মুক্তকথা ব্রেক্সিটে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি

০১-১২-২০১৯, ২০:২৪

মাকসুদ রহমান

fb tw
ব্রেক্সিটে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি
দশের মধ্যে সাত। সমস্যা অনেক। কিন্তু সম্ভবনা বিশাল। এই সমীকরণের মধ্যে দাঁড়িয়ে হিসাবের খাতায় অংক কষে চলার মতো দেশ বাংলাদেশ। এটিই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের চিত্র।
বাংলাদেশের পণ্য রফতানি হয় এমন শীর্ষ ১০টির দেশের মধ্যে ৭টি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত। এর বাইরে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও কানাডা।
চিত্রটা এমন, মোট রপ্তানির ৬৬ভাগ ইউরোপ, ১৯ ভাগ উওর আমেরিকা আর বাকী ১৬ ভাগ সমগ্র পৃথিবী জুড়ে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আবার এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।
সেই যুক্তরাজ্য যদি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করে বা ইইউ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশের কী কী লাভ বা ক্ষতি হতে পারে? বিষয়টি জটিল কিন্তু মজার। প্রশ্নটির উত্তরে অনেক কিছুর হিসাব রাখতে হবে।
ব্রেক্সিটে বাংলাদেশে লাভ-ক্ষতির হিসাব খুঁজতে হবে গভীরে যেতে হবে। ইইউ গঠনের প্রথম দিকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্নভাবে ইংল্যাণ্ডকে ইউনিয়নে সংয়ুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৎপরতা ছিল। এর মূল কারণ ছিল, ইউনিয়নকে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে শক্তিশালী করা। তখনকার সময়ে ইংরেজরা ছাড়া অন্য কোন  ইউরোপীয় জাতি সমগ্র পৃথিবীকে এককভাবে জাতিগত, ধর্মীয় ও ভৌগলিকভাবে ভালো করে চিনত না বলেই বলা চলে। ইংরেজদের এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ইইউ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সমগ্র পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।         
কিন্তু বর্তমানে ইইউতে ইংল্যাণ্ড না থাকলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ইইউ তেমন বড় ক্ষতির মুখে পড়বে না। কারণ গত কয়েক দশকের মধ্যে ব্রাসেল্স পৃথিবীর অচেনা ও অজানাকে ভালো করে চিনে ও শিখে নিয়েছে। 
তবে ওস্তাদের কিছু গুপ্ত শিক্ষা অবশ্যই থাকে। তাই বাংলাদেশকে সবসময়  ইংল্যাণ্ডকে কৌশলগত বন্ধু রুপে দেখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে  ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও বেশি আকড়ে ধরতে হবে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ইংল্যাণ্ডের সহযোগিতায় মূলত ইইউ এর সঙ্গে প্রথম দিকে সম্পর্ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ইংল্যাণ্ড ইইউ এর মধ্যে সব সময়ই নীতি নির্ধারণীর ভূমিকায় ছিল। কিন্তু ইংল্যাণ্ড যদি ব্রেক্সিট করে, তাহলে জার্মানি ও ফ্রান্স হবে ইইউর সকল নীতি নির্ধারণীর চালিকাশক্তি। সঙ্গে ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম থাকবে। 
সুতরাং এই দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রেখে চলতেই হবে। অন্যদিকে ইংল্যাণ্ডের সঙ্গেও সব ধরনের সম্পর্ক আরও মজবুত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনের বিদেশী নীতিমালার যে পরিবর্তন হবার লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তা হতে পারে কমনওয়েলথকেন্দ্রীক। এমনটি হলে বাংলাদেশের ব্রেক্সিটের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য মন্দ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ বাংলাদেশ কমনওয়েলথ এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
তবে ইইউর সঙ্গেও সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ তখনও বাংলাদেশের দশের মধ্যে ছয়টি দেশ  ইইউর মধ্যেই অবস্থান করবে। এতে ইইউ ছাড়ার পর যদি ব্রিটেনের অর্থনীতি চাঙা হয় তাহতে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থা যদি ভালো হয় তাহলে তাতে বাংলাদেশ আরও বেশি সুবিধা ভোগ করবে।
ইইউ এর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তর উত্তর উওর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন ২০০৮ সালে ইইউর ২৮টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ইউরো। কিন্তু বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক।
অন্যদিকে ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান মোট রপ্তানি বাণিজ্য সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। ব্রিটেন থেকে আমদানির পরিমাণ প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান বলে, ব্রিটেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ বাণিজ্য ধারা বজায় থাকবে, কারণ এতে উভয় দেশের জন্যই কল্যাণ
বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৪ তম রফতানিকারক দেশ। কিন্তু ১২৩ তম জটিল ব্যবসায়ী বান্ধব পরিবেশ এখানে চলমান। গত কয়েক বছর যাবৎ ওয়ান স্টপ বিজনেস সার্ভিস সেন্টার খোলার কথা শুনেছি কিন্তু আমলাতন্ত্রিক জটিলতায় তা এখনো হয়ে ওঠেনি। 
ব্রেক্সিট মাথায় রেখে জাতিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বোঝার পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিষয়টি এমন যে, কোন দেশ কেমন ও তাদের নীতিমালা কী? যেমন, জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় দ্বাতা দেশ। তবে তাদের নীতিতে কোন মোড়ল ভাব নেই।
কয়েক বছর পূর্বে ব্রিটেন ঢাকা এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সরকার প্রথমে এতে সায় দেয়নি। ফলশ্রুতিতে ব্রিটেনে সকল প্রকার কার্গো ও মালামাল বাংলাদেশ হতে এয়ারপোর্টের মাধ্যমে বহন করা বন্ধ করে দেয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। কিছু দিনের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়াও ব্রিটেনের পথ অনুসরণ করে। ফলে বাধ্য হয়ে সরকার ব্রিটেনকে ঢাকা এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়।
তেমনি যুক্তরাষ্ট্র চায় কেবল তাদের সঙ্গে থেকে তাদের বিশ্ব রাজনীতিকে সমর্ন করতে হবে। জার্মানি আইনগত ও মানগত কঠোর এবং ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি বাচনিক তৃপ্ততা। এই সকল বিষয়কে প্রাধান্য দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হতে পারে।
সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ব্রেক্সিট ক্ষতিকর হবার আশঙ্কা কম। কিন্তু বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরী। তা করতে পারলে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ অর্জন সহজ হবে।
লেখক: ইতালি প্রবাসী সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop