মুক্তকথা সুখ আসে কখন

২৯-১১-২০১৯, ১৯:৪৬

খোরশেদ আলম বিপ্লব

fb tw
সুখ আসে কখন
আকাশে মেঘ জমলেও তা আবার সরে যায়। কিন্তু এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের আকাশ সব সময়ই মেঘে ঢাকা থাকে। গহীন অরণ্যে সূর্যের আলো যেমন পৌঁছানো কঠিন, তেমনি কিছু মানুষের জীবন ও অন্ধকারাচ্ছন্নই রয়ে যায়। একটি চরিত্রের ভেতর থেকে তাকে বের করে এনে সাধারণ মানুষে পরিণত করা সহজ কথা নয়। এই কঠিন কাজটি যে সহনশীলতার সাথে করতে পারে আর যাকে নিয়ে করানো হয় দুজনই মহৎ মানুষ। কিন্তু তারা সংখ্যায় হাতে গোনা ক’জন মাত্র।
হাজার কষ্টের মাঝে ও মানুষ সুখটাকে একটু খুঁজে নিতে চায়। কিন্তু দুঃখের মেঘ এতটা নিকষ কালো যে, তার মাঝে সবাই সুখের আলোটা শত খুঁজলেও পায় না। ‘সুখ হলো সোনার হরিণ’ চাইলেও তারে পাওয়া কঠিন। কপালে না থাকলে সে ধরাও দেয় না। সুখপাখির ডানা মনে হয় চারটা সে জীবন থেকে খুব সহজে উড়ে যায়। এক ডালে বেশিক্ষণ থাকে না, তারে সহজে পোষ মানানো যায় না। সুখ পাখির থাকে হাজার বায়না,সবার কপালে তাই সুখও সয় না। নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির গতিকে রোধ করা যায়। কিন্তু মনের আবেগকে কোনোভাবে আটকানো যায় না। মনের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। চারপাশের সব যুক্তি, বাস্তবতা, সব ই বোঝা যায়, কিন্তু মনকে মানানো যায় না।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বাঁধন মায়ার বাঁধন। যা রক্তের সম্পর্ক কেও হার মানায়। আর সত্য হচ্ছে নিয়মের মতো । তাকে মানতে হলে তার সমস্ত বাঁধন মানতে হবে, কিন্তু যে সত্যের কোনো নিয়ম নেই, বন্ধন নেই- সে তো স্বপ্ন, সে তো খেয়াল । কিন্তু যখন হরবোলা চরিত্রের মানুষকে দেখি, দুমুখতা দেখি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। কথা জিনিসটা সুস্পষ্ট এবং বিশেষ প্রয়োজনের দ্বারা সীমাবদ্ধ। পরের উপকার করবো মনে করলেই কি উপকার করা যায়? উপকার করবার অধিকার থাকা চাই । মানুষের মন বড়ই বিচিত্র, সমাজকে না মেনে সমাজে বাস করা কখনোই সম্ভব নয় এটাও আমারা ভুলে যাই।
জীবনের অপমান হয় দুটি জিনিসে-প্রথমত অজ্ঞতায় দ্বিতীয়তঃ পরনির্ভরশীলতায়। অজ্ঞতার ন্যায়় মহাশত্রু মানব জীবনে আর নাই। জীবনে যে অবস্থাতে থাক না কেন তোমাকে জ্ঞানের সঙ্গে যোগ রাখতে হবে। জ্ঞানের চরম সার্থকতা-মানুষকে ভালো মন্দ বলে দেওয়া, তার আত্মার দৃষ্টি খুলে দেওয়া, তার জীবনের কলঙ্ক-কালিমাগুলো ধুয়ে ফেলা। অর্থ আছে বলে বা কাজের অজুহাতে যাদের জ্ঞানের সঙ্গে সম্বন্ধ থাকে না, অজ্ঞাতসারে তারা নিজেদের কে পতিত করে অন্ধকারে। দাম্ভিকতা ও অর্থের প্রাচুর্য তাদের মনুষ্যত্বকে খর্ব করে দেয়। যা কোনো জাতির জন্য কাম্য নয়।
সৃষ্টিকর্তা হলেন মস্ত বড় কারিগর। তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ। তিনি যা কোনো প্রাণীকে দেননি, তা কিন্তু মানুষকে দিয়েছেন-সেটি হলো বোধ ও একটি সোজা মেরুদণ্ড । যার মাধ্যমে মানুষ ন হয়ে বসতে পারে মাথা উঁচু করে চলাফেরা করতে পারে,সমাজ সংসারের সব অবক্ষয়কে রোধ করতে পারে । কাজেই আমাদের মন ও মননকে পবিত্র করেই এগোতে হবে। জীবনের একটা অনিবার্য গতি হল দান যা থাকলে প্রতিদান আছে, শোধ থাকলে প্রতিশোধও আছে। সমস্যার সমাধান কি হতে পারে সেটা কাল বিচার করবে।
সমস্যার কথা উঠলেই মনে হয় সমাধান কি? হয়তো সমস্যার ভেতরেই সমাধানের ইঙ্গিত আছে।জীবনটাই একটা অনিশ্চিত ব্যাপার। একটা নিরুদ্দেশ যাত্রা। মানুষের সন্তান হচ্ছে ভবিষ্যৎ। সভ্য মানুষ ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ভবিষ্যতের উপর ইচ্ছে খাটায়। আর অসভ্য মানুষগুলো কাল স্রোতে গা ভাসায়। হতাশায় শারীরিক সমস্যা গড়ে তোলে।
দুঃখজনক হলেও সত্যি বর্তমান বাংলাদেশের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনেকটাই ভিন্ন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রায় সবাই বইয়ের সাহায্য-সহযোগিতা এড়িয়ে চলেন। শুধুমাত্র প্রয়োজন মাফিক কাজের জন্য দায়সারা গোছের কিছু তৎপরতা অবশ্য লক্ষ্য করা যায়। মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, কম্পিউটার ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটে যায় দিবারাত্রির উদয়াস্ত ,আকাশ, নদী, বৃক্ষ,নিসর্গ প্রকৃতির, ফল,ফুল, পাক পাখালি ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দেখার সুযোগ আর কোথায়। তাছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ সুবাদে মানুষ এখন অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক।
আমি অবশ্যই প্রযুক্তিগত ডিজিটাল বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাই এর ফলে আমরা এখন বিশ্বায়ন পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। কিন্তু পাশাপাশি নেতিবাচক দিকগুলো মনে রাখতে হবে এত করে মস্তিষ্কপ্রসূত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বেড়ে যায়। 
মানবিকবোধ বুদ্ধির মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির জয়জয়কারের সূচিত হোক আমাদের প্রত্যেকের জীবন। সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়ে ধর্ম আর কর্ম এটাই প্রত্যেককে মানুষ করে তোলে। আজকের পৃথিবীতে সেই ধর্মকর্মের এবং সাহিত্যপ্রেমী মানুষের বড় বেশি প্রয়োজন। শুধু মানুষ এবং মানুষ। মানুষ নিজের জীবনের অতৃপ্তির জায়গাটাকে ভবিষ্যৎ জীবনের পরিতৃপ্তির মধ্যে খুঁজে পেতে চায়। দেহ মন ও বুদ্ধি যখন এক সুরে বাজে তখনই সুখ আসে। শান্তি হলো আধ্যাত্মিক ঔষধ। ধর্ম মানুষের আশ্রয়, ধর্মই মানুষের বিশ্বাস।
লেখক: মানবাধিকার কর্মী ও লেখক।
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop