বাংলার সময় 'ভণ্ড পীর'র মুরিদ স্বামীর সহায়তায় গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ

০৯-১০-২০১৮, ২২:১১

এস এ আসাদ

fb tw
'ভণ্ড পীর'র মুরিদ স্বামীর সহায়তায় গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ
পাবনার চাটমহরে নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক 'ভণ্ড পরী'র মুরিদের বিরুদ্ধে। কথিত তাপস 'পীর'র মুরিদদের মধ্যে পরস্পরের স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগও মিলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত ওই ভণ্ড পীরের মুরিদরা তার বাড়িতে রাতের বেলায় মাহফিল করার নামে একে অপরের স্ত্রীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। আর এসময় উপস্থিত থাকতেন ওই ভণ্ড পীর। এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগী এক নারীর।
সম্প্রতি চাটমোহর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী।
ভুক্তোভোগী জানান, ১৮ বছর আগে উপজেলার নাটাবাড়িয়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে ওয়াহেদ আলীর (৩৫) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ১০ এবং ১২  বছর বয়সের দু'টি সন্তান রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামী ছাইকোলা বেড়াপাড়া এলাকার তাপস পীরের মুরিদ হয়। পীরের মুরিদ হওয়ার পর থেকে অন্য সব মুরিদের স্ত্রীদের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। গত সপ্তাহে রাতের বেলায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রামের আরেক মুরিদের বাড়িতে তাকে নিয়ে যায় তার স্বামী। ঘরের ভেতরে বোরহান আলী নামে আরেক মুরিদকে ঢুকিয়ে দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলেন। কিন্তু এতে ওই গৃহবধূ রাজি না হওয়ার তার সঙ্গে জবরদস্তির চেষ্টা করলে তিনি নিজেকে রক্ষা করে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।
অন্য পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে মারধর করেন তার স্বামী এবং কাউকে কিছু না জানানোর হুমকি দেন।
ঘটনার দু'দিন অতিবাহিত হলেও এলাকায় কোন বিচার না পেয়ে  ওই গৃহবধূ তার স্বামীসহ অভিযুক্ত ভণ্ড পীরের চার মুরিদকে অভিযুক্ত করে চাটমোহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগী ওই গৃহবধুর।
ওই নারী বলেন, 'থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ওই পীরের মুরিদসহ পুলিশ এসে উল্টো আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।'
তিনি বলেন, 'আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি, এই ভণ্ড পীর ও তার মুরীদদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।'
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন এলাকাবসী বলেন, ভণ্ডপীর তাপস প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্মকে ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছিল না।
তাদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনও প্রথমে এগিয়ে আসে পরে অজ্ঞাত কারনে নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই পীরের দরবারে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যাতায়াত রয়েছে। এলাকাবাসী ওই ভণ্ড পীর ও মুরিদদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিরও দাবি জানান।  
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ছাইকোলা ইউনিয়নের বেড়াপাড়া এলাকার মৃত আসান পীরের নাতী তাপস পীর। হাসানুর রেজা তাপস চাটমোহরের ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ্য সাইখুল ইসলাম বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। তবে প্রভাষক তাপসের বাড়িতে প্রতি বছর দুইবার বার্ষিক ওরস মাহফিল হয়। এছাড়া প্রতিদিন ওই বাড়িতে ভক্ত নারী পুরুষের যাতায়াত আছে বলে লোকমুখে শুনেছি।
 
কথিত পীর হাসানুর রেজা তাপস এই প্রতিনিধিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নারী নির্যাতনের ওই ঘটনা শোনার পরেই আমি ওই দম্পতিকে আমার মুরিদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। তাদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেন আর কোনদিন আমার মুরিদ বলে পরিচয় না দেয়। আমার দরবারে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টিও সঠিক নয়।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করেছি। ওই নারীর অভিযোগগুলো সত্য নয়, বানোয়াট। তার স্বামী এই ধরণের কোন কাজ করেননি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop