বাংলার সময় কেন নৃশংসভাবে হত্যা করা হল সংবাদকর্মী নদীকে?

২৯-০৮-২০১৮, ১৪:২৬

এস এ আসাদ

fb tw
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগের তীর ইদ্রাল ইউনানি ফার্মাসিটিউক্যালের মালিক ও তার ছেলের দিকে। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দেড় বছর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলের সঙ্গে নদীর ডিভোর্স হয়। এ ডিভোর্সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলা চলছে। 
নিহত সূবর্ণা আকতার নদীর বোন চম্পা খাতুন বলেন, ‘আমার বোন মৃত্যুর আগে আমাদের বলে গেছেন, তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ জুন থানায় একটি মামলা করেছিল। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ঘটনার দিন আদালতে শুনানি শেষে সাবেক স্বামী রাজীবের লোকজন নিশ্চিত ছিলেন যে তারা মামলায় হেরে যাবেন। আর এই কারণেই সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার বড় বোন। 
তিনি আরো বলেন, ‘ইদ্রাল ইউনানি ফার্মাসিটিউক্যাল ও শিমলা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের মালিক আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়। বছর দেড়েক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর সুবর্ণা নদী পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন।
নদীর বোন আরো বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার দিন ছিল। এতে সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন। মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে। ইতিপূর্বেও সূবর্ণা নদীকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন তারা। গত বছরের জুন মাসে শহরের আব্দুল হামিদ রোডে প্রকাশ্যে তাকে গলায় চাকু চালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সুবর্ণা নদী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ মিলনায়তনে গত ২২ জুলাই একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ওই বছরেই ৩ অক্টোবর একই দাবিতে ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এতেই প্রমাণিত হয় যে তাকে হত্যার উদ্দেশে কারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছিল।’  
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাবনার ইদ্রাল ইউনানি কোম্পানি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করলেও তা সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবুল হোসেন সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর।
আবুল হোসেনের মালিকানাধীন শিমলা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতেই আমাদের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ, তবে পুলিশ এখনো তা স্বীকার করছেন না। 
পাবনা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশের কয়েকটি ইউনিট কাজ করার ফলে ইতিমধ্যেই আমরা পরিষ্কার হয়েছি। খুব  শিগগিরই তা আপনাদের সামনে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হবে।  তবে, অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা গোপন রাখা হচ্ছে।’  
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পাবনা পৌর সদরের রাঁধানগর মহল্লায় আলিয়া মাদরাসার পশ্চিম পার্শের একটি গলির ভেতরে নদীর ভাড়া বাসার সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় তার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ পূর্বক একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটি নথিভুক্ত হলেই আমরা সব বিষয়ে পরিষ্কার করতে পারবো বলে তিনি জানান। 
সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধির পাশাপাশি অনলাইন পাবনা থেকে অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার ৯ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে। এদিকে, লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। 

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop