বাংলার সময় সাঈদীকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে তাণ্ডব বিচার শেষ হয়নি একটি মামলারও

০৩-০৩-২০১৯, ১০:০৮

মাজেদুর রহমান

fb tw
বগুড়া জেলাবাসীর জন্য এক ভয়ংকর আতঙ্কের দিন তেসরা মার্চ। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর, ভোরে বিভিন্ন মসজিদের মাইকে তাকে চাঁদে দেখা গেছে বলে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়। এরপর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জেলায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। তাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষ, দোকান-পাট, অফিস-আদালত, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি কোন কিছুই রক্ষা পায়নি। 
এ ঘটনায় সবগুলো মামলার চার্জশিট দেয়া হলেও আজো একটিরও বিচার কাজ শেষ হয়নি। সরকারি কৌঁসুলি জানান, বিচারক স্বল্পতা বিচার কাজকে কিছুটা বিলম্বিত করছে। 
পাঁচ বছর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর ৩ মার্চ ভোরে বগুড়ার বিভিন্ন মসজিদে মাইকে সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়। এরপর তাকে রক্ষার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা জেলার ১২টি উপজেলায় একযোগে চালায় তাণ্ডব। রাস্তায় গাছ ফেলে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে। নন্দীগ্রাম, ধূনট,বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, শাহাজানপুর, শেরপুর কাহালু উপজেলা পরিষদ ও থানায় হামলার পাশাপাশি ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি, অফিস আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় তারা। সে দিনের ভয়াবহতার কথা মনে হলেই এখনো অনেকে আঁতকে ওঠেন।
দূঁপচাচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান খান সেলিম বলেন, কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি, আমার স্ত্রী, ছয়মাসের নাতি, আমার পুত্রবধু ও কাজের মেয়েটাকে দরজায় তালা দিয়ে যে অগ্নি সংযোগ করে তা মনে পড়লে আজো আমার গা শিউরে ওঠে।
শিবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর ও মোকামতলার সাবেক ফাঁড়ি ইনচার্জ সানোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছিলো, বাঁচার তো কোনো উপায় নাই, এজন্য আমরা একটা একটা ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করে একটু একটু করে এগোতে থাকি। সকাল এগারোটা পর্যন্ত আমরা শুধু নিজেদের বাঁচাতেই ব্যস্ত ছিলাম। আমার কাছে মাত্র বারো জন ফোর্স ছিলো।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী মোঃ রেজাউল করিম জিন্নাহ বলেন, আমি আশা করবো সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়ে যারা ত্রাস করেছে, অন্যায় করেছে, লুটপাট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। 
উত্তরবঙ্গের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ করে কারাবন্দী মাওলানা সাঈদীকে মুক্ত করার যড়যন্ত্র ছিল দিনটিতে। সে মিশন ব্যর্থ করে দেয় পুলিশ।
র‌্যাব-১৩-র পরিচালক এবং বগুড়ার সাবেক পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, সেদিন তাদের এই নারকীয় তাণ্ডব বগুড়া জেলা পুলিশ অত্যন্ত সফলভাবে সোকাবেলা করেছিলো। আমরা বিভিন্ন জায়গায় তাদের মোকাবেলা করে বগুড়া শহর থেকে বের করে দিই। এবং পরবর্তী সময়ে অর্ধশতাধিক মামলা রজু হয়।
মামলাগুলোর চার্জশিট হয়েছে। এখন স্বাক্ষীর পর্যায়ে উঠেছে। মামলা জট এবং বিচারক স্বল্পতার কারণে বিচার কাজে কিছুটা বিলম্বতি হচ্ছে বলে জানান সরকারি কৌঁশুলি মোঃ আব্দুল মতিন। 
সাইদীকে চাঁদে দেখা সংক্রান্ত নাশকতায় মামলা হয়েছিল ৫৬টি। এর মধ্যে ৫২টি মামলায় ৩ হাজার ২'শ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে ২০১৬ সালে।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop