মুক্তকথা রাষ্ট্রকে দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণের বিচারের পাশাপাশি নৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে!

০৭-১২-২০১৯, ১৫:৪৮

সময় সংবাদ

fb tw
 রাষ্ট্রকে দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণের বিচারের পাশাপাশি নৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে!
যে রাত্রিতে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়েছে চারজন ধর্ষককে। সেই রাত্রিতে বঙ্গরাষ্ট্রের খোদ রাজধানী ঢাকা মহানগরীর সিদ্ধেশ্বরীতে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রূম্পাকে।
এই যে ধর্ষণ নামক ব্যাধি! এই ব্যাধিকে প্রতিরোধ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যেকোন ধরনের পর্নোগ্রাফি ওয়েব সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে ধর্ষণের প্রতি মনোনিবেশ তৈরি না হয়। কিন্তু তাতে কি তেমন উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে? আসে নাই। না দ্রুত বিচার ব্যবস্থা করে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে ধর্ষণকে? তাও করা যায় নাই। কোন আইন জারি করায় যেমন আনন্দ আবেগ থাকে, তেমনি আইন ভঙ্গ করার মাঝে আরো বেশি আনন্দ থাকে। বাস্তবে মানুষ সেভাবেই আনন্দ পেয়ে থাকে। বিশেষত বাঙালির মতো আধা সভ্য-আধা বর্বর মানুষ আইন ভঙ্গ করার মাঝেই বেশি আনন্দ পেয়ে থাকে।
একটু লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, ক'দিন আগেই এ বঙ্গরাষ্ট্রে ফেনীর নুসরাত হত্যার পরে পুলিশ সুপার ও ওসিসহ সব ধর্ষক ও অপরাধীর বিভিন্ন সাজা হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিচারে। কিন্তু সে বিচার থেকে কেউ শিক্ষা নেয় নাই। আসলে এ বঙ্গরাষ্ট্রে কেউ কোন শিক্ষণীয় বিষয় থেকে শিক্ষা নেয় না। আমার মনে হয়- নৈতিক জ্ঞান না থাকার কারণে এমন হয়ে থাকে, অবশ্য তা বলার অপেক্ষা থাকতে নেই। তাই বলছি, বিচার যদি শিক্ষা ও নীতিনৈতিকতা তৈরি করতে না পারে, তাহলে হাজার হাজার ধর্ষণের বিচার, লাখ লাখ হত্যার বিচার করে কোন লাভ নেই, কোন অর্থ নেই।
তারমানে আমার বলার সাহস নেই যে, বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে! এমনটি বলার এবং তা বলেছিও না বটে। বিচার বিভাগ তার মৌলিক দায়িত্ব যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে। তাতে কোনো বাঁধা রুটিনের নিয়ম অনুসৃত হতে নেই। তবে বিচার বিভাগের উচিত হবে সব বিচারের সাথে নৈতিক মূল্যায়ন করে জাতিকে শিক্ষা দেওয়া এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে সতর্ক করা। তাহলে হয়তো বিচার কার্যক্রমের সঠিক যথার্থতা তৈরি হতে পারে। তবে হত্যা হলো বিচার হলো শাস্তি হলো, ধর্ষণ হলো ধর্ষকের বিচার হলো শাস্তি হলো।
কিন্তু কাজের কিছুই হলো না বরং দুদিন পরে আবার হত্যা হবে, আবার ধর্ষণ হবে এবং হয়েও থাকে এমনটি। আসলেই এ বঙ্গরাষ্ট্রে তাই হয় এবং হচ্ছে! এমন রীতি থেকে খুব দ্রুত বের হবে রাষ্ট্র ও জাতিকে। নাহলে রাষ্ট্র আরো বেশি দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে ভরপুর হয়ে উঠবে। ফলতঃ রাষ্ট্র অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। অবশ্য ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন। তবে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন রুখতে স্বচেষ্ট হতে হবে সর্বত্র।
সরকার, প্রশাসন, শাসক শ্রেণির দায়িত্ব যেমন দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধ করা, তেমনি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নকে প্রতিরোধ করার মানসিকতা তৈরি করা এবং নিজ প্লাটফর্ম থেকে প্রতিরোধ করা। যদিও ইতিমধ্যে সরকার রাষ্ট্রে আপামর দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বটে এবং স্বল্প পরিসরে নানাবিধ কুকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আমি মনে করি- দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি জাতির প্রতিটি মানুষকে নীতিনৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে। প্রয়োজন বোধে নীতিনৈতিকতা বোধ তৈরির জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা উচিত হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির সচেতনতা মূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। আর রাষ্ট্র রীতিনীতি, আদর্শ নিয়ে চলা ব্যক্তিদেরকে যথেষ্ট সম্মানিত করবে এবং এমনটি অবশ্য সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পর্যায়ে পড়ে।
কিন্তু তৎপরিবর্তে দেখা যায় যে, যখন ধনাঢ্য ব্যক্তি সম্মানিত জায়গা অর্থের বিনিময়ে পেয়ে যায়, তখন মানুষ নৈতিক স্খলন ঘটিয়ে ধনাঢ্য হওয়ার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে। যদিও এ চেষ্টা সম্পুর্ণ অপচেষ্টা বটে। তবুও এ অপচেষ্টা করা থেকে কেউ বিরত নয়। কেননা টাকার বিনিময়ে সম্মান কেনা যায় যখন, তখন টাকা উপার্জন থেকে কেউ নিজেকে বিরত রাখতে চায় না।
 আজকে রাষ্ট্রের অবস্থা হয়েছে "হীরক রাজা" সিনেমার গানের পর্যায়ের-
"দেখো ভালো যেইজন রইলো ভাঙা ঘরে,
মন্দ যেইজন সিংহাসনে চড়ে!"
এমন রীতি অনুযায়ী বর্তমান বঙ্গরাষ্ট্রের সমাজে বিঁধিত হয়েছে ও হচ্ছে। যা অত্যন্ত গর্হিত ও নৈতিক বহির্ভূত কার্য বটে। আইনের শাসনের প্রভাবে অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে না! তা নয়। বরং অপরাধ নিত্য প্রাকৃতিক নিয়মের ধারাবাহিকতায় গঠিত হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মকে নিয়ন্ত্রণ করতে নৈতিক রীতিনীতি যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পৃথিবীর সভ্য দেশের মানুষ আইনের শাসনকে ভয় করে নয় বরং নৈতিক অবস্থানে শক্ত হওয়ার কারণে অপরাধ সংগঠন করা থেকে বিরত থাকে। ফলে সেসব রাষ্ট্রে ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন রুখতে পেরেছে উল্লেখযোগ্য হাড়ে। এবং সেজন্য ওরা সামাজিক সুখভোগ সহ যাবতীয় কর্মকাণ্ডে সভ্যতার উপকার পেয়ে যাচ্ছে।
যদিও আমরা তাদের এমন সব জীবনযাপনকে রূপকথার গল্পের মতো শুনে যাচ্ছি। কিন্তু নিজেরা এমন জীবন উপভোগের সমূহ চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকছি। অথচ আমরাও তাদের মতো রক্তে মাংসে গঠিতল শরীর নিয়ে মানুষ!
মুলতঃ রাষ্ট্রকে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অন্যায়, অপরাধ, ধর্ষণের বিচারের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে নীতিনৈতিকতা নিয়ে প্রচুর পরিমানে সচেতনতা মূলক কাজ করতে হবে। ফলে জনগণ নীতি, আদর্শের ভিত্তিতে নিজেকে মডারেট হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। তাহলেই জনগণ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতায় নিজেকে জড়াবে না। সুতরাং তখন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র যথেষ্ট দুর্নীতি মুক্ত, অপরাধ মুক্ত, ধর্ষণ মুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আর তখন আমরাও সামাজিকভাবে সুখী, মর্যাদাশালী হতে পারব।
 
লেখকঃ 
রাশিদুল রাশেদ
(এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ)
কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ।
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop