত্র রায়: দীর্ঘদিনের। দার্জিলিংয়ের যে স্কুলে আমি পড়তাম সেখানে আমার এক বন্ধু ছিলো কাউজার মোহাম্মদ খান। ওর ডাক নাম ছিলো শিলু। ক্লাস সেভেন থেকে টেন অব্দি ও আমার সাথে ছিলো। তারপরে ও অক্সফোর্ডে চলে যায়। ওর জন্যই আমি বাংলাদেশ... ও আমাকে টেনে টেনে নিয়ে যেতো। (বলতো) চল দোস্ত, ঘুইরা আসি। আমি বলতাম, চল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওরা বলতো, আপনি আবার যাইতাছেন! (হাসি)। আমি এতবার গেছি যে সব জানাশোনা হয়ে গিয়েছিলো আরকি। কোন জায়গায় যায়নি? তখন এতো ব্রিজ-ট্রিজ ছিলো না। ফেরি-টেরিতে...
সময়: সেটা কত বছর আগে?
stay home stay safe
সৌমিত্র রায়: ১৯৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৮৬... প্রত্যেক বছর আমি গিয়েছি। আমার বন্ধু মারা যায় ৮৯তে, কার দুর্ঘটনায়। ৮৯ পর্যন্ত আমি রেগুলার যেতাম। সেও আসতো। আমি ওখানে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে ও চলে আসতো। এখানে আমার বাড়িতে এক মাস থাকতো। খুব মজা করতাম আমরা। আমি উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশ যদি দেখি তাহলে- পাবনা, তারপরে নিচে বরিশাল, রাজশাহী, ঢাকা তো বটেই... তখন ফখরুদ্দিনের বিরিয়ানি অত নাম করেনি কিন্তু মোহাম্মদপুরের কাবাবগুলো খুব নামকরা ছিলো। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পেছনে পিরুর একটা টেক ছিলো। পিরুর টেকে আমি অনেকটা সময় কাটিয়েছি। বাংলাদেশি যারা জানেন না, পিরুর টেক কিন্তু একটা ডেঞ্জারাস জায়গা ছিলো (হাসি)। এমন হতো যে, রাতেই আমরা ঠিক করলাম যে, চল দোস্ত কুমিল্লা থেকে ঘুইরা আসি। কুমিল্লা চলে যেতাম রসমালাই খেতে। সেখানতে থেকে বলতাম, চল চিটাগং চলে যাই। আবার চিটাগং থেকে বলতাম, চল রাঙামাটি, চল কক্সবাজার। মানে কোনো ঠিক নেই।
সময়: ৮৬ সালে আপনি সেখানে গেছেন। তখন তো ‘ভূমি’র জন্ম হয়নি।
সৌমিত্র রায়: না না। ভূমি অনেক পরে।
সময়: ১৯৯৯ সালে ভূমি প্রথম প্রোগ্রাম করেছে। যখন ‘ভূমি’ মাটি থেকে আকাশ ছুলো এরপর বাংলাদেশে গিয়ে আপনার কি মনে হয়েছে? ৮৬’র সৌমিত্র আর ৯৯ এর পরের সৌমিত্র।
সৌমিত্র রায়: অনেক ভিড়। মানে, সেই গুলশান আর গুলশান নেই। সেই মতিঝিল, মতিঝিল নেই। ওভার পপুলেশন মনে হয়েছে। কিন্তু মানুষের প্রাণ তো একই থাকে। সেই আন্তরিকতা, ভালোবাসা, সেই দাওয়াত- এই জিনিসগুলো তো বদলায় না। মানুষের প্রেম, মানুষের ভালোবাসা- এটাই তো আমাদের উপরের (ঈশ্বরের) দান। সেটা এক বিন্দুও কমেনি।
সময়: বাংলাদেশে প্রচুর বিখ্যাত ব্যান্ড শিল্পী আছেন। আইয়ুব বাচ্চু, জেমসসহ অনেকেই যারা পশ্চিমবঙ্গেও সমানভাবে জনপ্রিয়। আপনার কাছে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতকে কীভাবে দেখবেন?
সৌমিত্র রায়: আমার মনে হয়, ব্যান্ডে অ্যাকচুয়াল বাংলা গান যদি করে থাকে তাহলে বাংলাদেশ করেছে। কারণ, ওদের কথার মধ্যে কোনো বিকৃতি নেই। ওদের ভাষাটা বাংলা ভাষা, গর্বের ভাষা। গর্ব করে ওরা বাংলা উচ্চারণ করে। বরং আমাদের এখানকার ব্যান্ডগুলো ভাষাটাকে একটু অন্যরকম করে ফরেন ফরেন টাচ দিয়ে... রাবিশ। কিন্তু আমি আইয়ুব বাচ্চুদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে মিশেছি। ওরা ভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। জেমসদের সাথে দেখা হয়েছিলো ধানমন্ডিতে। বলছিলো, দাদা আপনার লগে আমি দোয়া করি। আমি যখন ওকে আমার বড় ছেলের ছবি দেখিয়েছিলাম তখন বলেছিলো, মাশাল্লাহ। খুব বড় ছেলে হবে দাদা। এখান ও (আমার বড় ছেলে) আমার সাথে বাজাচ্ছে, আরজেশ। ভূমিতে বাজাচ্ছে। অনেক দিন দেখা না হলেও যখন দেখা হয় জড়িয়ে ধরে।
সময়: এখন ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমির আরো অনেক বেশি সম্প্রসারণ হয়েছে। নিশ্চয়ই বাংলাদেশের শ্রোতা, দর্শকরা আপনাদের সাথে ইনটাচ থাকতে চান...
সৌমিত্র রায়: ফেসবুক হোক বা যাই হোক, অনেকেই উইশ করে। (বলে) আসেন, আসেন। কোনো উপলক্ষে যদি না যেতে পারি তাহলে আমরা কিভাবে যাবো। আমরা কি এমনিতে গিয়ে ওখানে ঘুরে আসবো নাকি? আমাদের কেউ ইনভাইট করবে। কিন্তু রিসেন্টলি দেখছি যে পারমিশন পাওয়াটা খুব মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক বার আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েও লাস্ট মিনিটে ক্যানসেল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, ভিসা দিচ্ছিলো না। আমি যতটুকু জানি, (সেখানে সমস্যা হলো) আমাদের শিল্পী থাকতে ভারত থেকে আইবো ক্যান। অথচ আমরা কিন্তু ওদের এক্সেপ্ট করি। আমরা লাস্ট প্রোগ্রাম করেছিলাম ঢাকার ধানমন্ডি গার্লস কলেজে। পাঁচ ছয় বছর আগে। মারাত্মক রেসপন্স পেয়েছিলাম। প্রথম গান থেকে শেষ গান পর্যন্ত মারাত্মক রেসপন্স। তারপর জেমস উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। বলছে, কি করছেন?
সময়: এবার একটু ভূমি প্রসঙ্গে আসি। বর্তমানে আপনারা কি নিয়ে কাজ করছেন বা পরিকল্পনা কি করছেন?
সৌমিত্র রায়: আমরা নতুন কিছু করছি না। যেটা ইচ্ছে আছে, আমরা গাড়িতে আলোচনা করি বা একটা প্রোগ্রামে গেলে আলোচনা হয় যে, একটা সিঙ্গেলস করা যায়। এখন তো সিঙ্গেলসের যুগ। লোকে গান ভিজুয়ালি দেখতে চাইছে। সেটা আমরা হয়তো কন্সট্রাক্ট করবো। আমি না লিখলেও, আমাদের তিনজন লিখে। আমার ছেলেও অসাধারণ লিখে। এখন আমাদের ব্যান্ডে চারজন লেখক। কোনো ব্যান্ডে চারটা লিরিসিস্ট নেই। এটা কিন্তু ভূমির ক্রেডিট। অভিজিত লেখে, হিমু, আরজেসও লেখে, সৌমিত্র রায়ও লেখে।
সময়: আপনারা যারা ব্যান্ড তৈরি করেছিলেন। আপনি ছিলেন, আমাদের সুরজিত দা ছিলেন। আপনি একটু আগে বলছিলেন যে, সুরজিত দা’র সঙ্গে যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো এবং আপনি তাকে আবার কাছে টানতে চাইছেন। এই দুই নক্ষত্র যদি আবার এক হয় তাহলে বাঙালি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়। দর্শকরা কেনো বঞ্চিত হবে?
সৌমিত্র রায়: বঞ্চিত কেমন করে বলবো? আমরা কিন্তু আমাদের মতো করে গান করে যাচ্ছি। দেখো, তোমার পরিবার থেকে তোমার ভাই যদি বের হয়ে যায় তাহলে তোমার পরিবার কি ভেঙে যাবে? নাকি তোমাদের টাইটেল বদলে যাবে? কিচ্ছু হবে না। আমরা ঠিক সেভাবেই আছি। দিব্বি গান গাইছি। প্রচুর শো হচ্ছ আমাদের। ভূমি সবথেকে বেশি শো করছে এখন। বলা উচিৎ না কিন্তু ধারেকাছে কেউ নেই। আমি রেকর্ড দেখিয়ে দিতে পারি। ভূমির জার্নি থামে না। ব্রেক লাগাতে অনেক দেরি।
সময়: সম্প্রতি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ব্যঙ্গ করে একজন ইউটিউবে ছেড়েছেন এবং সেটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে...
সৌমিত্র রায়: ওকে গুলি করে মারা উচিৎ। শুধুমাত্র নিজের প্রচারের জন্য, আর কিছু চ্যাংড়া ছেলে তাকে সাপোর্ট করছে। ওদের সবাইকে দাঁড় করিয়ে কোমরের বেল্ট খুলে মারা উচিৎ। আমি থাকলে আমিই মারতাম। আমার নামে যা বলুক, আমাকে গালাগালি দিক, ট্রোল করুক, আই ডোন্ড কেয়ার। এই ছেলেটাকে পেলে আমি চড় মারতে মারতে গাল ফাটিয়ে দেবো। আমি এ ব্যাপারে কথাই বলতে চাই না। মনটা খারাপ হয়ে যায়।
সময়: আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহভাজন। আপনার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার অনেক বছরের সম্পর্ক। রাজনীতির ব্যাপারে আপনার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি আছে?
সৌমিত্র রায়: নো সিদ্ধান্ত (হাসি)। আমি গান বাজনা করে অনেক ভালো আছি। বই লেখা শুরু করেছি। দুটো বই বেরিয়েছে। আরো একটা বের হবে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop