খেলার সময় পাকিস্তান সফর: বাংলাদেশ কী চাপে আছে?

২৮-১১-২০১৯, ২২:৩৭

মামুন শেখ

fb tw
পাকিস্তান সফর: বাংলাদেশ কী চাপে আছে?
ভারত থেকে হতাশার একটি সফর শেষ করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। এ বছর টাইগারদের আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। ক্রিকেটাররা এখন বিপিএল নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। তবে আগামী বছরটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাটাবে বাংলাদেশ। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম-এফটিপি অনুযায়ী, বছরের শুরুতেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সফরে যেতে হবে বাংলাদেশ দলকে। ওই সফরে দুটি টেস্ট এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা দু’দলের।
কিন্তু পাকিস্তান সফরে যেতে বড় দলগুলোর অনীহা এখনো কাটেনি। দেশটিতে সন্ত্রাসবাদের প্রকোপ অনেক বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কাটা রয়েই গেছে। আর তাই জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অনেক ক্রিকেটার দেশটিতে খেলতে যেতে আপত্তি জানাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সফরের বিষয়ে কৌশলী হতে চায় বাংলাদেশ। দেশটিতে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজটি খেলতে চায় বাংলাদেশ। তবে টেস্ট সিরিজটি দুবাইতে খেলার ব্যাপারে পিসিবিকে অনুরোধ করবে বিসিবি।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) ওই সূত্রটি জানায়, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অনেক ক্রিকেটারের আপত্তির কারণে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার বিষয়ে অস্বস্তি আছে দলের মধ্যে। আর তাই বোর্ড পরিচালকরা সমন্বিতভাবেই ভাবছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দেশটিতে টি-২০ সিরিজ এবং দুবাইয়ে টেস্ট সিরিজ খেলার বিষয়ে তাদের একটি প্রস্তাব দেবে।
তবে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে পিসিবির যে অবস্থানটি উঠে এসেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, বিসিবির যদি টি-২০ সিরিজ পাকিস্তানের এবং টেস্ট সিরিজ দুবাইয়ে খেলার প্রস্তাব তাদের দেয়ও তা তারা সহজে মেনে নেবে না।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্তে এসেছি যে, সূচি অনুযায়ী যে সিরিজগুলো আমাদের দেশের মাটিতে খেলার কথা সেগুলো আমরা আর বিদেশের মাটিতে খেলবো না।’
এ বাংলাদেশ দলের সফরের বিষয়ে এরই মধ্যে নাকি একটি পরিকল্পনা বিসিবিকে পাঠিয়েছে তারা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের ব্যাপারে প্রাথমিক পরিকল্পনা তাদের (বাংলাদেশ) কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ভেন্যু এবং তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
পিসিবির এমন অবস্থানে নিশ্চিতভাবেই চাপে থাকবে বিসিবি। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ আবার আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। আর তাই সফরে না গেলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ না খেলার পেছনে বিসিবির যুক্তির জায়গাটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে আরেক জায়গায়ও। সম্প্রতি নারী দল এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দল দেশটিতে খেলে এসেছে। তাদের নির্বিঘ্ন সফরকেও যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে পাকিস্তান।
পিসিবির ওই কর্মকর্তা জিও নিউজকে বলেন, ‘পিসিবি মনে করছে, বাংলাদেশের দুটি দল যেহেতু এরই মধ্যে পাকিস্তান সফর করে গেছে, তাই তাদের জাতীয় দল না পাঠানোর কোনো ইস্যু নেই।’
সফরের শুরুতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা। এরপর তিনটি টি-২০ খেলার কথা দু’দলের। পিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা সম্ভব নয়, যে আপনি সিরিজের অর্ধেকটা এক জায়গায় খেলবেন আর বাকি অর্ধেকটা আরেক জায়গায় খেলবেন। এভাবে আর চিন্তা করার সুযোগ নেই। তেমনটা হলে আগামী দিনগুলোতে পিএসএল এবং অন্যান্য খেলাগুলোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
পিএসএলের পঞ্চম আসরের পুরোটাই দেশের মাটিতে আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঘরের মাটিতে পিএসএলে। আর তাই এই সময় বাংলাদেশকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার মনোভাব নাও দেখাতে পারে তারা।
পিসিবির ওই কর্মকর্তার কথায়, ‘আমরা যদি দেশের বাইরে এই ধরনের সিরিজগুলো খেলতে যাই, তাহলে সেটা হবে আমাদের এই পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আত্মঘাতী।’
টেস্ট এবং টি-২০ সিরিজ পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে হলে সেখানে প্রায় ২৫ দিন অবস্থান করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। এই দীর্ঘ সময় সেখানে থাকাটা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি সর্বক্ষণ নিরাপত্তা বলয়ে থাকাটা খেলোয়াড়দের মানসিকতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর তাই দেশের ক্রিকেট ভক্ত থেকে শুরু করে অনেক সাবেক ক্রিকেটার দেশটিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য সফরে যাওয়ার বিপক্ষে।
সাবেক ক্রিকেটার ইশতিয়াক আহমেদ বলছেন, ক্রিকেট জাতি হিসেবে পাকিস্তানে ক্রিকেটের দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটাতে সহযোগিতা করতে পারে বিসিবি। তবে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া উচিত হবে না বোর্ডের। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই তো থাকা উচিত। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে কমপ্লিটলি জিরো টলারেন্স থাকা উচিত। সামান্যটুকুও যদি সন্দেহ থাকে তাহলে পাঠানো ঠিক হবে না।
এদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে দেশটি থেকে ঘুরে এসেছে বিসিবির প্রতিনিধি দল। তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনো পায়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এছাড়া পাকিস্তান সফরের বিষয়ে বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারের সবুজ সংকেত পেতে হবে তাদের। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অবশ্য মনে করছেন, নারী দল এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দল নির্বিঘ্নে পাকিস্তান সফর করে আসায় জাতীয় দলকেও সবুজ সংকেত দেয়া হবে। খোলসা করে কিছু না বললেও তার কথায় পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে নমনীয়তায় পরিলক্ষিত হয়েছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, পাকিস্তান পাঠানো প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন আমরা এখনো পাইনি। আমাদের ছোট দল তো খেলে এসেছে। মেয়েদের দলও গেছে। ওদের নিরাপত্তা নিয়ে যেহেতু শঙ্কা ছিল না, তাই ধরে নেয়া যায় জাতীয় দলেরও ক্লিয়ারেন্স থাকবে।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রায় দশ বছর পাকিস্তান সফর থেকে দূরে থাকে ক্রিকেট দলগুলো। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান সফরে যায়। গত মাসেই সেখানে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলেছে লঙ্কানরা। ডিসেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। ফেব্রুয়ারিতে নাকি দক্ষিণ আফ্রিকাকে টি-২০ খেলার আমন্ত্রণ জানাবে পাকিস্তান।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop