Close (x)

মুক্তকথা ইইউ গঠনের ইতিহাস ও ব্রেক্সিটের এপিঠ-ওপিঠ

২৪-১১-২০১৯, ২২:১৭

মাকসুদ রহমান

fb tw
ইইউ গঠনের ইতিহাস ও ব্রেক্সিটের এপিঠ-ওপিঠ
ফ্রান্সের প্যারিসে ১৪ এপ্রিল ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত হয় ছয় দেশের সম্মেলন। ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, লুক্সোমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের এ সম্মেলনকে বলা হয় ইসিএসসি। 
ইউরোপিয়ান কয়লা ও স্টিল কমিউনিটিসের (সম্প্রদায়) উদ্দেশ্যটা ছিল খুবই সহজ। নিজেদের সীমিত সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করে উন্নয়ন করা। ফলটা পেলেন হাতে নাতে। দেশগুলির উন্নয়নের চাকা এগিয়ে যেতে লাগল দ্রুতগতিতে। আত্মবিশ্বাসী দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরও কাছাকাছি আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল।
১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ আবারও সম্মেলনের আয়োজন করে দেশগুলি। এবারের সম্মেলনের স্থান ইতালির রাজধানী রোম। সদস্য আগের সেই ৬ দেশ।  স্বাক্ষরিত হলো নতুন কিছু সম্প্রসারিত চুক্তি। সংস্থার নামকরণ হলো নতুন করে। নতুন নাম ইউরোপিয়ান কমিউনিটিস (ইসি)।
এই সম্মেলনে পূর্বের চুক্তির সঙ্গে নতুন দু’টি যৌথ বাজার ও  ঐক্যবদ্ধ কর্মসংস্থান সংযোগ করে ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ সাল থেকে কার্য়কর করা হয়। এ পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে বিকাশমান অর্থনীতি আরও বেশি গতিশীল হয়ে উঠেল।
কিন্তু জ্বালানি খরচ হচ্ছিল বেশি। তাই খরচ সংকুচিত করার জন্য সদস্যদেশগুলি ১৯৬৮ সালে গঠন করা হয় ইউরোপিয়ান পারমাণবিক জ্বালানি কমিউনিটিস (ইএইসি)। সঙ্গে সঙ্গে ইইসি’র আওতাকে সম্প্রসারণ করে মানুষ, পণ্য ও সেবার মতো খাতগুলোতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়।
ঐ সময় সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিকাশ ছিল বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসের স্বর্ণালী অধ্যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬৩ সালের ৩০ জুন ইতালি সফর করেন। তখন এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি ইতালি এসেছি ইতালি ও ইসি দেশগুলির অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ সঙ্গে জিডিপি বৃদ্ধির রহস্য জানতে ও দেখতে।
১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনে দেয় নতুন তিন দেশ; ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড ও ইউকে। ইউনিয়নভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনের অর্থনীতি দ্রুত পাল্টে যেতে লাগে। প্রথম দুই বছর এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল কেবলি গঠনমূলক। তারপর বৃদ্ধি পেল ৪৮ ভাগ হতে ৬৭ ভাগে।
শক্তিশালী এই ইউনিয়ন অর্থনীতিতে দেশগুলিকে  বিশ্ব অর্থনীতির মোড়লে পরিণত করেন। ১৯৮১ সালে ইউনিয়নের দশম সদস্য দেশ যুক্ত হয় গ্রীস। ১৯৮৫ সালে সেংগান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে একই ভিসার মাধ্যমে ২৭টি দেশে ভ্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ইংল্যাণ্ড এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি।
১৯৯২ সালে আত্মপ্রকাশ করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাস্তবিক অর্থে ইসিএসই, ইসি এবং ইইসি এই তিনটি চুক্তির সংমিশ্রণে গঠিত হয় একক চূড়ান্ত চুক্তি বা আজকের ইইউ বা ইঊরোপীয় ইউনিয়ন। এখানে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২৮টি রাষ্ট্র। সর্বশেষ ২৯৯৭ সালে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়াকে সদস্য করা হয়।
ব্রিটেন ইইউতে না থাকার পক্ষে ভোটের রায় দেয় ২০১৬ সালে। যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিরাট অস্বস্তিকর সংবাদ। ব্রিটেনকে কেন্দ্র করে অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবসার ছক একে ছিল। ব্রিটিশ সরকার এই সকল কোম্পানি ব্রিটেনে স্থানান্তর হতে সহায়তা করে। ব্রিটিশরা মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে অনন্য জাতি  এবং ভাষাগত কারণে বিশ্বের নানা দেশের বড় বড় কোম্পানি ইংল্যাণ্ডে তাদের ইউরোপীয় ব্যবসার হেড অফিস গড়ে তুলে। এখন  তাদের মাথা ব্যথার কারণ হলো, ইইউর মধ্যে অবাধ ব্যবসার ক্ষেত্র পরিবর্তন। 
ইংল্যাণ্ড যদি ব্রেক্সিট করে তাহলে কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে ইংল্যাণ্ড ছেড়ে ইইউর অন্য কোন সদস্য দেশে ব্যবসা স্থানান্তরিত করবে। যা ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি  করেছে এবং অন্যান্যরা প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন।
প্রায় ৫১৩ মিলিয় মানুষ ও প্রায় ১৯ টিলিয়ন মার্কিন ডলারের পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শক্তিশালী মুদ্রা ইউরো অধিকাংশ দেশে অভিন্ন মুদ্রা। মার্কিন মুদ্রা ডলার যদি মধ্য প্রাচ্যের তেলের লেনদেনের বিনিময় মাধ্যম না হতো, তাহলে এতদিনে বিশ্ব অর্থনীতির বাজারে ডলারের গুরুত্ব ইউরোর তুলনায় নীচে নেমে যেত। 
এমন বিকাশমান অর্থনৈতিক শক্তিশালী ইউনিয়নকে ব্রিটেন ছেড়ে যাবার কারল কী? কারণ অবশ্যই অজানা। যারা ছেড়ে যাবার পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদেরও ভালো করে ধারণা নেই, এই ব্রেক্সিট কেন এবং এর প্রয়োজনটা কী ছিল?                                   
শক্তিশালী ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠন করার পক্ষে একজন ব্রিটিশই প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পর ১৯৪৬ সালের এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন আমাদের প্রয়োজন ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপ গঠন করা।’
তিনি উইনসটন চার্চিল। ব্রিটেনের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চার্চিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে তার নেতৃত্বে ব্রিটিশরা হিটলার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেন। 
১৯৫৩ সালে সাহিত্যে নোবেল অর্জন করেন চার্চিল। ২০০২ সালে বিবিসি পরিচালিত জরিপে চার্চিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ  ইংরেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ইইউ এর স্বপ্নদ্রষ্টা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ইংরেজ? তাহলে প্রায় ১৯ টিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির বাজার ছেড়ে, ইংল্যাণ্ড কেন নিজেদের পৌনে ৩ টিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে আলাদা হতে যাচ্ছে? এইটা কী কোনো জাতিগত ভুল? নাকি কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সৃষ্ট সমস্যা? এর উত্তর জানতে বিশ্বকে  অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
লেখক: সংবাদিক, সময় টেলিভিশন।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop