বাংলার সময় ‘জোর করে ব্যাগে টাকা ঢুকিয়ে আমাকে আটক করা হয়’

২৩-০৯-২০১৮, ১৬:৩৪

এস এ আসাদ

fb tw
‘জোর করে ব্যাগে টাকা ঢুকিয়ে আমাকে আটক করা হয়’
পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তার ‍উপস্থিতিতে আটঘড়িয়া সাবরেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানের ব্যাগে টাকা ঢুকিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইশরাত জামানের দাবি, দুদকের সহকারী পরিচালক গোলাম মাওলার উপস্থিতিতে তার ব্যাগে জোরপূর্বক টাকা ঢোকায় দলিল লেখক গোলাম মোস্তফা।  
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক গোলাম মাওলা। তার দাবি, প্রচলিত বিধি মেনেই কাজ করছে দুদক, তদন্তে সত্যতা মেলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এটি সাজানো কোনো নাটক নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই বিকেলে পাবনার আটঘড়িয়া সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ইশরাত জাহানকে আটক করে দুদক। পরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দুদক দাবি করে, ইশরাত জাহান বেশকিছু দলিল নিবন্ধনের জন্য দলিল লেখক গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। যা তার ব্যাগে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই রাতে আটঘরিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার দেখানো হয় ইশরাত জাহানকে। পরদিন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি। সম্প্রতি এ ঘটনায় ইশরাত জাহানকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।
পাবনার আটঘড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান বলেন, ‘গত ১০ জুলাই বিকেলে আটঘরিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক গোলাম মোস্তফা আমার খাস কামরায় আসেন। তিনি বেশ কিছু টাকা বের করে আমাকে বলেন, ‘ম্যাডাম এটা রাখেন। আমি নিতে না চাইলে জোরপূর্বক আমার ব্যাগে টাকা রাখার চেষ্টা করে। আমার চিৎকারে অফিস সহকারী তৌফিক ছুটে আসে। এ সময় দুদকের সহকারী পরিচালক গোলাম মাওলা আমার কক্ষে প্রবেশ করে তৌফিককে বের করে দেন। পরে তারা আমার ব্যাগ নিয়ে তাতে টাকা ঢুকিয়ে আমাকে আটক করে নিয়ে যান।’
প্রত্যক্ষদর্শী অফিস সহকারী হাসান তৌফিক বলেন, ‘চিৎকার শুনে আমি স্যারের খাস কামরায় গিয়ে দেখি, মোস্তফা স্যার ব্যাগ ধরে টানাটানি করছে। এ সময় হঠাৎ দুদকের একজন লোক আসেন এবং আমাকে বের করে দেন। পরে আরো লোকজন এসে ম্যাডামকে আটক করে নিয়ে যায়।’
দলিল লেখকদের দাবি, ‘ঘটনার পর কার্যালয়ে ডেকে ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক লিখিত অভিযোগ নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে বাধ্য করে দুদক। এর প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বরাবর লিখিতপত্রও দিয়েছেন তারা।’ এ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলছেন স্থানীয়রাও।
আটঘরিয়া দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে আমি দলিল লেখার কাজের সাথে জড়িত থাকলেও এমন ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। দলিল লেখক গোলাম মোস্তফা সাবরেজিস্ট্রার স্যারকে (ইশরাত জাহান) দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতে ব্যর্থ হয়ে দুদক কর্মকর্তাদের দিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে।’
দলিল লেখক সারওয়াউল আলম মুকুল বলেন, ‘এটি একটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমাদের দুদক কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্যারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’ এমন মন্তব্য করেছেন আরো অন্তত ১০ জন দলিল লেখক।
বিষয়টি নিয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার লিখিতভাবে অবহিত করেছেন আইন মন্ত্রণালয়কেও। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুদক বেনামে অভিযোগ দিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রারদের হয়রানির করছেন বলে অভিযোগ একাধিক সাব রেজিস্ট্রারের।
পাবনা সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘আটঘরিয়া সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহানকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদ করায় আমাদেরকেও প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন দুদকের উপ পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। গত ১৮ জুলাই এক বেনামি অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে আমার সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো প্রকার অসংগতি না পেয়ে আমার এবং আমার প্রবাসী কন্যার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আবেদন করেছেন দুদক।’
এদিকে, পাবনার প্রায় সাড়ে চারশত কোটি টাকার গাজনার বিল প্রকল্প, চাটমোহর-মান্নানগর সড়ক প্রকল্পসহ একাধিক বড় বড় প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার দুনীতির অনুসন্ধান, উৎকোচের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।
এ বিষয়ে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির আহবায়ক জাকির হোসেন বলেন, ‘রাঘব বোয়ালদের কাছ থেকে উৎকোচের বিনিময়ে তাদের ফাইল ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে বলে বর্তমান দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে। বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নাই। এক্ষেত্রে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করাই তাদের রুটিনে পরিণত হয়েছে।’
তবে তাদের কথা মতো সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা না চললেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ফ্লাট প্লটসহ জমিজমা কেনার কথাও শুনেছি। এদের সম্পদের হিসাব নেওয়ারও দাবি করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জাকির হোসেন।
দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক গোলাম মওলা বলেন, ‘প্রচলিত বিধি মেনেই কাজ করছে দুদক। তদন্তে সত্যতা মেলায় তার (সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান) বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এটি সাজানো কোনো নাটক নয়। মামলা চলমান।’  
আপনার উপস্থিতিতে ব্যাগে টাকা ঢোকানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। 
 
অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘দুদক অত্যন্ত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমরা কখনো কোনো অভিযান পরিচালনা করি না। ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত দলিল লেখক গোলাম মোস্তফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ ›

লাইভ অনুষ্ঠান বুলেটিন ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ
অনুসদ্ধান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop