খেলার সময় একগুঁয়ে ডেভিড হেয়ার, ডেয়ারডেভিল আম্পায়ার

৩০-০৯-২০১৯, ১৮:৪৩

মামুন শেখ

fb tw
একগুঁয়ে ডেভিড হেয়ার, ডেয়ারডেভিল আম্পায়ার
২০০৬ সালে পাকিস্তান দলের অস্ট্রেলিয়া সফর। ওভালে চতুর্থ টেস্টের চতুর্থ দিন। চা বিরতির আগে পাকিস্তান দলের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনেন ফিল্ড আম্পায়ার ড্যারেল ব্রুচ হেয়ার এবং বিলি ডকট্রোভ। পাকিস্তানের শাস্তিস্বরূপ ইংল্যান্ডকে পাঁচ রান প্রদান করা হয় এবং বল পরিবর্তন করা হয়। আম্পায়ারদের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক ইনজামাম উল হক। চা বিরতির পর তিনি দল নিয়ে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানান।
আম্পায়াররা মাঠে নেমে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর উইকেটের বেল ফেলে দেন এবং ইংল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ ঘটনার ২৫ মিনিট পর পাকিস্তান দল ফিল্ডিংয়ে নামলেও আম্পায়াররা জানিয়ে দেন, বেইল ফেলে দেয়ায় ম্যাচটি শেষ হয়ে গেছে। এরই মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ‘ম্যাচ বাজেয়াপ্ত’ হওয়ার ঘটনা দেখে ক্রিকেট বিশ্ব।
ওই ঘটনার সঙ্গে বিলি ডকট্রোভের নাম সেভাবে না আসলেই ড্যারেল হেয়ার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন। ক্রিকেট মাঠে হেয়ারের আপসহীন একগুঁয়ে আচরণের এমন উদাহরণ ওই ঘটনার আগেও ছিল।
১৯৯৫ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরনকে অবৈধ অ্যাকশনের জন্য তিন ওভারের মধ্যে সাত বার নো-বল ডাকেন ড্যারেল হেয়ার। তার আগের ২২ টেস্টের মধ্যে  মুরালিধরনের জন্য এমন ঘটনা এটিই প্রথম ছিলো। যদিও পরে আইসিসি জানিয়েছিল, আম্পায়াররা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মুরালির বোলিংয়ের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ ছিলো। টেস্টে তার মতো স্পিনারদের ক্ষেত্রে ৫ ডিগ্রির বেশি কনুই বাঁকানোর বিষয়টি ধরা পড়ে। কিন্তু তার কনুইয়ের গড়নের কারণে অপ্রত্যাশিত ভঙ্গিমার কারণেই এমনটি হয়েছিলো মুরালির ক্ষেত্রে। পরবর্তী সময়ে বারবার পর্যালোচনা করে আইসিসি কর্তৃপক্ষ কনুই বাঁকানোর ক্ষেত্রে সকল বোলারের জন্য ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।
মুরালিকে সাত বার নো ডাকার কারণে যতটা নয়, হেয়ার তারচেয়ে বেশি বিতর্কিত হন তার মন্তব্যের কারণে। ১৯৯৯ সালে মুরালির বোলিং অ্যাকশনকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেন হেয়ার। আর এ কারণেই আইসিসি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই ঘটনার জেরে ড্যারেল হেয়ার হত্যার হুমকি পর্যন্ত পান। ফলে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার খেলাগুলো পরিচালনা থেকে হেয়ারকে দূরে রাখে আইসিসি।
২০০২ সালে আইসিসির ঘোষিত আম্পায়ারদের প্রথম এলিট প্যানেলে ‘সবচেয়ে’ বড় নাম ছিলো ড্যারেল হেয়ার। কিন্তু ২০০৬ সালে ওভালে ম্যাচ বাজেয়াপ্তের পরও একইরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় হেয়ারের। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ওই বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হেয়ারকে আম্পায়ারের দায়িত্ব না দেয়ার ঘোষণা দেয় আইসিসি। ওই বছরই ৪ নভেম্বর আইসিসি’র দুইদিনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আন্তর্জাতিক খেলা পরিচালনা থেকে তাকে বিরত রাখার।
অথচ পরে ফাঁস হওয়া আইসিসির একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওভাল ঘটনার আগে সকল আম্পায়ারের মধ্যে দ্বিতীয় (এক নম্বরে ছিলেন সাইমন টোফেল) ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায় তিনি এক নম্বর অবস্থানে ছিলেন।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৭ সালে আইসিসি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ আনেন। তার দাবি ছিলো, ওই ম্যাচের আরেক আম্পায়ার বিলি ডকট্রোভের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হলেও তাকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে। অক্টোবরে তিনি বর্ণবৈষম্যবিষয়ক মামলা দাখিল করেন। এরপর আইসিসি জানায়, পরবর্তী ছয়মাসে উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন হেয়ার। এরফলে শীর্ষ পর্যায়ের খেলায় ফিরে আসতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও, এ ছয় মাসে দ্বিতীয় সারির আইসিসি সহযোগী দেশের খেলাগুলোয় অংশ নিতে পারবেন।
পরের বছর ১২ মার্চ আইসিসি হেয়ারকে এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু কোচিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে সে বছর আগস্টে ১৭ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আইসিসির কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি।
আম্পায়ারিং ছাড়লেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি ড্যারেল হেয়ারের। ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর অর্থ আত্মসাৎ ও চুরির অপরাধে হেয়ারের বিরুদ্ধে অরেঞ্জ লোকাল কোর্টে অভিযোগ আনা হয়। বলা হয় তিনি জুয়ায় আসক্তির কারণে ৯০০৫.৭৫ অস্ট্রেলীয় ডলার চুরি করেছেন। আগের অপরাধে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি চুরিকৃত অর্থের কারণে ১৮ মাসের সাজা দেয়া হয় তাকে।
ক্রিকেটার হিসেবে সফল ছিলেন না ডানহাতি এ মিডিয়াম পেসার। ১৯৯১ সালে অ্যাডিলেডে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং শুরুর পর ৪৪টি টেস্ট, ৭৫ ওয়ানডে এবং ৬টি টি-২০ পরিচালনা করেছেন। শুধু মুরালিধরনই নন, জিম্বাবুইয়ান কিংবদন্তী গ্রান্ট ফ্লাওয়ারকেও বোলিং অ্যাকশনের জন্য আটকেছিলেন। ৯০’র দশকে ব্রায়ান লারার ৩৭৫, মাইক অ্যাথার্টনের ১৮৫, কোর্টনি ওয়ালশের ৫শ’তম টেস্ট উইকেটের মতো দারুণ সব মুহূর্তে প্রত্যক্ষ সাক্ষী হেয়ার। কিন্তু তার নামের পাশে এ বিষয়গুলোকে কখনোই ভিড়তে দেয়নি তাকে ঘিরে থাকা বিতর্কগুলো।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের মডগি এলাকায় ১৯৫২ সালের আজকের দিনে (৩০ সেপ্টেম্বর) জন্মগ্রহণ করেন ড্যারেল হেয়ার। শুভ জন্মদিন 'ডেয়ারিং' ড্যারেল।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop