মুক্তকথা আমারে দেবো না ভুলিতে

১৭-০৩-২০১৮, ১২:০৭

মামুন শেখ

fb tw
আমারে দেবো না ভুলিতে
'কঠিন কাজের কাজী।' ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে এককথায় বর্ণনা করতে এরচেয়ে ভালো বাক্য এমুহূর্তে খুঁজে পেলাম না। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার যা করলেন সেটা যে কতটা কঠিন ছিলো, যারা খেলাটি দেখেছেন তাদের কাছে আর নতুন করে বলার কিছু নেই।
 
এমন কাজ মাহমুদুল্লাহর এটাই প্রথম নয়, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাঁর ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ উঠেছিলো কোয়ার্টার ফাইনালে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তোলার স্মৃতি তো আজও জ্বলজ্বল করছে। মাহমুদুল্লাহর এমন বীরোচিত ইনিংস তালিকা বেশ দীর্ঘ।
তবে এমন একের পর এক 'সিনেমা'য় নায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হলেও তিনি ঠিক সালমান শাহ কিংবা রাজরাজ্জাক হয়ে উঠেন না। যেনো পুরোপুরি তারকা বলা যায় না তাকে।
অন্তর্মুখী এই মানুষটিকে ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠে খুঁজে পাওয়াই দুস্কর। মাঠের ঘাস, সীমানার দড়ি কিংবা মুশফিকের পেছনে রেখে দেয়া হেলমেটের মতোই অনেকটা তার অবস্থান, যেগুলোর দিকে কেউ বিশেষ দৃষ্টি দেয় না। সাব্বির, সোম্যদের মতো জার্সির কলার উঁচু করে ফিল্ডিং করেন না, সীমানার কাছে দাঁড়িয়ে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে দুষ্টুমিও করেন না। তবে কি ফিল্ডিংয়ে নিষ্ক্রিয় থাকেন মাহমুদুল্লাহ? মোটেও না। সহজ ক্যাচ মিস করে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন না তাকে, বলের পিছে ছুটতে ছুটতে হঠাৎ গতি কমিয়ে দিতে দেখবে না। বরং মিডঅনে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিতে কিংবা নিশ্চিত চার বাঁচাতে দেখবেন অহরহ। তবে তখনও অভিব্যক্তিটা বিশেষ কিছু দেখবেন না। সতীর্থ কেউ হয়তো এগিয়ে এসে পিঠ চাপড়ে সাবাসি দিয়ে যাবে অথবা মাশরাফি-সাকিব এসে হাত মিলিয়ে যাবে। মাহমুদুল্লাহ ফের দাঁড়িয়ে যাবেন নিজের পজিশনে নিজস্ব ভঙ্গিতে, কলার উঁচু করে কিংবা হাতা ঘুচিয়ে নয়।
তামিম, মুশফিক, সৌম্যদের মতো দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন না মাহমুদুল্লাহ। তাঁর শটগুলো দর্শককে বিনোদিত করে কমই, তবে ম্যাচের কঠিন মুহূর্তগুলোতে লং অনের ওপর দিয়ে হাঁকানো তাঁর ছক্কাগুলো দলকে সাহায্য করে নিশ্চিত পরাজয় এড়াতে।
সাকিবরে মতো দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষমতা কিংবা মাশরাফির মতো বলিষ্ঠটা তার চালচলনে নেই। অভিমান নিয়ে মাশরাফির অবসরে বোর্ড কর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন সমর্থকরা। সাকিব দলের বাইরে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়ে যায় হাহুতাশ। মাহমুদুল্লাহ বাদ পড়লেও প্রতিক্রিয়া দেখান সমর্থকরা। তবে এটা যতটা না তাঁর প্রতি অনুরাগ বা আবেদন থেকে তার চেয়ে বেশি দলের প্রয়োজনে। কারণ, সত্যিকার অর্থে মাহমুদুল্লাহর বিকল্প কি বাংলাদেশ দলে আছে?
সাকিবের সঙ্গে তুলনা নিরর্থক। সে বিশ্বসেরা, পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার। মাহমুদুল্লাহও অপূর্ণাঙ্গ নন। ম্যাচের যে কোনো মুহূর্তে যে কোন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে কার্যকর বোলিংয়ের সামর্থ্য আছে তাঁর।
নীরবে এমনসব বিধ্বংসী ইনিংস খেলার কারণে অনেকেই তাকে 'সাইলেন্ট কিলার' বলেন। এই সাইলেন্সই তাকে হয়তো তারকাখ্যাতি এনে দেয় না। তবে এই শান্ত স্বভাব দেশকে এনে দেয় অমূল্য জয়। সেটার প্রমাণ তো প্রেমাদাসায় দিয়েই দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। ম্যাচের সংকটময় মুহূর্তে উত্তেজিত হয়ে খেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলেছিলেন অধিনায়ক সাকিব। সেটা তিনি করেননি, আরও একবার দিয়েছেন ধৈর্যের পরিচয়। শেষ  চার বলে যেখানে ১২ রান দরকার সেখানে এক বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে আনেন এই সাইলেন্ট কিলার।
স্বল্পভাষী মাহমুদুল্লাহ'র হয়ে কথা বলে তার ব্যাট। তার অবিস্মরণীয় ইনিংসগুলো বলে দেয়, আমি তারকা নই তারপরেও মনে রাখতে হবে আমার কীর্তি। মনে রাখতে হবে আমাকে।
লেখক: নিউজরুম এডিটর, সময় টেলিভিশন

করোনা ভাইরাস লাইভ

আরও সংবাদ

stay home stay safe
বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
বিপিএল ২০২০

করোনা ভাইরাস লাইভ

আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি আর্কাইভ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop