ফুটবল বিশ্বকাপ '৩২ দল খেলে, জেতে শুধু জার্মানি'

৩০-০৫-২০১৮, ১৫:১৩

মামুন শেখ

fb tw
'৩২ দল খেলে, জেতে শুধু জার্মানি'
শিরোপার সংখ্যা ব্রাজিলকেই এগিয়ে রাখবে। ল্যাটিন আমেরিকার এ দলটি রেকর্ড পাঁচ বার বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে। ট্রফি জয়ের দিক থেকে তাদের পরেই আছে ইতালি এবং জার্মানি। ইউরোপ জায়ান্টরা চার বার করে হয়েছে বিশ্বসেরা। তবে একটা জায়গায় জার্মানদের এগিয়ে রাখতেই হবে। আর সেটা হলো- বিশ্বকাপে সফলতার ধারাবাহিকতা।
এ পর্যন্ত মোট ২০ বার বিশ্বকাপের আসর বসেছে। যার মধ্যে ১৮টিতে অংশ নিয়ে ১৩ বারই সেমিফাইনাল খেলেছে জার্মানরা। এরমধ্যে ৮ বার পা রেখেছে ফাইনালে। চার বার করে চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছে একবার।
অন্যান্য সময় যেমনই হোক বিশ্বকাপ আসলে বিধ্বংসী রূপে হারিজ হয় জার্মানি। গল্পটা যেনো নিজেদের হাতে লিখেই বিশ্বসেরাদের মঞ্চে পারা রাখে তারা। তাইতো ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিনেকার ফুটবলের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন এভাবে, 'ফুটবল হলো একটি সাধারণ খেলা, যেখানে ২২ জন খেলোয়াড় ৯০ মিনিট একটি বলের পিছে ছোটাছুটি করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিবারই জার্মানি জিতে।'
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও (তখনও বাছাই পর্বের প্রথা চালু হয়নি) খেলতে যায়নি তারা। করণ হিসেবে দেখিয়েছিলো, সমুদ্রপথে দীর্ঘ সফরের কষ্টকে। তবে কেবল সফরের ধকলের কথা বিবেচনায় নিয়ে জার্মানরা সেবার উরুগুয়েতে যায়নি, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। হয়তো আরও বড় কারণ ছিলো এর পেছনো।
তবে ১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরটি জার্মানদের প্রথম। প্রথমবার অংশ নিয়েই সেমিফাইনালে পা রাখে জার্মানি। সেবার সেমিফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়। যদিও পরের আসরে অর্থাৎ ১৯৩৮ সালে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় তারা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জার্মানদের জন্য অভিশাপ হয়ে আসে চারদিক থেকেই। এই যুদ্ধ অন্যান্যদের কাছ থেকে বিশ্বকাপের দু'টি আসর কেড়ে নিলেও জার্মানদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় তিনটি। যুদ্ধশেষে ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফিরলেও যুদ্ধে পরাজিত জার্মানি সে আসরে নিষিদ্ধ ছিলো। শুধু তাই নয়, দখলদারিত্বের কবলে পড়ে দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় পরের বিশ্বকাপে জার্মানির একাংশ অর্থাৎ পশ্চিম জার্মানি অংশ নেয়। তবে ফুটবল মাঠে জয় হয় জার্মানদের।
সুইজারল্যান্ড থেকে সেবার নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে ঘরে ফেরে পশ্চিম জার্মানি। ফাইনালে ফেরেঙ্ক পুসকাসের শক্তিশালী হাঙ্গেরিকে হারায় ৩-২ গোলে।
প্রথম বিশ্বকাপ জেতার ৪ বছর পর ১৯৫৮ সালে আবার সেমিফাইনালে উঠে পশ্চিম জার্মানি। সেমিফাইনালে সুইডেনের কাছে হারে ৩-১ গোলে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৬-৩ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
পরের আসরে অর্থাৎ ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ২-২ গোলে সমতায় থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে খেই হারিয়ে ফেলে জার্মানি। ৪-২ গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড।
১৯৭০ বিশ্বকাপে আগের আসরে প্রতিশোধ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারালেও সেমিফাইনালে ইতালির বিপক্ষে হেরে যায় ৪-৩ গোলে। উরুগুয়েকে হারিয়ে হয় তৃতীয়।
পশ্চিম জার্মানির ২০ বছরের শিরোপা খরা কাটে ১৯৭৪ সালে। দেশের মাটিতে ইয়োহান ক্রুইফের 'টোটাল ফুটবল'কে পদানত করে জার্মানরা। নেদারল্যান্ড হরে ২-১ গোলে। পরের আসরে আবারও ফাইনালে উঠে পশ্চিম জার্মানি। স্পেনে ১৯৮২ সালে ইতালির কাছে ৩-১ গোলে হেরে হাতছাড়া হয় শিরোপা।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপটা ছিলো ম্যারাডোনাময়। ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে দেশে ফেরে দলটি। চারবছর পর ১৯৯০ সালে ফের যেনো মেক্সিকো বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। ফাইনালে সেই আর্জেন্টিনা এবং পশ্চিম জার্মানি। তবে এবার আর পারলো না ম্যারাডোনার দল। বিশ্বকাপ উঁচিয়েই ইতালি থেকে ঘরে ফিরলো জার্মানরা।
প্রায় ৫৬ বছর পর আবারও একত্রিত জার্মানি অংশ নেয় ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা।ফ্রান্সে পরের আসরেও একই ফলা। কোয়ার্টার ফাইনালে সেবার ক্রোয়েশিয়ার কাছে হাবে ৩-০ গোলে। ২০০২ সালে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানরা। তবে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোদের পরাক্রমশালী ব্রাজিলের কাছে ফাইনালে হেরে যায় ২-০ গোলে। ২০০৬ সালে ঘরে মাটিতে সেমিফাইনালে হেরে যায় ইতালির কাছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও সেমিফাইনালে উঠে জার্মানি। তবে স্প্যানিশদের টিটিকাকার কাছে হার মানে ১-০ গোলে। উরুগুয়েকে হারিয়ে এবারও হয় তৃতীয়।
টানা তিন বিশ্বকাপের আক্ষেপ পূরণ করে ব্রাজিলে। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনাকে আগেই বার্তা দিয়ে রেখেছিলো। ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয় জার্মানির। মেসিবাহিনীকে কাঁদিয়ে উল্লাসে মাতে জার্মানরা।
তাই আপাত দৃষ্টিতে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের সফলতম দল হিসেবে ব্রাজিলকে মনে হলেও জার্মানদের পাল্লাটাও হালকা নয়। বরং অনেক দিক থেকে একটু ভারীই। এপর্যন্ত সবগুলো বিশ্বকাপেই খেলেছে ব্রাজিল। যার মধ্যে ফাইনালে উঠে মোট ৭ বার। অপরদিকে জার্মানি তাদের ১৮ বিশ্বকাপের মধ্যে ৮টিতেই ফাইনালে পা রেখেছে। প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে মাত্র একবার।
এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে মোট ১০৬টি ম্যাচ খেলেছে জার্মানি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। জিতেছে ৬৬টি ম্যাচ। ২০টি ম্যাচ হেরেছে এবং সমানসংখ্যক ম্যাচ ড্র করেছে। প্রতিপক্ষের জালে ২২৪টি গোল করা বিনিময়ে হজম করেছে মাত্র ১২১টি।

করোনা ভাইরাস লাইভ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop